বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির আহ্বানে সাড়া মিলল না

DNCC-Qurbaniএ বছর প্রথমবারের মতো ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে কোরবানীর জন্য ৫৯৫টি স্থান নির্ধারণ করে দেয়। রাজধানীর যত্রতত্র কোরবানীর বর্জ্য ফেলা থেকে নগরবাসীকে বিরত রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও তেমন সাড়া পায়নি সিটি কর্পোরেশন।

প্রতিবারের মতো এবারও নগরীর মানুষরা নিজের বাসার সামনের বাড়তি অংশে কিংবা রাস্তার মধ্যেই কোরবানী করছেন।

সকালে ঈদুল আজহার নামাজ স্থানীয় মসজিদে আদায় করেই সবাই যার যার মতো করে বাসার সামনের রাস্তায় পশু কোরবানী করেন। এরপর রাস্তাতেই পশু বিশেষ করে গরুর চামড়া ছাড়ানো, গোশত-হাড় কাটা এমনকি নাড়ি-ভুড়ি পর্যন্ত রাস্তাতেই পরিষ্কার করতে থাকেন।

শুক্রবার সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, ধানমন্ডি, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, সেগুনবাগিচা, তোপখানা রোড এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

নগরবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের বেশিরভাগই এই নির্ধারিত স্থান সম্পর্কে জানেন না। আবার কেউ বলছেন, নির্ধারিত স্থানটি কাছে নেই বা নিজের জায়গা থাকতে অন্য কোথাও কোরবানী কেন দেবেন?

কলাবাগান ১ নং লেনে নিজের বাসার সামনেই গরু কোরবানী দিচ্ছিলেন মুজিব ভুঁইয়া। বাসার নিচেই বাড়তি অংশে কোরবানী দিলেও রক্ত এবং বর্জ্য পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলছেন রাস্তার মধ্যেই।

সিটি কর্পোরেশনের নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে কোরবানী না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিজের বাড়িতে নিজে কোরবানী দিচ্ছি, অন্য কোথাও কেন যাবো? রাস্তায় কি হলো না হলো এসব দেখার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। তারা স্থান নির্ধারণ না করে বাড়তি পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দিলেই হলো।’

ফার্মগেটের ইন্দিরা রোড এলাকার বাসিন্দা লোকমান বাসার সামনের রস্তাতেই কোরবানী করছিলেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোরবানী শেষ হওয়ার সাথে সাথেই নিজ দায়িত্বে পানি দিয়ে ধুয়ে দিচ্ছি। তাহলেতো আর সমস্যা নেই। বাসা থেকে আরেক জায়গায় কোরবানী দিতে গেলে মাংস নিয়ে টানাটানি, অনেক ঝামেলা।’

ফার্মগেট রাজাবাজার এলাকার অনেক রাস্তাতেই কোরবানী দেওয়া অনেকেই সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্থানের ব্যাপারে জানেন না বলে জানান।

বাবু নামের এক ব্যক্তি এমন নির্ধারিত স্থানে কোরবানীর কথা জানেন না। তিনি অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কতো নিয়ম করবো সরকার? প্রতিবারের মতো এবারও কোরবানী দিচ্ছি, এখন সবাই মিলে নির্দিষ্ট জায়গায় গেলে সিটি কর্পোরেশন সামলাইতে পারবো?’

তবে, উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্থান টি এন্ড টি মাঠে গিয়ে কয়েকজনকে কোরবানী দিতে দেখা যায়।
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রিয়াজউদ্দিন বলেন, ‘সরকারের এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ অবশ্যই ভালো ছিলো। কিন্তু আমরাইতো সাড়া দিচ্ছি না। একটু কষ্ট করে সবাই নির্ধারিত স্থানে কোরবানী দিলে শহরটা পরিষ্কার থাকতো।’

রাজধানীর খিলগাঁও রেলগেট থেকে গোড়ান টেম্পোস্ট্যান্ড হয়ে ৮ নম্বরের মাথা পর্যন্ত ‍পুরো সড়কে গরু ও ছাগল-খাসি কোরবানী করতে দেখা গেছে।

গোড়ান টেম্পোস্ট্যান্ড থেকে ৮ নম্বরের মাথা পর্যন্ত এবং দক্ষিণ বনশ্রী প্রজেক্টের ভেতরের রাস্তা জুড়ে এমনভাবে পশু কোরবানী হয়েছে যে, ওই রাস্তাগুলো দিয়ে রিকশা বা সিএনজি এমনকি মানুষের পায়ে হেঁটে চলারও অবস্থা নেই। পশুর রক্তে ভেসে গেছে পুরো রাস্তা। কোরবানীর পশুর বর্জ্য ফেলা হচ্ছে রাস্তায় কিংবা পাশের ড্রেনেই।

উত্তর গোড়ানের ৮ নম্বর রাস্তার উপর গরু কোরবানী দিয়েছেন আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের এই এলাকা হিজিবিজি। কোনো ফাঁকা জায়গা নেই যেখানে সবাই মিলে কোরবানী দিতে পারি। তাই রাস্তাতেই গরু জবাই করেছি। অন্যরাও তাই করেছে।

রাজধানীর সেগুন বাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনে পশু কোরবানীর জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তাবু টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে তিন চারটি গরু জবাই হলেও পাশেই সারি সারিভাবে যার যার বাসার সামনে গরু জবাই করেছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু তাই নয়, সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত পশু কোরবানীর স্থানে কোনো পশুই জবাই হয়নি। অথচ আশপাশেই জবাই করা হয়েছে গরু বা ছাগল। আর রাস্তাতেই ছাড়ানো হয় পশুর চামড়া। কাটা হয় গোশত। রক্তে ভেসে যায় পুরো রাস্তা।

পবিত্র ঈদুল আজহার সময়ে যত্রতত্র পশু কোরবানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এ জন্য ৫৩২ স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলেছিল- গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি প্রতিরোধের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের চারটি স্থানে শামিয়ানা টাঙিয়ে দেওয়া হবে। অন্য স্থানগুলো রঙ দিয়ে সীমানা চিহ্নিত করে দেওয়া হবে। সিটি করপোরেশনের মনিটরিং টিম ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলররা জনগণের সুবিধামতো স্থান পরিবর্তন করে দিতে পারবেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, একটা নতুন বিষয় চালু হচ্ছে। কিছু ভুলত্রুটি থাকতে পারে। পরবর্তী বছরে সেটা সংশোধন করে নেওয়া যাবে।

এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন বলেছিলেন, নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানিতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে বর্জ্য অপসারণ সহজ হবে। বাড়ির ভেতরে জায়গা না থাকলে তাদের নির্দিষ্ট স্থানেই পশু কোরবানি দিতে হবে।

আরও পড়ুন