মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনা তদন্তে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে ছাত্র-অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে ফোরামের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনের সমন্বয়ক আসিফ বিন ত্বাকী।
প্রশ্নফাঁসের ঘটনার সঠিক তদন্তের জন্য কমিশন ফর ইনকোয়ারি অ্যাক্ট ১৯৫৬ অনুযায়ী একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে আসিফ বিন ত্বাকী বলেন, ‘আমাদের কাছে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। স্বাধীন কমিশন গঠন করা হলে সেসকল তথ্য প্রমাণপত্র আমরা ওই কমিশনে দাখিল করব।’
তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগীয় কমিশন অনেক দীর্ঘমেয়াদী সময় নিয়ে গঠিত হয় বলে আমরা সরাসরি ইনকোয়্যারি অ্যাক্ট ১৯৫৬ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছি’।
সংবাদ সম্মেলনে ত্বাকী আগামীকাল রোববারের নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করে তিনি বলেন, ‘আগামীকাল সকাল ১০টায় আমরা শহীদ মিনারে অবস্থান নেব।’
এ আন্দোলনকে বেগবান করতে সারা দেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থদেরকে ক্লাস বর্জন করে অবস্থান ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানান তিনি।
মেডিকেলে যারা ভর্তি হয়েছে আপনাদের অবস্থান তাদের বিরুদ্ধে কি-না সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে ত্বাকী বলেন, ‘সারা দেশে প্রায় ৮৪ হাজার পরীক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আমাদের আন্দোলন ৮৪ হাজার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নয়। এবার প্রশ্নবিদ্ধভাবে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। যে পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের আন্দোলন প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে।’
এ আন্দোলনে কারো ইন্ধন রয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয়। এখানে কারও ইন্ধন নেই। ইন্ধনের সন্দেহ থাকলে যে কোউ তদন্তও করতে পারেন।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম একজন সাংসদের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেছেন। ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এ বৈঠক হতে হবে। এবং এটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হবে না। আর বৈঠকের জন্য তারা আগামী সোমবারের কথা বললেও মন্ত্রী কিছু জানাননি।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে ছাত্র-অভিভাবক ঐক্য ফোরামের ব্যানারে মেডিকেলে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন। সেখানে তারা প্রতিদিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পরদিন থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন।


