বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেবেন আন্দোলনরত মেডিকেল ভর্তিচ্ছুরা

1_332534_332820মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল এবং পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আজ প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেবেন। শুক্রবার ঘোষিত এ কর্মসূচি সফল করতে রোববার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হবেন শিক্ষার্থীরা। পরে সেখান থেকে স্মারকলিপি প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তবে ভর্তি পরীক্ষায় যারা সরকারি মেডিকেল কলেজে সুযোগ পায়নি অথবা যারা অকৃতকার্য হয়েছে তাদের দায়ভার গ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছেন ইতিমধ্যে বিভিন্ন মেডিকেলে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের ১৫তম দিনে শনিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোকচিত্র, ব্যঙ্গচিত্র এবং গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চেয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী এবং উৎসুক জনগণের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এ প্রসঙ্গে আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। এ সময় কয়েকজন অভিভাবক জানান, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।’

আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ছবি রয়েছে ১৯টি। আন্দোলন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ব্যঙ্গচিত্র রয়েছে ৯টি এবং প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ফেসবুকে প্রশ্নপত্র প্রকাশ ও এ বিষয়ক কথোপকথনের স্ক্রিন শট রয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি। এ সময় একটি টেবিলে রাখা ব্রডশিটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আন্দোলনের সপক্ষে স্বাক্ষর করতে দেখা গেছে।

শনিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চলমান আন্দোলন দেখতে আসেন ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী রিমি এবং পাবনা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী তামান্না। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন নিয়মতান্ত্রিকভাবে লেখাপড়া করে ভর্তি পরীক্ষায় পাস করেছি। কিন্তু যারা পাস করতে পারেনি প্রশ্ন ফাঁসের ধুয়া তুলে তারা আমাদের পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে। এসব শিক্ষার্থী ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভর্তি হওয়া শিক্ষাার্থীদের বাবা-মা তুলে অশ্লীল কথা ছড়াচ্ছে। যা গর্হিত কাজ। তারা বলেন, আমরা এসবের প্রতিবাদ জানাই। পাশাপাশি যারা ঠিকমতো লেখাপড়া না করায় পরীক্ষায় ভালো করতে পারেনি তাদের কোনো দায়ভার আমরা নেব না। আমরা আমাদের শিক্ষা জীবন নিবিঘ্ন করতে চাই।

ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা যখন সাংবাদিকদের কাছে তাদের মতামত ব্যক্ত করছিলেন তখন বরিশাল মেডিকেল থেকে পাস করা ছাত্র ফ্রন্টে কেন্দ্রীয় নেতা মনীষা চক্রবর্তী তার সাঙ্গপাঙ্গ ও কয়েকজন অভিভাবক নিয়ে এসব শিক্ষার্থীদের তাড়া করেন। এমনকি তারা সংবাদ সংগ্রহের কাজে সাংবাদিকদের বাধা দেয়। এমনকি শহীদ মিনার চত্বরে ভর্তি পরীক্ষার পক্ষের কেউ কথা বলেতে পারবে না বলে হুমকি দেন।

বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাম সংগঠনগুলোর শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারের পাদদেশে প্রশ্ন ফাঁস প্রসঙ্গে কয়েকটি ছোট ছোট পথ নাটক প্রদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদানের পর তারা কি করবেন জানতে চাইলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সুমন যুগান্তরকে বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করব। তবে অবস্থান কর্মসূচি চলবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

১৮ সেপ্টেম্বর মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভর্তি পরীক্ষার আগের রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নের অনুলিপি পাওয়া গেছে, তার সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের মিল রয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকে পরীক্ষা ও ফলাফল বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখেই ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে মেডিকেল কলেজগুলোয় ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম

আরও পড়ুন