বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগের এমপি’র গুলিতে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আহত

mp-liton-1_331730

গাইবান্ধা-১ আসনের আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের গুলিতে সৌরভ নামে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, শুক্রবার সকালের এই গুলিবিদ্ধের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় এমপির লোকজন শিশুটিকে হাসপাতালে নিতে বাধা দেয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তাকে প্রথমে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল পৌনে ছয়টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শহরের ব্র্যাক মোড়ের গোপালচরণ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন গাইবান্ধা-১ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য। তিনি সকালে গাড়িতে করে বামনডাঙ্গা থেকে সুন্দরগঞ্জ আসছিলেন। বামনডাঙ্গা-সুন্দরগঞ্জের ব্র্যাক মোড়ের পশ্চিম পাশের গোপালচরণ এলাকায় এমপির গাড়ির পৌঁছালে তার গাড়ির সামনে দৌঁড়ে এসে দাঁড়ায় সৌরভ। এসময় এমপি তার কাছে থাকা পিস্তল বের করে সৌরভের দুই পায়ে দুটি গুলি করে।

স্থানীয়রা আরো জানান, সৌরভের বাড়ি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের গোপালচরণ গ্রামে। তার বাবার নাম সাজু মিয়া। সে গোপালচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। প্রতিদিনের মতো এদিনও সে সকালে জগিং করছিলেন।

তবে স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান, সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন ঘটনাস্থলে হঠাৎ এক ব্যক্তিকে তার গাড়িতে উঠতে জোরাজুরি শুরু করেন। কিন্তু ওই ব্যক্তি তার আচরণে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে গাড়িতে না উঠে দৌঁড়ে পালায়। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে তিনি তাকে লক্ষ্য করে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছোঁড়েন। কিন্তু তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে রাস্তায় জগিংরত সৌরভের দুই পায়ে গিয়ে লাগে।

আশে পাশের লোকজন ছুটে এলে সংসদ সদস্য গাড়ি নিয়ে দ্রুত সরে পড়েন। প্রথমে তাকে উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সেখান থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সৌরভের চাচা সাজা মিয়ার অভিযোগ, প্রতিদিন তিনি সৌরভকে নিয়ে রাস্তায় হাঁটাহাটি করে ব্যায়াম করেন। শুক্রবার ভোরেও তিনি সৌরভকে নিয়ে রাস্তায় হাঁটছিলেন। কিন্তু এমপি লিটন হঠাৎ করে গুলি ছুড়ে কেন ওই ঘটনা ঘটালেন তা তার বোধগম্য নয়।

এদিকে আহত শিশুটিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রংপুর নিয়ে যাওয়ায় পথে সংসদ সদস্যের নিজ এলাকা বামনডাঙ্গায় তার লোকজন গাড়িটি দীর্ঘক্ষণ আটক করে রাখে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে শিশুটিকে রংপুর পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি- তদন্ত) জিন্নাত আলী গুলিতে শিশু আহতের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কিভাবে বা কে গুলি করেছে সে বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি। তিনি জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবদুল হাই মিলটন জানান, শিশুটিকে বহনকারী গাড়ি আটক করার কথা শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। তবে কিভাবে শিশুর পায়ে গুলি লেগেছে এ বিষয়ে তিনিও নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।

খবর পেয়ে গাইবান্ধা থেকে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ এবং পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলাম সুন্দরগঞ্জ যান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করছিলেন। তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোন মন্তব্য করেননি।

এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্টার মাহফুজুল ইসলাম জানিয়েছেন, অপারেশন করে শিশুটির দুই পায়ের গুলি বের করতে। শিশুটির দুটি পায়েই ঠিক হাটুর নিচে গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানান এই চিকিৎসক। এ ব্যপারে সংসদ সদস্য মো. মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়ায় যায়।

সংবাদদাতা

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম

আরও পড়ুন