পর্তুগাল সংবাদদাতা (লিসবন থেকে):
ইউরোপে বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশিরা চাইলে পর্তুগালে এসে বৈধতা নিতে পারেন। পর্তুগাল ইমিগ্রেশন থার্ড কান্ট্রি অভিবাসীদের জন্য একটি অভিবাসন আইন চালু করেছে। ইমিগ্রেশন আর্টিকেল নম্বর ৮৮-২ ধারাতে আপনি পর্তুগালের বৈধতা পেতে পারেন, তবে শর্ত হচ্ছে আপনাকে ইউরোপ বৈধ পথে এসেছেন তার প্রমাণ দেখাতে হবে। তার মানে আপনি ইউরোপ ভিসা নিয়ে এসেছেন এবং আপনার পাসপোর্টে ইউরোপের যেকোনো এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সিল আছে ইত্যাদি প্রমাণাদি দেখাতে হবে। তবে আবার পর্তুগালের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে নতুন পাসপোর্ট নিয়েও আপনি পর্তুগালের অভিবাসী হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এই ক্ষেত্রে সময় একটু বেশি লাগবে। এ ছাড়া এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অধিবাসীদের জন্যও একইরকম সুযোগ রয়েছে।
পর্তুগালের ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী, “যে কেউ যদি বৈধভাবে প্রবেশ করে এবং কমপক্ষে ছয় মাস পর্তুগালে অবস্থান করে সরকার নির্ধারিত ট্যাক্স পরিশোধ করে তাহলে সেখানকার রেসিডেন্সির জন্য আবেদন করতে পারে। কেউ যদি ছয় বছর এই রেসিডেন্সি নিয়ে বসবাস করে এবং তার বিরুদ্ধে কোনও ক্রাইমে জড়িত থাকার প্রমাণ না থাকে তাহলে সে পর্তুগিজ ন্যাশনালিটি পেতে পারে।”
ইউরোপের অন্যান্য দেশ যেমন ইতালি, গ্রিস, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, জার্মানিসহ অন্যান্য দেশে যেহেতু নাগরিকত্ব পাওয়াটা অনেক জটিল এবং অনেক দীর্ঘ প্রক্রিয়া কাজেই যারা ইউরোপে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান তারা সাধারণত পর্তুগালকেই বেছে নেয়। পর্তুগিজ পাসপোর্টধারী বাঙালিদের সংখ্যা অনেক, যারা এখন পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। তাছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য করাও এখানে অনেক সহজ বিধায় বাংলাদেশিরা এখানে সহজেই নাগরিকত্ব পাওয়ার আগ পর্যন্ত থাকতে পারেন। এই কারণেই মূলত এখানে বাংলাদেশিরা অভিবাসী হয়।
ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় ইউরোপে প্রবাসী বাংলাদেশীদের নতুন ঠিকানা হয়ে উঠছে পর্তুগাল। আর মন্দা কাটিয়ে ওঠায় নতুন করে সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থানের সুযোগও। একে নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছেন পর্তুগালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ। তার মতে, খরচ ও মানের বিবেচনায় পর্তুগাল হতে পারে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের আশ্রয়।
