বাবা-মাকে হত্যা মামলার আসামি মেয়ে ঐশী রহমানের বিচারে আগ্রহ নেই তাদের আত্মীয়-স্বজনদের। তারা বলছেন, যা হবার তা তো হয়েছে। ঐশী তো আর তার বাবা-মাকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। তাই ঐশীর সাজা হোক এটা তারা চান না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐশীর এক আত্মীয় বলেন, ঐশীর বিরুদ্ধে মামলা বা বিচারে আমাদের আগ্রহ নেই। কারণ, যা হবার- তা তো হয়ে গেছে। ঐশীর বাবা-মাকে তো সে আর ফিরিয়ে আনতে পারবে না। তাই ঐশীর সাজা হোক এটা আমরা চাই না। বর্তমানে ঐশী উপলব্ধি করতে পারছে সে আসলে যা করছে সবই ভুল ছিল।
তবে ঐশীর আত্মীয়রা না চাইলেও মামলা চলবে তার আপন গতিতে। কারণ মামলার বাদী রাষ্ট্রপক্ষ। সরকার চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ মামলার বিচার স্থগিত বা মামলা প্রত্যাহার করতে পারে।
ঐশীর আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি তৎপর হতো, তাহলে ঐশীর মতো একটি নাবালিকা মেয়ের কাছে এত সহজে নেশার দ্রব্য পৌছাঁত না। দেশের রাস্তা-ঘাটে, ছোট দোকনে ও ফুটপাতে খুব সহজে এসব মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়। ঐশী মেধাবী ছাত্রী। তার মা-বাবাও ছিলেন শিক্ষিত ও সচেতন। শুধু দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কম থাকায় ঐশী সঙ্গদোষে এমন অপরাধ করেছে। এজন্য আমাদের সমাজ ব্যবস্থাও দায়ী।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর চামেলীবাগের বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মা-বাবাকে খুন করে পালিয়ে যায় ঐশী রহমান।
এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ১৭ আগস্ট নিহত মাহফুজুর রহমানের ছোট ভাই মো. মশিহুর রহমান রুবেল পল্টন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেদিনই ঐশী রমনা থানায় আত্মসমর্পণ করেন। একই বছরের ২৪ আগস্ট আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় ঐশী।


