সৌদিআরব কর্তৃপক্ষ মিনায় পদদলনে নিহত ৬৫০ জনের ছবি প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় তিনজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এখনও ৯০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন।
এর বাইরে আরও এক নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর মন্ত্রণালয়কে জানানো হলেও সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ছবির মধ্যে তাকে পাওয়া যায়নি।
হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে মিনায় ‘শয়তানের স্তম্ভে’ পাথর ছুড়তে যাওয়ার পথে পদদলনের ওই ঘটনার তিন দিন পর রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হল।
সৌদি সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, পদদলনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭৬৯ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ৯৩৪ জন।
আহতদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তা এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়।
সৌদি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পদদলনের ঘটনায় উদ্ধার লাশগুলো বৃহস্পতিবার সারা রাত ধরে হাসপাতাল থেকে মিনার মুয়াইজাম মর্গে স্থানান্তর করা হয়। এরপর মর্গে গোসল করিয়ে নেয়া হয় লাশের ছবি ও আঙ্গুলের ছাপ।
কয়েক দফায় এ পর্যন্ত ৬৫০ জনের ছবি সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেছে, যাতে স্বজন, হজ এজেন্ট বা তার দেশের হজ কর্মকর্তারা লাশ শনাক্ত করতে পারেন।
হজযাত্রীরা বিমানবন্দরে নামার পর তাদের আঙুলের যে ছাপ ইমিগ্রেশন দপ্তর সংগ্রহ করেছিল, তার সঙ্গে লাশের আঙুলের ছাপও মিলিয়ে দেখার কথা।
এসব প্রক্রিয়া শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে তিনজনের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন, তাদের দুজন হলেন- খুলনার মো. শহিদুল ইসলাম ও সাভারের আমিনুর রহমান।
এছাড়া আরও একজনকে বাংলাদেশি বলে শনাক্ত করার কথা বলা হলেও তার পরিচয় জানাতে পারেনি মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ফিরোজা খানম নামে জামালপুরের এক নারীর মৃত্যুর খবর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হলেও সৌদি আরবের প্রকাশিত তালিকায় তার ছবি এখনও পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১২টার দিকে পদদলনের ঘটনার পর রাতেই ফিরোজা খানমসহ জামালপুর, সুনামগঞ্জ ও ফেনীর চারজনের মৃত্যুর খবর পরিবারের মাধ্যমে জানতে পারনে নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটক কমের জেলা প্রতিনিধিরা। এরপর শনিবার পাওয়া যায় আরও পাঁচ বাংলাদেশির নাম। ওই নয়জনের মধ্যে মন্ত্রলালয়ের দেওয়া দুইজনের নাম ছিল না।
সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ টেলিফোনে নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটক কমকে বলেন, স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় ২০০ জনের একটি তালিকা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।
মিনায় নিহত বাকিদের ছবিও সোমবারের মধ্যে প্রকাশ করা যাবে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ আশা করছে।
“সৌদি কর্তৃপক্ষ আমাদের বলেছে, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো লাশ দাফন করা হবে না,” বলেন রাষ্ট্রদূত।
তিনি জানান, বাংলাদেশের ছয়টি মেডিকেল টিম মিনার আশেপাশের ছয়টি হাসপাতালে ঘুরে আহত বাংলাদেশিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। কাউকে পাওয়া গেলে তাদের চিকিৎসা ঠিকমত হচ্ছে কি না, সে বিষয়টিও তারা দেখবেন।
পদদলনে হতাহতের ঘটনার পর ওইদিনই বাংলাদেশিদের খবর জানতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে হটলাইন চালু করা হয়।
+৯৬৬৫৩৭৩৭৫৮৫৯ ও +৯৬৬৫০৯৩৬০০৮২ নম্বরে ফোন করে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে মিনার বিষয়ে তথ্য জানা বা জানানো যাবে।