পর্তুগীজদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ইতিহাস বলছে, ভাস্কো দা গামার পথ ধরে ষোড়শ শতাব্দীর শুরুর দিকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে আসে পর্তুগিজরা। এদেশে বসতি গড়া পর্তুগীজদের হাতে যেমন ‘চট্টগ্রাম বন্দর’ তৈরি হয়েছিলো তেমনি বাংলাদেশে খ্রীস্ট ধর্মের শুরুও হয়েছিলো তাদেরই হাতে। সম্পর্ক এতটাই গভীর ছিলো যে, এখনও পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার পর্তুগিজ শব্দ ব্যবহার হয় বাংলা ভাষায়।
তবে এরপর সম্পর্কে ছেদ পরে। যদিও একটু দেরীতে হলেও সেই সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে হাত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। পর্তুগালে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাসের কার্যক্রম। এগিয়ে আসছেন নতুন নতুন উদ্যোক্তাও।
পর্তুগালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ইউরোপে এখন পর্তুগালের সবচেয়ে সহজ ইমিগ্রেশন পলিসি। এই সহজ ইমিগ্রেশন পলিসির জন্য যারা অবৈধভাবে ইউরোপে এসেছেন এবং বৈধভাবে এসেও পরবর্তীতে অবৈধ হয়ে গেছেন বা বিভিন্ন কারণে যারা এখনো লিগাল স্ট্যাস্টাস পায়নি তাদের জন্য পর্তুগালে একটি সুযোগ আছে। এবং সে কারণেই দেখেছি গত এক বছরে পর্তুগালে অনেক লোক আসছে।
ইউরোপের মধ্যে পর্তুগালই দিচ্ছে বৈধ উপায়ে অভিবাসী হওয়ার সুযোগ। সে কারণেই এরই মধ্যে নানা দেশ থেকে পর্তুগালে ছুটছে বাংলাদেশীরা। রাষ্ট্রদূত বলেন, তাদের চেষ্টা শুধু মানুষে-মানুষে সম্পর্ক নয় বরং বাণিজ্য বৃদ্ধি।
এ বিষয়ে পর্তুগালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বা মালয়েশিয়ার আমাদের শ্রমিকরা যেভাবে আছেন তার চেয়ে খুব ভালো অবস্থায় পর্তুগালে থাকতে পারবেন শ্রমিকরা। এছাড়া শিক্ষার মান ও খরচের বিচারে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের স্বর্গ হয়ে উঠতে পারে পর্তুগালে।
পর্তুগালে নাগরিত্ব পেতে যা করতে হবে:
নিচের শর্তাবলী গুলো ভালো করে লক্ষ্য করুণ এবং এই শর্তাবলী পূরণের ফলে আপনারা যে কেউ পর্তুগালে বৈধ হতে পারবেন।
১। আপনি ইউরোপে বৈধভাবে প্রবেশ করেছেন তার প্রমানাদি দেখাতে হবে। অর্থাৎ আপনাকে ইউরোপের সেনজেনভুক্ত যেকোনো দেশের ভিসা নিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করতে হবে। (তবে সাইপ্রাস, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, ইউকে, আয়ারল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া এই দেশসমুহের ভিসা বাদে)
২। প্রথমে আসা সেনজেনভুক্ত ওই দেশ থেকে আপনি পর্তুগালে বৈধভাবে প্রবেশ করেছেন, যেমন বিমানের টিকেট, বাসের টিকেট বা ট্রেনের টিকেট ইত্যাদি দেখাতে হবে (যদিও ইমিগ্রেশন আবেদনের অফিস থেকে আগে এসব চাইতো না কিন্তু এখন এইসব বাধ্যতামূলক লাগবে।)
