নারীদের নগ্ন ছবি প্রকাশ করা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বখ্যাত পুরুষদের সাময়িকী প্লেবয়। নতুন রূপে পাঠকদের সামনে হাজির হওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সাময়িকীটি জানিয়েছে।
গত মাসে এক বৈঠকে নারীদের নগ্ন ছবি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে প্লেবয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান এডিটর-ইন-চিফ হিউ হেফনারও উপস্থিত ছিলেন।
মার্কিন এই সাময়িকীটির মালিকদের বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারনেট নগ্নতার বিষয়টিকে সেকেলে করে ফেলেছে। তাই পর্নো সামরিকীগুলোও আর বাণিজ্যিকভাবে টেকসই নেই।
সাময়িকীটির সার্কুলেশনও কমে গেছে বলেও পরিসংখ্যানে দেখা গেছে। ৭০ এর দশকে প্লেবয়ের সার্কুলেশন ছিল ৫৬ লাখ। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে আট লাখে।
তবে নারীদের পুরোপুরি নগ্ন ছবি প্রকাশ না করলেও উত্তেজক ছবি প্রকাশ করবে প্লেবয়।
মজার ব্যাপার হচ্ছে নগ্ন নারীশরীর নিয়ে ব্যবসা করলেও এই কম্পানির চেয়ারপার্সন এবং চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার একজন মহিলা। তাঁর নাম ক্রিস্টি হেফনার। এই মহিলা প্লেবয় পত্রিকার স্থাপক হিউজ হেফনারের মেয়ে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ম্যাগাজিনগুলোর মধ্যে প্লেবয় অন্যতম। দীর্ঘ ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্লেবয় রয়েছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে এবং এত দীর্ঘ পথচলার মাঝেও এই ম্যাগাজিন এর আবেদন হারায়নি এতোটুকুও। হ্যাঁ, অনেকেই হয়ত ভ্রু কুঁচকে বলতে পারেন যে, নারীদের নগ্ন দেহ ছাপলে মানুষ তো এই ম্যাগাজিন পড়বেই। কিন্তু প্লেবয়কে অনুসরণকারী অনেক ম্যাগাজিনই আজ কালের গর্ভে বিলীন। যারা জানেন তারা তো জানেন।
যারা জানেন না তাদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে প্লেবয় ম্যাগাজিন কি? এই ম্যাগাজিনের বিষয়বস্তুটাই বা কি?
এই ম্যাগাজিনের বিষয়বস্তু হচ্ছে যৌনতা। অত্যন্ত আবেদনময়ি নারীদের নগ্নদেহের আলোকচিত্রই শোভা পায় প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রতিটি পাতায়। মূলত তরুণ এবং অবিবাহিত পুরুষদের উদ্দেশ্যেই এই ম্যাগাজিনটির পথচলা শুরু হয়। কিন্তু কালের বিবর্তনে যেকোনো বয়সী পুরুষ এমনকি নারীরাও প্লেবয় ম্যাগাজিনের নিয়মিত পাঠক। একটি বিষয় পরিস্কার করা দরকার যে এই ম্যাগাজিন নারীদের উন্মুক্ত দেহ দেখানো হলেও এটি কোন পর্ণ ম্যাগাজিন নয়।
