রাজধানীর কূটনৈতিক পাড়া গুলশানে ইতালীয় নাগরিক খুন হওয়ার ঘটনার জেরে জঙ্গিবাদের নামে বাংলাদেশে পশ্চিমা দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর রেড অ্যালার্ট জারিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এই নিউইয়র্ক শহরেও আওয়ামী লীগ নেতা নজমুলকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তাই বলে কি এই সিটিতে রেড অ্যালার্ট জারি হয়েছিল?’
ঢাকায় একজন ইতালীয় নাগরিক খুন হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে তাদের নাগরিকদের সতর্ক করে রেড অ্যালার্ট দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নিউইয়র্ক রয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশই শুধু নয়, এখন বিশ্ব জুড়েই এমন ভীতির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে বিশ্বাস করে কোনো জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করে না বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
মঙ্গলবার ঢাকার একটি কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান ইতালীয় নাগরিক খুন হওয়ার ঘটনার বিষয়ে বলেন, ‘বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ‘জুজুর’ শিকার হয়েছে। সরকার পশ্চিমা বিশ্বের কাছে মৌলাবাদের কথা বলে যে খাল কেটেছে সেখানেই তারা ডুবেছে। তার প্রমাণ পেয়ে গেছে, ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার রাতে নিরপরাধ বিদেশি নাগরিক হত্যার মাধ্যমে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনার পর বিএনপির এক নেতা যেভাবে কথা বলছেন, তাতে সন্দেহ হচ্ছে তিনি নিজেই এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তা বেরিয়ে আসতে পারে। ঢাকায় ফিরেই তিনি এই ব্যবস্থা নেবেন।
শেখ হাসিনা বলেন, একটি রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী মানুষ পুড়িয়ে মারে। মানুষ খুন করে একটা অস্বাভাবিক অবস্থা সৃষ্টি করতে চায়।
ঢাকায় ইতালীয় ওই নাগরিক খুন হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে সরকারপ্রধান বলেন, একজন বিদেশি নাগরিক মারা যাওয়ায় সত্যি আমরা দুঃখিত। এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। কিন্তু ওই ঘটনার পরপরই আমরা বিএনপির এক নেতাকে তৎপর দেখলাম। তাতে সন্দেহ হয়। তাকে ধরে ইন্টেরোগেশন করা উচিত, এই ঘটনার সাথে তার কোনও সম্পৃক্ততা আছে কি না? আমি দেশে ফিরে সেই ব্যবস্থাই করবো।