৩। পর্তুগাল প্রবেশের পর আপনাকে নিজস্ব আইডেনটিফিকেশন (পাসপোর্ট) দেখিয়ে ট্যাক্স অফিস থেকে ট্যাক্স কার্ড করিয়ে নিতে হবে। পর্তুগিজ ট্যাক্স নাম্বার যাকে NIF বলা হয়ে থাকে। পর্তুগিজ ভাষায় যাকে বলে Número de Indentificação Fiscal (NIF)। এতে সরকারি ফি’র খরচ পড়বে ১০.২০ ইউরো। তবে এটি পেতে হলে আপনার সঙ্গে পর্তুগালে যেকোনো বৈধ ব্যাক্তির রেফারেন্স লাগবে অর্থাৎ আপনার ট্যাক্স কার্ড করতে হলে যাদের পর্তুগাল রেসিডেন্স কার্ড আছে তাকে সঙ্গে যেতে হবে। যদি এমন কেউ সঙ্গে না যায়, বা যোগাড় করতে না পারেন তবে সে ব্যবস্থাও আছে। এজন্য একজন স্থানীয় ‘উকিল’-এর সাহায্য নিতে পারেন, যার জন্য আপনাকে ১৫০-২০০ ইউরোর মতো গুণতে হতে পারে।
৪। ট্যাক্স কার্ডের পর আসল প্রক্রিয়া শুরু করতে হলে পর্তুগালে আপনাকে বৈধ ভাবে প্রবেশের পর জব/কাজের কন্ট্রাক্ট দেখাতে হবে, যা হবে অন্তত ৬ মাসের। আর পর্তুগালে এ জব কন্ট্রাক্ট পাওয়া বা ম্যানেজ করা এখন অনেকটা দুস্কর বলা চলে। নরমালি কাগজের জন্য এই জব কন্ট্রাক্ট টাকা দিয়ে বাঙালি, পাকিস্তানি, ইন্ডিয়ান, আফ্রিকানদের কাছ থেকে কিনতে হয়। সে ক্ষেত্রে টাকার পরিমাণ ২০০০-২৫০০ ইউরো পর্যন্ত হয়ে থাকে (কম বেশি হয়ে থাকে)। তবে যদি আপনার কোনও বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজন আপনাকে হেল্প করেন তাহলে জব কন্টাক্ট পেতে এই টাকার খরচ থেকে বেঁচে যাবেন নিঃসন্দেহে।
৫। পর্তুগিজ social security number যা সংক্ষেপে NISS বলা হয়ে থাকে (Número de Identificação de Segurança Social – NISS ) এটা আপনি যখন পর্তুগালে কোনও মালিকের অধীনে কাজ করবেন বা যেকোনো দেশের মালিকের কাছ থেকে কাজের কন্ট্রাক্ট করালে এই নাম্বার পারেন।
৬। জব কন্ট্রাক্ট হাতে পাওয়ার পর প্রত্যেক মাসে আপনাকে নিজের পকেট থেকে ১৭৫.৪৯ ইউরো করে গুনতে হবে। (মিনিমাম বেতন ৫০৫ ইউরো-এর জন্য এই ট্যাক্স, তবে বেতন বেশি দেখালে ট্যাক্স এর পরিমাণ বেশি হবে)। নরমাল হিসাব হল, আপনাকে পেপারস হবার আগ পর্যন্ত ট্যাক্স পে করে যেতে হবে। আপনি শুধুমাত্র পেপারস পাওয়ার জন্য কাগজে-কলমে জব দেখাবেন। আসলে আপনি নিজের পকেট থেকেই সব টাকা খরচ করছেন। পর্তুগীজদের অধীনে ‘আসল চাকরি’ পেলে এই টাকা সেভ হয়ে যাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো পর্তুগালে অবৈধ অবস্থায় স্পেশাল কোনও লিঙ্ক ছাড়া প্রাথমিক অবস্থায় পর্তুগীজ জব পাবেন না, আর ভাষাগত একটা প্রবলেম তো থেকেই যায়। এই কারণে ‘চাকরি যোগাড় করে নিজেকে চাকরিজীবী দেখিয়ে নিজে নিজে ট্যাক্স দেওয়া ছাড়া প্রথম পর্যায়ে কোনো উপায় থাকে না।
৭। নরমালি যারা সেনজেনভুক্ত দেশের ভিসা নিয়ে পর্তুগাল প্রবেশ করবেন তারা মিনিমাম ৬টা ট্যাক্স দেয়ার পর ইমিগ্রেশনে রেসিডেন্স পারমিট এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। সব ডকুমেন্টস ঠিক থাকলে এবং কপাল অতিশয় ভাল হলে ৬টা ট্যাক্স দিয়েই রেসিডেন্স পারমিট পাওয়া যেতে পারে। তবে আবার অনেকের ক্ষেত্রে ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। আর যারা বিশেষ করে সেনজেন বৈধ ভিসা ছাড়া বা যেকোনো উপায়ে এসে পর্তুগালের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সাদা পাসপোর্ট নিয়েছেন তারা ২০১৩ সালের আগে পর্যন্ত রেসিডেন্স পেতে লিগ্যালভাবে পর্তুগালে অনেক সময় লেগে যেত। