নিজে তদন্তে নেমে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো প্রমাণ পাননি বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বলেছেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমি নিজে ইনকোয়ারি করেছি। ইনকোয়ারি করে নিশ্চিত হয়েছি, সামান্যতম কোনো ফাঁক-ফোকর নেই। এর কোনো সুযোগও নেই। যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে, তা সঠিক নয়।
রোববার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “পরীক্ষার দিন আমি অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছি, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছি, কেউ আমাকে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করেনি। ফাঁস সত্যিই হয়ে থাকলে সেদিন করেনি কেন?”
ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বলেন, প্রশ্নপত্র হোয়াটস অ্যাপ ও ফেইসবুকে শেয়ার হয়েছে। তদন্তে কোনো আইটি ফার্মের বা বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া হয়েছে কি-না তা জানতে চাইলে সরাসরি জবাব না দিয়ে এড়িয়ে যান মন্ত্রী।
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে নতুন করে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে যে আন্দোলন চলছে তার সমালোচনা করে নাসিম বলেন, “কিছু হলেই রাজপথে যাওয়া ফ্যাশন হয়ে গেছে। রাজপথে যেতে হলে যুক্তিতে আসতে হবে। রাজপথে দাঁড়িয়ে কোনো অযৌক্তিক দাবি আদায় সম্ভব নয়। এই আন্দোলনের মাধ্যমে যারা পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে, ভর্তি হচ্ছে, তাদেরকে অসম্মান করা হচ্ছে।”
ফের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার দাবিতে আন্দোলনে যারা সংহতি জানিয়েছেন তাদেরও সমালোচনা করেন মন্ত্রী। বলেন, আমি এখনো জাফর ইকবাল স্যার, সৈয়দ মকসুদ সাহেবকে বলছি- আপনারা সম্মানিত মানুষ। আপনারা আসুন, এসে আমার ডিজির সঙ্গে কথা বলুন। তারপর এ নিয়ে কথা বলুন। আপনারা না জেনে কেন কথা বলবেন? আপনাদের উচিত ছিল, এখানে এসে জিজ্ঞাসা করা। আমাকে পাওয়া যায়। আমাকে বললেন না। রাজপথে গিয়ে কথা বললেন। ফাও’র উপরে কথা বললেন।
নাসিম বলেন, এরপরও এই সব সম্মানিত ব্যক্তিদের বলছি, আপনাদের চা’র দাওয়াত দিচ্ছি। আপনারা আসেন, আপনাদের সব প্রশ্নের জবাব দিবেন ডিজি সাহেব। এরপর আপনারা প্রশ্ন করেন। এটা ঠিক নয়, না জেনে কথা বলা দুঃখজনক।
সরকারি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে ‘গুজব’ বলে অভিহিত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বলেছেন, ‘এবার যেখানে প্রশ্ন ছাপা হয়েছে, সেখানে আমি নিজেও গিয়েছি। ফাঁসের কোনো সুযোগই সেখানে নেই। তাই যারা অভিযোগ করছেন, তা ঠিক নয়।’
মন্ত্রী বলেন, ‘মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা প্রতিবারই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় অনুষ্ঠিত হয়। এবারও তাই হয়েছে।’
মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য যদি আলাদা কোনো কোচিং থাকে, সেটি আইন করে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও জানান নাসিম।