প্লেবয়ের ছবিগুলি যৌনতা এবং শিল্পের সঠিক মিশেল। নারীশরীরকে কতটা উত্তেজনক পন্থায় উপস্থাপন করা যায় তা একমাত্র প্লেবয়ের ছবিগুলি দেখলেই বোঝা যায়। প্লেবয়ের অধিকাংশ মহিলারাই ক্যামেরার সামনে অত্যন্ত সাবলীল এবং আত্মবিশ্বাসী ভাবে পোজ দেন। যদিও তাঁদের মধ্যে অনেকেই প্রফেশনাল মডেল নন। মডেলদের ছবি যে ব্যাকগ্রাউন্ডে তোলা হয় তার পিছনেও বহু ভাবনা চিন্তা থাকে এবং আলোর ব্যবহার থাকেযথাযথ। প্লেবয়ের ফটোগ্রাফাররাও খুব নামী এবং সুদক্ষ।
শৈল্পিক দিক থেকে প্লেবয়ের ছবিগুলি সুন্দর হলেও যৌনতার দিকটাকেও খেয়ালে রাখা হয়। মূলত পুরুষের মনে কামনা জাগিয়ে তোলার জন্যই যে ছবিগুলি তা মডেলদের এক্সপ্রেসন এবং ভঙ্গিমা দেখলেই বোঝা যায়। যুগের সাথে সাথে প্লেবয় মডেলদের স্টাইলও পালটেছে।
প্লেবয়ের জন্য প্রফেশনাল মডেল ছাড়াও বহু অভিনেত্রী, খেলোয়াড়, সাংবাদিক, শিক্ষিকা, ছাত্রী এবং অফিসাররা নগ্নাবস্থায় পোজ দেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই উচ্চশিক্ষিত অথবা ইউনিভার্সিটির ছাত্রী । বড় বড় কোম্পানি যেমন ওয়াল মার্ট এবং ম্যাকডোনাল্ডসের মহিলা কর্মচারীদের জন্য প্লেবয় নানা নগ্ন ছবির সিরিজ করেছে।
বিরাট কোম্পানি এনরন যখন বন্ধ হয়ে যায় তখন প্লেবয় এনরনের বেশ কিছু মহিলা কর্মচারীদের মডেলিঙের সুযোগ দিয়েছিল । এছাড়াও প্লেবয় বহু যমজ বোনের একসাথে ছবি প্রকাশিত করেছে । প্লেবয় যে কোথা থেকে এত সুন্দরী যমজ বোন যোগাড় করে তা এক আশ্চর্যের বিষয় ।
ছবি প্রকাশনা ছাড়াও প্লেবয় তার মডেলদের নিয়ে প্রচুর হোম ভিডিও প্রকাশ করেছে। সুন্দর মিউজিকের সাথে যথাযথভাবে তোলা ভিডিওগুলি খুবই উঁচুদরের । এই ভিডিওগুলিতে নানাভাবে উলঙ্গ নারীশরীর দেখানো হয় কিন্তু কোন যৌনক্রিয়া দেখানো হয় না। ভিডিও গুলিতে অনেকসময় মডেলদের সাক্ষাৎকারের সাথে তাদের বাড়ির লোকেদের সাক্ষাৎকারও দেখানো হয়।
আমেরিকার এক চতুর্থাংশ কলেজ ছাত্র প্লেবয় পত্রিকার গ্রাহক। পত্রিকাটিতে নগ্ন ছবি ছাড়াও নানা রকম বিষয়ের উপর লেখা প্রকাশিত হয়। অবশ্য প্লেবয়ের ওয়েবসাইটগুলিতে শুধুমাত্র ছবি এবং ভিডিও রাখা থাকে।
প্লেবয় পশ্চিমি সভ্যতার প্রতীক এবং নগ্ন নারীশরীর নিয়ে ব্যবসা করাই এর মূল উদ্দেশ্য। তাই বহু দেশে প্লেবয় নিষিদ্ধ। আবার অনেক লোকের বক্তব্য যে প্লেবয় মডেলদের শরীর অনেকটাই সিন্থেটিক তাদের মধ্যে প্রকৃত সৌন্দর্য খুব কম। কিন্তু ইন্টারনেটের প্রসারের সাথে প্লেবয়েরও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরেক দিক থেকে বিচার করলে প্লেবয় নারীস্বাধীনতারও প্রতীক। কারণ এখানে সব মহিলারাই স্বইচ্ছায় নিজেদের উলঙ্গ ছবি তোলেন। মেয়েদের শরীরের মালিক যে মেয়েরাই তাদের স্বামী, সমাজ অথবা ধর্ম নয় তা প্লেবয়ের জন্য পোজ দিয়ে তাঁরা প্রমান করেন। তাঁদের শরীর নিয়ে তাঁরা কি করবেন সেটা তাঁদের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাঁদের অনেকরই বক্তব্য যে তাঁদের যদি দেখাবার মতো সুন্দর শরীর থাকে তাহলে তাঁরা তা অবশ্যই দেখাবেন তাকে আজীবন ঢেকে রাখার কোন মানে হয় না।