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে সেই আইনে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে পর্তুগীজ বর্ডার অ্যান্ড ফরেইনার সার্ভিস (www.sef.pt)। ২০১৩ সালের আগে সাদা পাসপোর্টে এন্ট্রি যাদের পর্তুগালে, তারা মিনিমাম ১৮-২৪ মাস ট্যাক্স পে করতে হত যা বর্তমানে ১২ থেকে ১৮ তে পরিবর্তন করা হয়েছে । এখন ভিসা ছাড়া যারা যারা পর্তুগালে পেপারস করতে চান তারা এই সূত্র অনুসরন করতে হবে অর্থাৎ আপনাকে মিনিমাম ১২-১৮ টি মাসিক ট্যাক্স পে করে রেসিডেন্স পারমিট এর জন্য আবেদন করতে হবে ।
৮। আরও কিছু ডকুমেন্টস লাগবে। সেই বিষয় গুলো এখানে আলাদাভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হল। বাংলাদেশী পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালায় থেকে সত্যায়িত করে আনার পর পর্তুগিজ ভাষায় অনুবাদ করে বাংলাদেশ অ্যাম্বাসি অফ লিসবন থেকে সত্যায়িত করতে হবে। এছাড়া লাগবে পর্তুগাল-এর পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন- এর পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। এই ২টা সার্টিফিকেটই একই অফিস থেকে তুলতে হয়। পর্তুগালের লিসবনে Loja do cidadão নামে একটা অফিস আছে, ওই অফিস থেকে ওই সার্টিফিকেট ২টা তুলতে পারবেন। ২ টার জন্য ১২ ইউরো খরচ হবে। আপনি যদি অন্য কোনও দেশে ৬ মাসের বেশি অবস্থা করেন যেমন লন্ডন, সাইপ্রাস আয়ারল্যান্ড রোমানিয়া এই সকল দেশে ছাত্র ছিলেন পরে সেনজেন ভিসা নিয়ে ইউরোপ ঢুকেছেন তাদের ক্ষেত্রে যে যে দেশে অবস্থা করেছেন, ওই ওই দেশের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট লাগবে বাধ্যতামূলক। কিংবা ইতালিয়ান ভিসা নিয়ে ইতালি এসেছেন ৬ মাসের ও বেশি সময় ইতালি কাটিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রেও ইতালিয়ান পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট লাগবে। অন্য কোনও ভাষায় হলে তা পর্তুগীজ ভাষায় অনুবাদ করে নোটারি করতে হবে। আপনি যে ৬টি ট্যাক্স প্রদান করেছেন সেটার সার্টিফিকেট যা Social Security Office থেকে আপনি যতবার খুশি বিনা পয়সায় তুলতে পারবেন। তবে সেটার জন্য লম্বা লাইন দাঁড়াতে হবে। Proof of Address, আপনি যে মিউনিসিপালিটি তে থাকেন সেখান থেকে এই সার্টিফিকেট টা নিতে হবে। এটা পাওয়া যাবে Junta de freguesia- নামের এই অফিসে। পর্তুগালে আপনি যে এলাকায় থাকেন সেখখানকার Junta de freguesia- অফিস থেকে এটা নিতে ১০ ইউরো খরচ পড়বে। তবে ৩ দিন আগে আবেদন করতে হবে। এক দিনেও নিতে পারেন তবে ৩০ ইউরো চার্জ দিতে হবে।
