বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হলো সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদকে

SHAKA1443605729মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়েছে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাপ্রাপ্ত জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মুজাহিদ ও কাশিমপুর কারাগারে এ পরোয়ানা শোনেন।

মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর মৃত্যু পরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছে বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটা ১০ মিনিটে। এর আধা ঘণ্টার মধ্যে সেখানকার ফাঁসির সেলে থাকা মুজাহিদকে তা পড়ে শোনান কারা কর্মকর্তারা। পরে কাশিমপুর কারাগারে থাকা সাকা চৌধুরীকে শোনানোর জন্য তার পরোয়ানা পাঠিয়ে দেওয়া হয় সেখানে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছার পর সাকা চৌধুরীকে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়েছে বলে জানান জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কপি আইজিপি (প্রিজন) এর বরাবরে পাঠানো হয়। তার পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরোয়ানা দু’টি গ্রহণ করেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেসার আলম।

এর মধ্য দিয়ে দেশের শীর্ষ এই দুই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু করলো কারা কর্তৃপক্ষ। আইসিটি আইন অনুসারে সরকারের তত্ত্বাবধানে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির।

দুপুর তিনটায় লাল কাপড়ে মোড়ানো মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হন জ্যেষ্ঠ আইন গবেষণা কর্মকর্তা পারভেজ আহমেদ, লাইব্রেরিয়ান তাপস কুমার রায় এবং ডেসপাস রাইডার সিরাজুল ইসলাম। কারা কর্তৃপক্ষের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (ঢাকার জেলা প্রশাসক) কপিও পৌঁছে দেন তারা। কারাগার ছাড়া বাকি তিন জায়গায় মৃত্যু পরোয়ানার সঙ্গে পাঠানো হয়েছে মুজাহিদ-সাকার আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত রায়ের অনুলিপিও।

এর আগে দুপুরে মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর পৃথক দুই মৃত্যু পরোয়ানায় সই করেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক এবং বিচারিক প্যানেলের সদস্য বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী। এরপর মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার মো. শহীদুল আলম ঝিনুক।

মৃত্যু পরোয়ানা পাঠানোর আগে প্রেস ব্রিফিংয়ে রেজিস্ট্রার ঝিনুক জানান, বুধবার রাতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ট্রাইব্যুনালের কাছে উপস্থাপন করি। মৃত্যু পরোয়ানায় সই করেন তিন বিচারপতি। এরপর কিছু আইনি প্রক্রিয়া শেষে দু’টি মৃত্যু পরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আইজিপি (প্রিজন) বরাবর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।

আইন অনুযায়ী এখন আসামিপক্ষ আপিল বিভাগের রায় রিভিউ (পুনর্বিবেচনার) আবেদন করবেন। আর এ আবেদনের জন্য তারা ১৫ দিনের সময় পাবেন। ১৫ দিনের মধ্যে আসামিপক্ষ রিভিউ আবেদন করলে আপিল বিভাগ তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করবেন। রিভিউ নিষ্পত্তির পর যে রায় বহাল থাকে তা কার্যকর হবে।

গত ১৬ জুন মুজাহিদ এবং ২৯ জুলাই সাকা চৌধুরীর আপিল খারিজ করে সংক্ষিপ্ত রায় দেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন। বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হচ্ছেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। চার বিচারপতির স্বাক্ষরের পর বুধবার মুজাহিদের ১৯১ পৃষ্ঠার এবং সাকা চৌধুরীর ২১৭ পৃষ্ঠার ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ হয়।

২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মুজাহিদের মামলার রায় দেন। ওই রায়ে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টি প্রমাণিত হয়েছিল। এর মধ্যে ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে তাকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনকে হত্যার অভিযোগটি বুদ্ধিজীবী হত্যার মধ্যে পড়ে যাওয়ায় ট্রাইবু্যুনাল এ বিষয়ে আলাদা কোনো সাজা দেননি। সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হত্যার বিষয়টি মামলায় এক নম্বর অভিযোগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা ছিল।

২০১৩ সালের ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ পৃথক চারটি (৩, ৫, ৬ ও ৮নং) অভিযোগে সাকা চৌধুরীকে ফাঁসির আদেশ দিয়ে রায় দেন। এছাড়া তিনটি (২, ৪ ও ৭নং) অভিযোগে তাকে দেয়া হয় ২০ বছর করে কারাদণ্ড। দুটি (১৭ ও ১৮নং) অভিযোগে দেয়া হয় ৫ বছর করে কারাদণ্ড।

আরও পড়ুন