বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ফেসবুক নিয়ে ‘তামাশা’ করছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন

0,,18621394_303,00অঙ্গীকার এক। কিন্তু অঙ্গীকার পূরণের আন্তরিক চেষ্টায় বিস্তর ফারাক। ফেসবুক পেজ খুলেছে ঠিকই। কিন্তু সেই পেজের তত্ত্বাবধান এবং নাগরিক সেবায় তা কাজে লাগানোর কাজে কুষ্টিয়ার চেয়ে ঢাকা অনেক পিছিয়ে। নাগরিক সেবায় ফেসবুক পেজকে কাজে লাগাচ্ছে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। তাদের এ উদ্যোগ স্বাভাবিক কারণেই ব্যাপক প্রশংসিত। তাদের ফেসবুক পাতাটিতে বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসনের অধীনে বসবাসরত নাগরিকদের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপনের উদ্দেশ্যেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের সহায়তা নেয়া।

উদ্যোগ অনুযায়ী কাজের অনেক নমুনাই আছে সংবাদমাধ্যমের খবরে। ওষুধ খাইয়ে কিংবা ইনজেকশন দিয়ে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে কিনা তা তদারক করার কার্যক্রমের খবর প্রকাশিত হচ্ছে দৈনিকে। জেলায় দেশি গরু পালন বাড়ছে – দেশের প্রধান দৈনিকে এমন খবরও এসেছে। উন্নয়ন মেলা আয়োজনের খবরও গণমাধ্যমের কল্যাণে দেশের সব অঞ্চলের মানুষই জেনেছেন। ইউটিউবেও আছে এমন উদ্যোগের প্রচারণা।

বিজ্ঞানমনষ্ক প্রজন্ম গড়ে তোলার উদ্যোগের সঙ্গেও আছে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষের সেবামূলক কর্মকা-ের খবর জানানোর কাজে তাদের ফেসবুক পাতাটিও খুব সক্রিয়। টাইমলাইন আপডেট হয় নিয়মিত। তাই চোখ রাখলেই পড়া যায় বিভিন্ন ধরণের মেলা আয়োজনের কথা। সম্প্রতি কুষ্টিয়া জেলা স্টেডিয়াম চত্বরে আমের চারা রোপণ করে ফলদ বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। এ বিষয়ের পোস্টের নীচে নগরবাসীর মন্তব্যও আছে। সেখানে এ উদ্যোগের প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেনের উদ্দেশ্যে একজন লিখেছেন, ‘‘কুষ্টিয়া জেলায় বৃক্ষ রোপণের জন্য আপনি কিছু উদ্দোগ গ্রহণ করলে মনে হয় তা সফল হতে পারে।’’ ২৯ সেপ্টেম্বরের এই ফেসবুক পোস্টের নীচে আরেকজনের মন্তব্য, ‘‘আমাদের কুষ্টিয়া স্টেডিয়ামকে আরো বড় আর সংস্কার করা প্রয়োজন। আপনাদের অবগতির জন্য জানানো গেল।’’

জেলা শহরের বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগসূত্র হিসেবে ফেসবুক পেজের কার্যকারিতার ভুরি ভুরি নমুনা আছে ফেসবুক পাতায়। দেখলেই বোঝা যায়, জেলা প্রশাসকের আশ্বাস এবং সেই অনুযায়ী কাজ করায় তাঁর সহকর্মীরাও বেশ তৎপর। কিন্তু ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নামে দৃশ্যমান ফেসবুক পাতাগুলোর অবস্থা খুবই সঙ্গীন। বাংলায় ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন’ লেখা একটি ফেসবুক পাতার টাইমলাইনে সর্বশেষ পোস্ট পড়েছে মে মাসের ১১ তারিখে। সেখানে ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন’-এর নামে প্রচার চালানো হয়েছে ‘বাংলাদেশ ছাত্র শক্তি’ নামের একটি সংগঠনের।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, মেয়র হিসেবে তাঁর কোনো কর্মদ্যোগের চিহ্নই সেখানে নেই। ইংরেজিতে ‘ঢাকা সাউথ সিটি কর্পোরেশন’ লেখা অন্য পেজটির টাইমলাইনে শুধু ফুলের ছবির ছড়াছড়ি। পাতাটি নির্মানাধীন কিনা সে সম্পর্কেও কিছু জানানো হয়নি। দু’টি ফেসবুক পাতাই হয়ত কোনো ব্যক্তির খেয়ালি অনধিকারচর্চার ফসল।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নামে যে ফেসবুক পাতাটি দেখা গেল সেটি বেশ পরিচ্ছন্ন। ঈদ-উল-আজহার আগে ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক টক শো-তে সিটি কর্পোরেশনের ফেসবুক পাতার কথা সগর্বে উল্লেখ করেছিলেন। যে কোনো সমস্যার কথা ওই ফেসবুক পাতায় জানালেই সিটি কর্পোরেশন ব্যবস্থা নেবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পাতাটি নিজে নিয়মিত দেখলে সম্ভবত জনাব আনিসুল হক গর্ব করতে পারতেন না।

২৯ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কথিত ফেসবুক পাতায় ঢুঁ মেরে দেখা গেল সেখানে সর্বশেষ পোস্ট পড়েছে গত ২০ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ ঈদের আগে। ঈদের ছুটি শেষে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষের ফেসবুক পাতা পুরোদমে সচল হয়ে উঠেছে। কিন্তু ফেসবুক পাতা দেখে মনে হয় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৯ সেপ্টেম্বরও ঘুম ভাঙেনি।-ডিডাব্লিউ।

আরও পড়ুন