ঢাকা ও আশপাশের পাঁচ জেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাস-মিনিবাসের নতুন ভাড়া আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে। নতুন ভাড়া অনুযায়ী বাসে প্রতি কিলেমিটারে ১ টাকা ৭০ পয়সা ও মিনিবাসে ১ টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাসের সর্বনিু ভাড়া আগের মতোই ৭ টাকা এবং মিনিবাসের ভাড়া ৫ টাকা থাকছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ব্যয় বিশ্লেষণের নামে অসত্য তথ্যের ওপর এ ভাড়া নির্ধারণ করে দেয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
আগে বাসে ১ টাকা ৬০ পয়সা ও মিনিবাসে ১ টাকা ৫০ পয়সা ভাড়া নির্ধারিত ছিল। সিএনজি অটোরিকশার নতুন ভাড়া আগামী ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে। ইতিমধ্যে নতুন ভাড়ার গেজেট ও ভাড়ার চার্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে অসত্য তথ্যে নির্ধারণ করা নতুন ভাড়া প্রত্যাখ্যান করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিলোমিটারপ্রতি ১০ পয়সা বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীপ্রতি ভাড়ায় তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। যাত্রীপ্রতি ১ থেকে ৫ টাকা ভাড়া বাড়তে পারে। ভাড়ার নতুন হার নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ জেলায় চলাচলকারী বাসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তারা আরও জানান, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি যাতে কেউ আদায় করতে না পারে সেজন্য মোবাইল কোর্ট ও আইনশৃংখলা বাহিনী মাঠে সক্রিয় থাকবে।
কোনো বাস ও মিনিবাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেবে তারা। বি আরটিএর তথ্য অনুযায়ী, পল্লবী (মিরপুর-১২) থেকে ভিক্টোরিয়া পার্ক পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৯ কিলোমিটার দূরত্বে বাসের নতুন ভাড়া ১ টাকা ৬৯ পয়সা বেড়ে হবে ২৮ টাকা ৭৩ পয়সা। আর মিনিবাসের ভাড়া হবে ২৭ টাকা। বর্তমানে এ রুটে চলাচলকারী সবগুলোই মিনিবাস। এসব বাসে ২৩-২৫ টাকা ভাড়া আদায় করা হয়। একইভাবে আবদুল্লাহপুর (উত্তরা) থেকে ফার্মগেট হয়ে গুলিস্তান পর্যন্ত ২১ দশমিক ১ কিলোমিটার পথে বাসে ৩৫ টাকা ৮৭ পয়সা ও মিনিবাসে ৩৩ টাকা ৭৬ পয়সা ভাড়া হবে। ফার্মগেট থেকে গুলিস্তানের দূরত্ব ৫ দশমিক ৭ কিলোমিটার। এ পথে বাসের ভাড়া ৯ টাকা ৬৯ পয়সা ও মিনিবাসে ৯ টাকা ১২ পয়সা ভাড়া হবে।
তবে যাত্রীদের আশংকা, নতুন ভাড়া আদায়ের নামে গণপরিবহনে বিশৃংখলার সৃষ্টি হবে। অতীতে কিলোমিটারে ভাড়া ৫ পয়সা বৃদ্ধি করলে আদায় করা হয় অতিরিক্ত ৫ টাকা। প্রতিবারই ভাড়া বাড়ানোর সময় যাত্রী হয়রানি এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। ভাড়া নিয়ে পরিবহনকর্মীদের মাধ্যমে যাত্রীদের নাজেহাল হওয়ার নজির রয়েছে।
বাস পরিচালনায় অসত্য তথ্য দেখিয়ে এবারও ভাড়া প্রস্তাব করেছিল ব্যয়-বিশ্লেষণ কমিটি। এতে প্রতি কিলোমিটার ১২ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। ওই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রতি কিলোমিটার ১০ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা দেন।
ভাড়া নির্ধারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যয়-বিশ্লেষণ কমিটিতে মালিক থাকলেও যাত্রী প্রতিনিধি কেউ ছিল না। ব্যয়- বিশ্লেষণে নতুন সিএনজি বাসের দাম দেখানো হয়েছে গড়ে ৩৬ লাখ টাকা। ব্যাংকঋণে কেনা এসব বাসে সুদ বাবদ ১১ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। আর নিবন্ধন ফি ২২ হাজার টাকা। এর সঙ্গে দৈনিক ইঞ্জিন অয়েল (মবিল) পরিবর্তন, বছরে ১০টি টায়ার পরিবর্তন, চালক-হেলপারদের মাসিক ৪৮ হাজার টাকা মজুরিসহ ১৭ ধরনের পরিচালন ব্যয় রয়েছে।
এর সঙ্গে মালিকদের শতকরা ১০ ভাগ মুনাফা ধরা হয়েছে। এছাড়া গাড়িতে যাত্রী গড় বোঝাই দেখানো হয়েছে ৮০ ভাগ। যানজটের কারণ দেখিয়ে প্রতিটি বাস দৈনিক ১৬০ কিলোমিটার চলাচল করে বলে ব্যয়-বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোনো বাসই সাধারণত ২০০ কিলোমিটারের কম চলাচল করে না।
আসনের পরও ৪০-৫০ শতাংশ যাত্রী অতিরিক্ত বহন করা হয়। এসব বাসে দাঁড়িয়ে বা দরজায় ঝুলেও যাত্রী তোলার চিত্র নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। ব্যয়-বিশ্লেষণে বাসের আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ১০ বছর। তবে রাজধানীতে চলাচলকারী বেশির ভাগ বাসের আয়ুষ্কাল ১০ বছরের অনেক বেশি। এমনকি ২০ বছরের বেশি গাড়িও চলাচল করছে।
এসব গাড়ির ক্রয়মূল্য ও ব্যাংক সুদের কোনো ভিত্তি নেই। আর নতুন করে রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন হয় না। অথচ এজন্য বছরে গড়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৮৫০ টাকা। এছাড়া কোনো কোনো বাস কোম্পানির নিজস্ব গ্যারেজ না থাকলেও বছরে এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। বীমা ঠিকমতো না করলেও বার্ষিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮ হাজার টাকা। পুরনো লক্কড়-ঝক্কড় বাসগুলোর মালিকরা নতুন গাড়ির ভাড়ার সুযোগ পেতে যাচ্ছে। বাস সারা বছর চলাচল করলেও এক্ষেত্রে ধরা হয়েছে ৩০০ দিন। এছাড়া ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন, ররটিন রক্ষণাবেক্ষণে মবিল পরিবর্তনসহ বিভিন্ন খাতে বাস্তবের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় দেখিয়ে নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


