গত সাড়ে চার বছরে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী ৬০টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করেছে ‘মাইক্রো-ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি’ (এমআরএ)। এর মধ্যে ২০১১ সালে ৪টি, ২০১২ সালে ১৭টি, ২০১৩ সালে ১৯টি, ২০১৪ সালে ১৬টি ও চলতি ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এমআরএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এমআরএ জানায়, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০০৬ সালে ‘মাইক্রো-ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি আইন’ প্রণয়ন করা হয়। এ আইনের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চেয়ারম্যান করে গঠন করা হয় ‘মাইক্রো-ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি’। ২০১০ সালে ‘মাইক্রো-ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি বিধিমালা’ প্রণয়ন করা হয়। আর গেজেট আকারে বিধিমালা প্রকাশিত হয় ২০১১ সালের ১৭ জানুয়ারি।
এমআরএ জানায়, এমআরএ গঠিত হওয়ার পর ২০০৬ সালে প্রথম ধাপে ৪ হাজার ২৪০টি আবেদনের বিপরীতে ধাপে ধাপে মোট ৭৫৭টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হয়। এর মধ্যে গত সাড়ে চার বছরে ৬০টি লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হচ্ছে ৬৯৭টি।
তবে এর মধ্যেও তিনটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ১ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান তিনটি হচ্ছে— ‘মহরম আলী মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন’ (কাদুটি বাজার, চান্দিনা, কুমিল্লা), ‘কাদুটি বাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতি’ (কাদুটি বাজার, চান্দিনা, কুমিল্লা) ও ‘দ্য ইনস্টিটিউট অব রুরাল ডেভেলপমেন্ট’ (২২২/খ মালিবাগ দ্বিতীয় তলা, ফ্ল্যাট সি-২, ঢাকা)।
এমআরএ থেকে লাইসেন্স প্রদানের জন্য ২০১১ সালে দ্বিতীয় ধাপে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়। এ সময় ১ হাজার ২১২টি আবেদন জমা পড়ে। এ সব আবেদন থেকে অস্থায়ী লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে ২০২টি প্রতিষ্ঠানকে।
ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে
লাইসেন্স প্রদান ও লাইসেন্স বাতিলকরণের বিষয়ে জানতে চাইলে এমআরএ’র উপ-পরিচালক মো. ইয়াকুব হোসেন বলেন, ‘সাধারণভাবে দেশে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালাতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাঠ পর্যায়ে কমপক্ষে ১ হাজার ঋণ গ্রহীতা এবং কমপক্ষে ৪০ লাখ টাকার বিতরণ থাকতে হয়। কিন্তু দেখা গেছে, বেশীরভাগ প্রতিষ্ঠান-ই এ শর্ত পালন করতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ছাড়া ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনার ক্ষেত্রে যেসব নিয়ম-কানুন রয়েছে, সেগুলো অনেক প্রতিষ্ঠানই যথাযথভাবে পালন করতে পারে না। সে কারণে অনেক উদ্যোক্তা পরবর্তীকালে নিজেরাই নিরুৎসাহিত হয়ে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। আর নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে আমরাও প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করে দেই। তবে সেটা হুট করে নয়। একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এটা করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথমে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়, বিধিমালা পরিপালনে সময় বেঁধে দেওয়া হয়, প্রয়োজনে সময় আরও বাড়ানো হয়, তারপরও ব্যর্থ হলে তখন লাইসেন্স বাতিল করা হয়।’


