বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

প্রথম ওয়ানডেতে দক্ষিণা আফ্রিকার কাছে পরাজিত ভারত

India-SAদক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ধর্মশালায় টি-টোয়েন্টিতে রোহিতের সেঞ্চুরিটি বিফলে গিয়েছিল। কাজে এল না আজকের ওয়ানডে সেঞ্চুরিটিও। কানপুরে ম্যাচ জমিয়েও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ভারত হারল ৫ রানে।

দারুণ এক নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিল ৪৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলে। রোহিত-ধোনির ভুল বোঝাবুঝিতে নিশ্চিত রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া করল প্রোটিয়ারা। তখন ভারতের দরকার ছিল ৪৫ বলে ৬৬ রান। বড় বাঁচা বেঁচে গিয়ে ভালোভাবেই এগিয়ে চলছিল রোহিত-ধোনির চতুর্থ উইকেট জুটি। ৩৬ বলে ৫৫ রান তুলল এ জুটি। একপর্যায়ে ভারতের দরকার ২৪ বলে ৩৫ রান। হাতে সাত উইকেট।

তখনই আরেক প্রস্থ নাটক। মূল চরিত্র ইমরান তাহির। ইনিংসের ৪৭তম ওভারে পাকিস্তান বংশোদ্ভূত প্রোটিয়া স্পিনার প্রথম বলে রোহিত আর পঞ্চম বলে সুরেশ রায়নাকে ফিরিয়ে ম্যাচে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে। তবে প্রোটিয়াদের গলার কাঁটা হয়ে বিঁধে ছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় অধিনায়কের ওপর দিয়ে ঝড়ই বয়ে যাচ্ছে। সব সমালোচনার জবাব দেওয়ার মোক্ষম সুযোগ পেয়েছিলেন। শুরুটা হলো যদিও ধীর গতিতে। প্রথম ১৭ বলে ১০ রান। সেখান থেকে পরের ১৩ বলে যোগ করলেন আরও ২১ রান। খেললেন ৩০ বলে ৩১ রানের সময়োপযোগী ইনিংস। প্রোটিয়াদের ফিল্ডিং ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগে সিঙ্গেলস-ডাবলসের ওপর থাকলেন। একটি মাত্র বাউন্ডারি এল স্টেইনকে স্কুপ করে।

শেষ ওভারে দরকার ছিল ১১। বল করতে এলেন মাত্র ষষ্ঠ ওয়ানডে খেলতে নামা কাগিসো রাবাদা। এই তরুণই এক ওভারে হয়েই গেলেন আসল নায়ক। দিলেন মাত্র ৬ রান, তুলে নিলেন দুই উইকেট। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, চাপের মুখে একাই ম্যাচ বের করার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়া ধোনিকেও ফেরালেন। শেষ ওভারে ভারত তুলতে পারল ৬ রান। তাহিরের ৪৭ আর রাবাদার করা ৫০—এই দুটো ওভারই ভারতকে হারিয়ে দিল।

এবি ডি ভিলিয়ার্সের ৭৩ বলে ১০৪ রান ও ফাফ ডু প্লেসির ৬২ রানের সুবাদে ৫ উইকেটে ৩০৩ রান তোলা দক্ষিণ আফ্রিকার জবাবটা রোহিতে সওয়ার হয়ে ভালোভাবেই দিচ্ছিল ভারত। ১ উইকেটে ১৯১ তুলে ফেলেছিল। কিন্তু রোহিতের ১৫০, অজিঙ্কা রাহানের ৬০ আর ধোনির শেষ দিকে প্রায় একার লড়ে যাওয়া ৩১ রানের ইনিংসের পরও ভারত হারল।

ধোনির ওপর ঝড়টা বুঝি আরও বাড়ল। তৈরি হলো তাঁর ফিনিশিংয়ের অভাবে ভারতের আরও একটি ম্যাচ হারের দৃষ্টান্ত। আরও একটি দারুণ সেঞ্চুরিতে ম্যাচসেরা এবি ডি ভিলিয়ার্স। এবির জয়ে রোহিতের দুঃখটা একটু বেশিই হওয়ার কথা। ১৫০ করেও দেখতে হলো পরাজয়। ওয়ানডেতে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫০ করে পরাজয়ের স্বাদ পাওয়া তৃতীয় ব্যাটসম্যান তিনি। তবে পর পর দুটো সেঞ্চুরিতেও পরাজিতের দলে থাকাদের তালিকায় রোহিত কততম—সেটা রেকর্ড ঘেঁটে বলতে হবে!

আরও পড়ুন