বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

হজে অনিয়ম: সচিবের অভিযোগ মন্ত্রীর দিকে

hajj-34705এবার হজে শেষ সময়ে পাঠানো পাঁচ হাজার জনের বাড়ি ভাড়া থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এর জবাব দিয়েছেন ধর্ম সচিব চৌধুরী মোহাম্মদ বাবুল হাসান। জবাবে শুধু নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, সময় তো ছিল না। ৫ হাজার হজযাত্রী পাঠানো সবচেয়ে জরুরি বিষয় ছিল। এটা কিছু অনিয়ম হতেই পারে। এ ব্যাপারে আমার কোনো ‘ইয়ে’ নাই। তাছাড়া বাড়ি ভাড়ার বিষয়টি মন্ত্রী মতিউর রহমানের তদারকিতে হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ ব্যক্তি মন্ত্রী কিছু বললে তার কিছু করার থাকে না।

এবার হজে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২ হাজার জন যাওয়ার কথা থাকলেও গমনেচ্ছু বেশি হওয়ায় শেষ সময়ে আরও পাঁচ হাজার জনকে পাঠানো হয়। সৌদি আরবে ওই পাঁচ হাজার জনের বাড়ি ভাড়া থেকে ৬ কোটি টাকা (প্রতি জনের ১২ হাজার টাকা) অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এবার হজে বেসরকারি পর্যায়ে যেতে প্রতিজনকে প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ করতে হয়েছে। সরকারিভাবে যে এক হাজার জন গেছেন, তাদের খরচ ছিল কিছুটা কম।

বাড়ি ভাড়া থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ধর্মসচিব বাবুল হাসান প্রথমেই বলেন- বাড়ি ভাড়া যখন হয়, তখন তিনি সৌদি আরবে ছিলেন না। ঢাকার আশকোনায় হজ ক্যাম্পে অপেক্ষারত এদের কেউ কেউ শেষ সময়ে হজে যাওয়ার সুযোগ পান। মন্ত্রী চলে গেলেন, কিন্তু আমি যেহেতু সরকারের সচিব, পারমানেন্ট পোস্ট হোল্ড করি, এই জন্যই দেখলাম যে, আমার দায়িত্বটা একটু বেশি। এই জন্যই আমি যেতে পারিনি। যাইনি।

সচিব বলেন, “বাড়ি ভাড়া সব কিছু হয়ে যাওয়ার পর আমাদের ৫ হাজার হজযাত্রীর ভিসা হয়েছে। বাড়ি ভাড়াটা করেছে কমিটি। নির্বাচিত যারা হাবের, তারা আর অনির্বাচিত। এই বাহিনী বেশি শক্তিশালী। এজন্য মন্ত্রী ১০ জনের একটি কমিটি করে দেন। উনারা বাড়ি ভাড়া করেছেন, বেশি কম ওই সময় হতেই পারে। করেছেন কিন্তু উনারা। বিশেষ করে, আমি যতটুকু জানি, বাড়ি ভাড়ার বিষয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে বেশি আলাপ করেছিলেন জামাল সাহেব। সাবেক সভাপতি বোধহয় (হাবের)।”

অনিয়ম হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন কি না- জবাবে সচিব বলেন, “এ ব্যাপারে আমাদের মন্ত্রী কমিটি-টমিটি সবাইরে লাগাইছেন যে, বাড়ি ভাড়া কর। কত হওয়া উচিত ছিল, কী হইছে, সেই আলাপে যাচ্ছি না। যেহেতু মন্ত্রী মহোদয় সব করছেন…”

সচিব হিসাবে দায়িত্ব আসে কি না- বলেন, “তা তো আসেই, যেহেতু ইনচার্জ মিনিস্টার কিছু করলে আমাদের আর সে (say) থাকে না কিছু বলার। সরকার যদি করে করবে।”

ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান দেশে থাকলেও সংবাদ সম্মেলনের সময় মন্ত্রণালয়ে ছিলেন না। এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। এবারের হজ মিশনের কাজ আগামী ২৮ অক্টোবর শেষ হবে বলে জানান ধর্ম সচিব।

এদিকে মিনা দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশি হাজিদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সৌদি সরকার এখনো অনুমতি দেয়নি বলে জানান ধর্ম সচিব। লাশ আনার ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি। আরো জানান, মিনা দুর্ঘটনায় পদদলিত হয়ে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা ৭৯ জন এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৭০ জন।

এবার বাংলাদেশ থেকে এক লাখ এক হাজার ১৫৮ জন হজ পালন করতে সৌদি আরব যান। হজ পালনকালে মিনায় পদদলিত হয়ে এখনো পর্যন্ত কতজন বাংলাদেশি হাজি নিহত বা আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে সার্বিক তথ্য এখনো পাওয়া সম্ভব হয়নি। হজ ব্যবস্থাপনা শেষে দেশে ফিরে, সচিবালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ধর্ম সচিব চৌধুরী মোহাম্মদ বাবুল হাসান।

সচিব বলেন, সৌদি সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণেই দুর্ঘটনার শিকার হাজীদের সঠিক তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে, মিনা দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭৯ জন বাংলাদেশি নিহত এবং ৭০ জন নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া, ১২৯ জন হাজির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, হজ পালনকালে কারও মৃত্যু হলে, হাজীদের মরদেহ দেশে পাঠানোর নিয়ম না থাকায় নিহত বাংলাদেশি হাজীদের মরদেহ ফেরত চাওয়ার বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে সোমবার মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হতে পারে বলেও জানান ধর্ম সচিব।

আরও পড়ুন