৯। আপনার ফাইল ইমিগ্রেশন পোর্টালে এন্ট্রি করার পর আপনাকে একটা আইডি ও গোপন নম্বর (পাসওয়ার্ড) দেয়া হবে। ওই নম্বর ও আইডি নির্দিষ্ট জায়গায় (www.sef.pt) প্রবেশ করে আপনি আপনার ফাইলের স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। এরা যদি আপনাকে ইন্টারভিউ এর তারিখ দেয় তাহলে তা আপনি দেখতে পাবেন। সাধারণত অনলাইন তারিখ প্রদানের পর ঠিক ওই দিন ই ইমিগ্রেশন থেকে আপনাকে টেলিফোন করবে। তারা আপনাকে একটি ইন্টারভিউ তারিখ দেবে। ইন্টারভিউ এর তারিখ পাওয়ার পর উপরোক্ত ডকুমেন্টস সহ টাইম মত ইমিগ্রেশন অফিস-এ হাজির হতে হবে। তখন তারা যদি সব ডকুমেন্টস দেখে ওকে মনে করে, তাহলে ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে নিবে রেসিডেন্স পারমিট এর জন্য। ঠিক ওই সময়টায় আপনাকে ৮৯০ ইউরো অ্যাপলিকেশন ফি দিতে হবে ইমিগ্রেশন অফিসে। যেহেতু আপনি ভাষা পুরোপুরি আয়ত্বে আনতে পারবেন না তাই আপনার সাথে একজন স্থানীয় উকিল সাথে নিয়ে যাওয়া ভাল। উকিল আপনার কাছ থেকে আপনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল পরামর্শ ও কাজ করে দিবে, যারা সাধারণত এ জন্য ২০০ থেকে ৩০০ ইউরো পর্যন্ত নিয়ে থাকেন।
শেষ করার আগে পর্তুগাল রেসিডেন্স পারমিট পেতে হলে কত খরচ হবে তার মোটামুটি একটা হিসাব দিচ্ছি।
ট্যাক্স কার্ড করতে ১০.২০ ইউরো (এজন্য উকিল এর সাহায্য নিলে ১৫০ ইউরো)
জব কন্ট্রাক্ট ২০০০-২৫০০ ইউরো
ট্যাক্স প্রতি মাসে ১৭৫. ৪৯ ইউরো (৬ থেকে ১০ মাস, যাদের পাসপোর্টে ভিসা রয়েছে)
ইমিগ্রেশন ফি ৮৯০ ইউরো (সেখানে উকিল ফি ৩০০ ইউরো)
প্রতি মাসে থাকা-খাওয়ার খরচ গড়ে ২০০ ইউরো।
পরিশেষে একটি কথা বলতে চাই, যাদের পাসপোর্টে সেনজেন ভিসা আছে (মেয়াদ উর্ত্তীর্ণ), তাদের ১০০% গ্যারান্টি, ইউরোপের কোথাও রেসিডেন্ট পারমিটের কাগজ করতে না পারলেও পর্তুগালে যদি কাজের ব্যবস্থা করে ৬ মাস ট্যাক্স প্রদান করেন, তাহলে কাগজ আপনার হবেই। পর্তুগালে এসে আবেদনের পর প্রাথমিকভাবে যে রেসিডেন্ট পারমিট দেয়া হয় তার মেয়াদ থাকে ১ বছর। মেয়ার বাড়লে ২ বছরের জন্য, এই ভাবে ৫ বছর পর্তুগালে অবস্থানের পর আপনি পর্তুগালের নাগরিকত্ব পেতে পারেন। তবে আপনাকে পর্তুগিজ ভাষার দক্ষতা দেখাতে হবে কমপক্ষে ইউরোপিয়ান লেভেলে B2। তবে পর্তুগিজ ভাষা অনেক সহজ। খুব কম সময়ে আপনি আয়ত্ত করতে পারবেন চিন্তার কোনও কারণ নাই। আর সবশেষে সেই সব বাংলাদেশি ভাইদের অনুরোধ করবো, যারা অবৈধ অবস্থায় আছেন, কোথাও বসে না থেকে যদি আপনার পাসপোর্টে সেনজেন ভিসা থাকে তাহলে আর দেরি না করে পর্তুগাল থেকে পেপারস বানিয়ে নিয়ে আসেন। এরপর গোটা ইউরোপ তো আপনার, চাইলে পরে চলে যান আমেরিকা, কানাডায়।
পরিশেষে বলছি, এই কথাগুলো আমাদের দীর্ঘদিনের দেখা অভিজ্ঞতার কথা। আপনারা চেক করে নিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেবেন। আর কে কি করলেন, তা আমাদের লিখে জানাতে পারেন। এই ইমেইলে: [email protected], নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমের ফেসবুক পেজেও ইনবক্স করে জানাতে পারেন। আপনারা সবাই ভালো থাকুন।



