দেশের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের দুই শীর্ষ নেতা এবার ঈদ করছেন বিদেশে। ফলে দল দুটির পক্ষ থেকে ঈদুল আজহায় তেমন কোনো কর্মসূচিও নেই। দুই নেত্রী দেশের বাইরে থাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতি বছর ঈদের দিন যেসব কর্মসূচি নেওয়া হতো এবার তা আর হচ্ছে না।
আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ৭০ তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আছেন যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে। চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনের গেছেন চলতি মাসের ১৫ তারিখে।
এছাড়া স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগ-বিএনপির এক ডজনেরও বেশি নেতা ঈদের সময় দেশের বাইরে।
প্রধানমন্ত্রী ঈদ উপলক্ষে নিউইয়র্কে বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
খালেদা জিয়া বড় ছেলে তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্য এবং ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে ঈদ করেছেন। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাদের সঙ্গে একটি হোটেলে তিনি ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
প্রতিবছর ঈদের প্রধানমন্ত্রী গণভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শুক্রবার সকালে মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ফল ও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী প্রেস সচিব আসিফ কবির।
শুধু আওয়ামী লীগের দলীয় সভানেত্রী দেশের বাইরে তাই নয় দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করতে লন্ডনে অবস্থান করছেন। দলের প্রধান দুই ব্যক্তি না থাকায় দলীয় কর্মসূচিও নেই।
বিএনপির চেয়ারপারসনের পক্ষ থেকে দেশে কোনো কর্মসূচি নেই। দলটির দ্বিতীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তি তারেক রহমান। তৃতীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকায় নেই। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে নিজের বাড়িতে ঈদ করছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে দলটি ঈদ উদ্যাপনে কোনো কর্মসূচি রাখেনি।
শুক্রবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানের বাসায় ঈদ উপলক্ষে কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য, ফিরবেন ঈদের পরে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও লন্ডনে গেছেন পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে।
এছাড়া বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা, ওসমান ফারুক, আবদুস সালাম, এহছানুল হক মিলন, আবদুল আউয়াল মিন্টু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। তারাও লন্ডনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে যোগ দেবেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক হজে গেছেন। তাদের ঈদ হবে সৌদি আরবে।


