বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

হাজিদের দুর্ভোগ ও লাগেজ বিড়ম্বনায় দায়ী বিমান

01-10-15-hajj-flight_air-po_165012জেদ্দা থেকে শুরু করে ঢাকা পর্যন্ত হাজিদের দুর্ভোগ আর ভোগান্তির সীমা ছিল না। হজের ফিরতি ফ্লাইট শিডিউলের বিশৃঙ্খলায় সৌদি আরবে নানা সমস্যায় পড়েছেন হাজিরা। আর দেশে ফিরে অনেকে পড়ছেন লাগেজের সমস্যায়। হাজিরা ফিরেছেন কিন্তু লাগেজ আসেনি। এর অপেক্ষায় যদি হাজিদের তিন দিন বিমানবন্দরে কাটাতে হয়, তবে একে অমানবিকই বলতে হবে। ফ্লাইট সিডিউল বিপর্যয় ‍দুর্ভোগ পোহায়ে কোনো রকম ঢাকায় এসে পৌঁছান হাজিরা। এসেই পরেন লাগেজ না পাওয়ার বিড়ম্বনায়। এসবের শিকার হাজিদের অভিযোগ, বাংলাদেশে বিমানের অব্যবস্থাপনা আর অবহেলায় তারা দুর্ভোগ আর ভোগান্তিতে পড়েছেন। সৌদি আরবে দায়িত্ব পালন নিয়েও বিমানের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ হাজিদের। দেশে ফিরে আসা কয়েকজন হাজি বলেছেন, মক্কা ও মদিনায় যে লাগেজ সেন্টার বিমান করেছে, সেখানে দেখভালের জন্য সংস্থার কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন না। ফলে দায়িত্ব পালনরত এজেন্ট কোম্পানির কর্মীরা নানা অনিয়ম করছে।

গত বছরের মতো এবারও হাজিদের সুবিধার জন্য মক্কা ও মদিনায় তিনটি লাগেজ সেন্টার করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা।

এই সেন্টারগুলোর জন্য সৌদি আরবের এজেন্ট নিয়োগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এজেন্ট প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা হাজিদের মালামাল নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে। হজ ফেরত একজন বলেন, “মালামাল আনা-নেওয়া কীভাবে হচ্ছে, তা দেখার জন্য বিমানের কোনো প্রতিনিধি সেখানে নেই। এ সুযোগে এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা অবৈধ অর্থের বিনিময়ে বেশি ওজনের মালামালও পার করে দিচ্ছে। আমি একজনের কাছে শুনেছি, সে ১০ রিয়াল দিয়ে ১০টি ৩০, ৪০ ‍ও ৫০ কেজি ওজনের ব্যাগ পার করেছে।”

মক্কার চেয়ে মদিনায় এ অনিয়ম আরও প্রকট বলে দাবি করেছেন নাম বলতে অনিচ্ছুক আরেকজন হাজি। বলেন, বিমানের পক্ষ থেকে সেখানে দেখার কেউ নেই। এ সুযোগ অসাধু কিছু হ্যান্ডলিং এজেন্ট অবৈধ অর্থ কামিয়ে নিচ্ছেন। টাকা দিলে ইচ্ছা মতো ওজনের ব্যাগ পার করে দিতে দেখা গেছে। বিমান যে এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছে, ওই কোম্পানির অধিকাংশ কর্মী ভারতীয় বলে জানান এই হাজি।

এই বিষয়ে বিমানের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গত বছর বিমানের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ বিষয়টি দেখার জন্য সেখানে ছিলেন। এ বছর কোনো কর্মকর্তা না থাকার সুযোগে এ ধরনের অনিময় হয়েছে বলে আমরাও জানতে পেরেছি।”

তবে অনিয়মের এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মাজহারুল ইসলাম। তার দাবি “আমি মনে করি এ অভিযোগ সত্য নয়। এজেন্ট নিয়োগ করা হয়েছে যেন যাত্রীদের লাগেজ নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে না হয় এজন্য। হয়ত কারও কাছে এক্সট্রা লাগেজ ছিল, তার টাকা নেওয়া হয়েছে। যিনি অনিয়মের কথা বলেছেন, হয়ত না বুঝেই বলেছেন।”

আরও পড়ুন