বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

নৌ-বিমান বাহিনী ও বিজিবি বেসরকারি ব্যাংক গড়তে চায়

BGB-Navy-Airforceসেনাকল্যাণ ফাউন্ডেশন পরিচালিত ট্রাস্ট ব্যাংকের মতো বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনী যৌথভাবে ‘মেরিটাইম ব্যাংক লিমিটেড’ নামের একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক স্থাপনের অনুমতি চেয়েছে সরকারের কাছে। এছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশও (বিজিবি) একটি ব্যাংক স্থাপনের অনুমতি চেয়ে রেখেছে। সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে থাকা এই বাহিনী তাদের ব্যাংকের নাম প্রস্তাব করেছে ‘সীমান্ত ব্যাংক’।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বরাবরে করা এ আবেদনে নৌ বাহিনীর প্রধান ভাইস এডমিরাল এম ফরিদ হাবিব বলেছেন, ‘মেরিটাইম ব্যাংক লিমিটেড’ নামে এই ব্যাংক স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হলে দুই বাহিনী এবং এর সদস্যদের আর্থিক লেনদেন ও সেবা ‘সহজ’ হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলম বলেন, “নৌ-বাহিনীর প্রস্তাবটি আমি দেখেছি। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই।”

মেরিটাইম ব্যাংকের লাইসেন্স চাওয়া হয়েছে বাংলাদেশ নৌ বাহিণীর বাণিজ্যিক উদ্যোগ নৌ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের নামে। তবে বিমান বাহিনীও এর অংশীদার হতে ‘সম্মতি দিয়েছে’ জানিয়ে আবেদনে বলা হয়েছে, দুই বাহিনী যৌথভাবে এ ব্যাংক পরিচালনা করবে।

ব্যাংক চাওয়ার যুক্তিতে নৌ বাহিনী প্রধান বলেছেন, তার বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ২২ হাজার এবং এ সংখ্যা বাড়ছে। সেই সঙ্গে বেতন-ভাতার ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কার্যক্রমও বাড়ছে। সরকারি ও বেসরকারি তহবিলে নৌ বাহিনীর সম্পৃক্ততা বেড়েছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে জাহাজের সংখ্যা বেড়েছে। বিদেশের সাথে সম্প্রীতি বাড়াতে যাতায়াতও বেড়েছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে অর্থনৈতিক কার্যক্রম।

এসব কর্মকাণ্ডের আর্থিক লেনদেন বর্তমানে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হয় জানিয়ে আবেদনে বলা হয়, “নৌ বাহিনীর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি নৌ বাহিনীর একটি নিজস্ব বাণিজ্যিক ব্যাংক থাকে তাহলে বাহিনীর ব্যবস্থাপনায় সুবিধা হবে, পাশাপাশি অনেক অর্থেরও সাশ্রয় হবে।”

নৌ বাহিনী প্রধান বলছেন, এই ব্যাংক হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সমাজের জন্য ‘কল্যাণকর’ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ হবে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক কর্মকাণ্ড এবং নৌ বাহিনীর বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার মধ্য দিয়ে এই ব্যাংক ‘টেকসই অর্থনীতি সৃষ্টিতে’ ভূমিকা রাখতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো আবেদনে বলা হয়েছে, সামুদ্রিক ও এভিয়েশন খাতে বড় বিনিয়োগে অর্থায়ন করতে পারবে ‘মেরিটাইম ব্যাংক’। বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানি, জাহাজ ও বিমান (এয়ারক্রাফ্ট) নির্মাণ শিল্প, বিভিন্ন বন্দর, সামুদ্রিক ব্যবসা, মৎস্য প্রকল্প, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন, গভীর সমুদ্র মৎস্য প্রকল্প এবং অফশোর ইনভেস্টমেন্ট করবে।

এছাড়া মেরিটাইম ব্যাংক এসএমই, কৃষি শিল্প, হালকা প্রকৌশল শিল্প, বৈদেশিক রেমিটেন্স এবং খুচরা ও কনজ্যুমার ব্যাংকিং করতে পারবে এবং ‘ব্লু ইকোনোমি ও সী কমার্স সম্প্রসারণে’ কাজ করতে পারবে বলে আবেদনে যুক্তি দেখানো হয়েছে।

নৌবাহিনী প্রধান লিখেছেন, “একটি নামকরা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দিয়ে নৌ বাহিনী ফিজিবিলিটি টেস্ট করিয়েছে। তার মাধ্যমে উঠে এসেছে, এই বাণিজ্যিক ব্যাংক স্থাপন হলে এটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবে।”

প্রধানমন্ত্রী যেন অর্থমন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংককে এই ব্যাংকের অনুমোদন দিতে নির্দেশনা দেন, সেজন্য অনুরোধ করেছেন তিনি।

বর্তমানে সেনাকল্যাণ ফাউন্ডেশনের অধীনে একটি বেসরকারি ব্যাংক রয়েছে, যা কার্যক্রম পরিচালনা করছে ‘ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড’ নামে। আর আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য ‘আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক’ নামে আরেকটি বিশেষায়িত ব্যাংক রয়েছে, যার মালিকানা রয়েছে রাষ্ট্রের হাতে।

বর্তমানে মোট ৫৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক বাংলাদেশে কার্যক্রম চালাচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে সরকার নয়টি ব্যাংকের অনুমোদন দেয়, যার মধ্যে ছয়টি ব্যাংক দেয়া হয়েছে দেশীয় উদ্যোক্তাদের; আর তিনটির মালিকানা রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের হাতে।

আরও পড়ুন