বিশালাকায় এক গ্রহাণু। নাম ৮৬৬৬৬ (২০০০এফএল ১০)। এই সপ্তাহে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। গ্রহাণুটি পৃথিবীর প্রায় এক কোটি ৫০ লাখ মাইল দূর দিয়ে যাবে। কিন্তু নাসা বলছে, ১.৫ মাইল ব্যাসের গ্রহাণুটি কোনো হুমকি বহন করছে না। যদিও কোয়ার্টার মাইল প্রশস্তের একটি গ্রহাণুর পক্ষে বিশ্বব্যাপী বিপর্যয় ঘটানো কোনো বিষয় না। তার পরও নাসা মাপজোখ করেই জানিয়েছে, এটা কোনো হুমকি সৃষ্টি করছে না।
তবে গুজব রটনাকরী দলগুলো গ্রহাণুটি সবচেয়ে কাছাকাছি আসার সময়টিকে প্রলয়ের দিন বলে দাবি করেছে। তখন নাসা পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণুটির একটি অ্যানিমেশন প্রকাশ করে। কথিত গ্রহাণু ৮৬৬৬৬ ১১/১২ অক্টোবরের দিকে আমাদের পৃথিবীর কাছ দিয়ে পথ অতিক্রম করে যাবে। আকৃতিতে বিশাল হলেও নাসা বলছে এটা কোনো হুমকি সৃষ্টি করবে না।
বর্তমানে নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির থেকে সব গ্রহাণুকেই পর্যবেক্ষণ বা নিরীক্ষণ করা হচ্ছে। ধূমকেতু পৃথিবীর কাছে ধেয়ে আসার সময় কী ঘটতে পারে সেই সংক্রান্ত একটি সতর্কতামূলক আ আশ্বস্ত করার বিবৃতি প্রকাশ করেছে। মানুষ নিজেও এই ধরনের ধূমকেতু ও গ্রহাণু অবস্থান হুমকিপূর্ণ জায়গায় আছে কি-না তা পর্যবেক্ষণ করতে পারে নাসার এই তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে।
এই ব্রাউজারকে ব্যবহার করেই মানুষ জানতে পেরেছিল গ্রহাণু ৮৬৬৬৬। পৃথিবীর কক্ষপথ তাৎপর্যপূর্ণভাবে মিলে যায় এবং এই সপ্তাহে সবচেয়ে কাছাকাছি আসছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি তা অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, তুলনামূলক বিচারে দেড় কোটি মাইল হচ্ছে পৃথিবী ও মঙ্গলের মধ্যে একটি মধ্যবর্তী অবস্থান। পৃথিবী থেকে চাঁদ মাত্র ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫৫ মাইল দূরে। তাই নাসা আগস্টেই এই গুজবকে বাতিল করে দিয়েছিল। বর্তমানে পৃথিবীর কাছ দিয়ে গ্রহাণু বা ধূমকেতু গেলেই অন্তহীন গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
নাসা জানিয়েছে, এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। কেননা ২০০০ সালের গ্রহগুলোর এক সারিতে আসা নিয়ে গুজব, মায়ান ক্যালেন্ডার নিয়ে ২১ ডিসেম্বর পৃথিবী ধ্বংসের গুজব যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, তাতে মহাপ্রলয়ের সৃষ্টি হতে হবে না মানুষই সে পরিস্থিতি তৈরি করবে।
সূত্র: মেইল অনলাইন, লন্ডন


