বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইউক্রেনে বিধ্বস্ত হয় এমএইচ১৭

Dutch_safety_board_গত জুলাইয়ে ইউক্রেনের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল – তা একটি রাশিয়ায় তৈরি বিমানের আঘাতেই ধ্বংস হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে এ সংক্রান্ত প্রথম সরকারি তদন্ত রিপোর্ট। ডাচ সেফটি বোর্ডের প্রধান টিবে জুস্ট্রা এ রিপোর্ট উপস্থাপন করেন।

গত বছর ১৭ই জুলাই নেদারল্যান্ডসের আমস্টার্ডাম শহর থেকে কুয়ালালামপুর যাবার পথে বিধ্বস্ত বোয়িং ৭৭৭ বিমানটির ২৯৮ জন আরোহীর অধিকাংশই ছিলেন ডাচ নাগরিক।

যুদ্ধবিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউক্রেনের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় একটি সোভিয়েত বিইউকে মিসাইলের আঘাতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

পশ্চিমা দেশগুলো এবং ইউক্রেন ঘটনার পর অভিযোগ করেছিল যে রাশিয়া-সমর্থিত বিদ্রোহীরাই বিমানটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এমএইচ১৭ ফ্লাইট রাশিয়ার তৈরি ৯এম৩৮ বিউক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই ইউক্রেইনে বিধ্বস্ত হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে ডাচ সেফটি বোর্ডের প্রতিবেদনে।

ঘটনাটি খতিয়ে দেখার পর চূড়ান্ত এ ডাচ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি বিমানের সামনে বাম দিকে আঘাত হানে। ফলে বিমানটি ভেঙে পড়ে।

ওই দুর্ঘটনার পর থেকেই পশ্চিমা ও ইউক্রেইন সরকার বলে আসছে পূর্ব ইউক্রেইনের রাশিয়া-সমর্থিত বিদ্রোহীরাই বিমানটিকে ভূপাতিত করেছে।কিন্তু রাশিয়া একথা অস্বীকার করে বলে আসছে ক্ষেপণাস্ত্রটি ইউক্রেইন-নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকেই ছোড়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে ঘটনার জন্য কাউকে দোষারোপ করা না হলেও বলা হয়েছে আকাশসীমা বন্ধ রাখা উচিত ছিল।

গত বছর ১৭ জুলাইয়ে আমস্টার্ডাম থেকে কুয়ালালামপুর যাওয়ার পথে পূর্ব ইউক্রেইনে ২৯৮ জন আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হয় এমএইচ১৭। ওই সময়টিতে ইউক্রেইন সরকার এবং রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে সংঘর্ষ চরমে ছিল।

বিমানের নিহত যাত্রীদের মধ্যে ১৬৯ জন ছিল ডাচ এবং ১০ জন ব্রিটিশ নাগরিক।

ডাচ সেফটি বোর্ড তাদের এ প্রতিবেদন প্রথমেই প্রকাশ করেছে নিহত যাত্রীদের স্বজনদের কাছে। পরে নেদারল্যান্ডসের সামরিক ঘাঁটিতে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিবেদনটি নিয়ে ব্রিফিং দেয়া হয়।

কয়েকমাস পরই ডাচ সেফটি বোর্ড আলাদাভাবে একটি অপরাধ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

সেফটি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, বিমানটি খুব সম্ভবত রাশিয়ার তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই বিধ্বস্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া এবং ইউক্রেইন দু’দেশের সেনাবাহিনীরই এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র আছে।

পশ্চিমা কর্মকর্তারা ও ইউক্রেইন সরকারের ভাষ্য, ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়া থেকেই কেনা এবং সেটি ছোড়া হয়েছে ইউক্রেইনের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে।

ডাচ প্রতিবেদনটি প্রকাশের দিন মঙ্গলবার সকালেই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ আবারো অস্বীকার করেছে বিউক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির রাষ্ট্রীয় কোম্পানি।

আরও পড়ুন