বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সংসদ ভবনের পেছনে সচিবালয় প্রকল্প অনুমোদন দিলেন না প্রধানমন্ত্রী

New-secretariet (1)জাতীয় সচিবালয়ের নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়নি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ২ হাজার ২০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকার ব্যয় ধরে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সচিবালয় নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু এটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

সচিবালয় নির্মাণ করতে গিয়ে পাশের চন্দ্রিমা উদ্যানে থাকা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর স্থানান্তরের দরকার হতে পারে বলে মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। কারণ জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি বিশ্বখ্যাত লুই আই কানের নকশার আলোকে সচিবালয় গড়ে তোলা হবে। এতে সেখানে কোনো কবর থাকার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এর আগে একনেকের একাধিক বৈঠকে বলেছেন, সবাই একমত হলে জিয়ার কবরসহ সংসদ ভবন এলাকায় থাকা কবরগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, ‘শেরে বাংলানগরে সচিবালয় নির্মাণ’ নামের প্রকল্পটি একনেক সভায় ওঠানোর জন্য গত ৭ অক্টোবর পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছেন। একই দিন প্রকল্পটি ১৩ অক্টোবরের একনেক সভায় ওঠানোর জন্য যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করতে কমিশনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। পরিকল্পনামন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার অফিস করে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করেছেন কমিশনের কর্মকর্তারা।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবিত নতুন সচিবালয়ে দৃষ্টিনন্দন ভবন, প্রশস্ত সড়কসহ থাকবে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা। সচিবালয় ঘিরে যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়, সে জন্য তৈরি করা হবে আলাদা সড়ক। উত্তরা, গাজীপুরসহ ওই অঞ্চল থেকে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা গ্রহীতারা যাতে মেট্রো রেলে করে সরাসরি সচিবালয়ে নামতে পারেন, সে জন্য বিদ্যমান মেট্রো রেলের রুটেও আনা হচ্ছে পরিবর্তন। গণভবনের পাশেই যেহেতু সচিবালয় হচ্ছে, তাই প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য নেওয়া হচ্ছে আলাদা পরিকল্পনা। শেরে বাংলানগরে যানজট কমানোর অংশ হিসেবে গত মাসে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল নিজ ক্ষমতাবলে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে থেকে গণভবন পর্যন্ত বিদ্যমান সড়ককে আধুনিকায়ন ও প্রশস্ত করা’ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন।

সচিবালয় শেরে বাংলানগরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বেশ আগের। তবে বর্তমান সরকারের গত পাঁচ বছরে কখনো অর্থ সংকট আবার কখনো রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে সময় নেন নীতিনির্ধারকরা। তবে এই সময়ে নকশা পরিবর্তন ও পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে দফায় দফায়।

আরও পড়ুন