মিনায় পদপিষ্ট হয়ে ৪ জন বাংলাদেশী হাজী নিহত হয়েছেন বলে সৌদি সরকার স্বীকার করেছে। অথচ বাংলাদেশ সরকারের ভাষ্যমতে মতে ১০০ বাংলাদেশী নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের শুধুমাত্র ২% এর কথা স্বীকার করা হয়েছে। ৯৮% এর খবর নেই। অন্যান্য দেশের কি অবস্থা কে জানে? স্বীকার আর অস্বীকারের মধ্যে তফাৎ এত বেশী ?
সৌদি মিডিয়া কতটা স্বাধীন তা জানি না। ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মিডিয়া বলছে নিহতের সংখ্যা ২০০০ এর অধিক। সৌদি সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত ৭৬৯ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ৯৩৪ জন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ মিনায় পদদলনে নিহত ৬৫০ জনের ছবি প্রকাশ করেছে, যাদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নিখোঁজ বাংলাদেশীর সংখ্যা নিয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে।
“সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিবেদককে বলেন, স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় ২০০ জনের একটি তালিকা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।”
এর আগে মাত্র ৯৮ জন বাংলাদেশী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছিল সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলো শুধুমাত্র সরকারি সূত্রের উপর নির্ভর করে সংবাদ পরিবেশন করছে।
হজ্জ্ব ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার পর লাস ব্যবস্থাপনা নিয়ে সৌদি সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ উঠছে। অমর্যাদার সাথে স্তুপিকৃত লাসের ছবি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমসমূহে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বব্যাপি খোভের সঞ্চার হয়েছে। উষ্ম আবহাওয়ার দেশ সৌদি আরবে ৫ দিন যাবৎ মৃতদেহগুলো পড়ে আছে। সনাক্তের ব্যবস্থা করা হয়নি।
মূলত: মৃতের সংখ্যা গোপন করার জন্যই লাশগুলো সময়মত সনাক্ত করতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠছে। পচে গলে মৃতদেহগুলো সনাক্ত করার অযোগ্য হয়ে পড়ছে।
সৌদি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, লাশগুলো বৃহস্পতিবার সারা রাত ধরে হাসপাতাল থেকে মিনার মুয়াইজাম মর্গে স্থানান্তর করা হয়।
পুলক ঘটক: সাংবাদিক, গণমাধ্যমের অধিকার আদায়ের কর্মী।



