বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

আড়ালে থেকে হাওয়া বুঝছেন গুলি ছোঁড়া এমপি

liton_Gai_MPগাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকারদলীয় সাংসদ মন্‌জুরুল ইসলামকে (লিটন) ‘খুঁজে’ পাচ্ছে না পুলিশ। গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হলেও সাংসদকে এলাকায় পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ দাবি করেছে। আজ মঙ্গলবার সাংসদকে এলাকায় দেখা যায়নি। তিনি কোথায় আছেন, সে ব্যাপারে কেউ কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

গত ২ অক্টোবর সাংসদ তাঁর নির্বাচনী এলাকায় শিশু শাহাদাত হোসেনকে (সৌরভ) গুলি করেন। এতে শাহাদাত আহত হয়। তার পায়ে তিনটি গুলি করেন তিনি। এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানায় সাংসদকে একমাত্র আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ সাংসদের দুটি লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জব্দ করে এর লাইসেন্স বাতিল করেছে।

মামলা হলেও সাংসদকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশ তাঁর বাড়িতেও ছিল। সাংসদকে গ্রেপ্তার করতে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি তোলা হচ্ছে। স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনও তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছে।

অবশ্য সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমরা সাংসদকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি। কিন্তু তাঁকে খুঁজে পাচ্ছি না।’ তিনি বলেন, সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গায় সাংসদের বাড়িতে পুলিশ গিয়েছিল। সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

নাম না প্রকাশের শর্তে জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সম্ভবত সাংসদ এলাকায় নেই। তিনি ঢাকায় থাকতে পারেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, সাংসদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংসদের একজন ঘনিষ্ঠজন বলেন, ঘটনার পর দুদিন সাংসদ এলাকায়ই ছিলেন। লোক দিয়ে থানায় অস্ত্রও পাঠিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, সাংসদ দেশেই আছেন। পালিয়ে আছেন, এটা ঠিক নয়। বলা যায়, সবকিছু থেকে নিজেকে তিনি একটু সরিয়ে রেখেছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংসদকে আর প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের বক্তব্য ‘কিছুটা সরে’ আছেন সাংসদ। তবে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, এমন অভিযোগ তাঁরা নাকচ করেছেন।

আজ গাইবান্ধা শহরে কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন ডিবি রোডে সাংসদকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে। একই দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মুখে কালো কাপড় বেঁধে শহীদ মিনারে কর্মসূচি পালন করেছে।

আরও পড়ুন