ভারতের শিলংয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ কিডনি সমস্যায় ভুগছেন। মানসিক ও শারীরিকভাবে তিনি ভালো নেই বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমেদ। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতের শিলংয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ হঠাৎ করেই অনুপ্রবেশ করেন। বিনা পাসপোর্টে দেশটিতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা চলছে। ৫ মে শিলংয়ের আদালত থেকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন পান তিনি। সালাহউদ্দিন শিলংয়ের একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি ভাড়া নিয়ে বাস করছেন। তিনি অসুস্থ থাকলেও ভারতের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে সব সময় নজরদারিতে রাখছেন। সালাহউদ্দিনের পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কাউকে দেখা-সাক্ষাত করারও অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলে সূত্র জানায়।
ভারতে সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে ঈদ উল আযহা উদযাপন করেছেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরেছেন। তিনি রাজধানীর গুলশানের বাসায় রয়েছেন। শিগগিরই তিনি আবার স্বামীর কাছে শিলংয়ে যেতে পারেন। ভারত থেকে দেশে ফিরে সাবেক এমপি হাসিনা আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, দীর্ঘদিন দেশ ও পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকায় সালাহউদ্দিন আহমেদ মানসিকভাবে নিরাসক্ত আর বিষন্নও হয়ে পড়েছেন। উনি ভালো নেই। কিডনিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসা চলছে।
মঙ্গলবার রাতে এ প্রতিবেদককে হাসিনা আহমেদ বলেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতের শিলংয়ে কোনো রকমে আছেন। হাসপাতালে নয় যেখানে ছিলেন ওখানেই আছেন। তার শারিরীক অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। সালাহউদ্দিন আহমেদ দেশে ফিরে আসতে পারবেন কিনা প্রশ্নের জবাবে হাসিনা আহমেদ বলেন, তার নামে মামলা রয়েছে। ভারতের আদালতে মামলা চলছে। এই মামলা কবে শেষ হবে জানি না। তাছাড়া এই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি দেশে ফিরতে পারবেন কিনা বলা কঠিন।
৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসাবে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের আয়োজন করেছিল বিএনপি। সমাবেশে খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত হতে পারলে সেখানেই অবস্থান নিতেন এরকম একটা খবর ছড়িয়ে পড়লে তিনি আর যেতে পারেননি। এ অবস্থায় নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ৩ জানুয়ারি রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দেখতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া বাসভবন থেকে রাত ৮টার দিকে তার গুলশানের কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে তিনি রাত ১০ টার দিকে রিজভীকে দেখার উদ্দেশ্যে নয়া পল্টনের কার্যালয়ে রওনা হন। তখন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে গেটে আটকে দেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন আর কার্যালয় থেকে বের হতে পারেননি। কার্যালয়েই অবস্থান নেন তিনি। অসুস্থ রিজভীকে নিয়ে এ্যাপোলে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়া গুলশানের কার্যালয় থেকে সারাদেশে টানা অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ২০ দলীয় জোটের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচির মধ্যে এ্যাপোলে হাসপাতাল থেকে গোপনে বের হয়ে রজভী আন্ডার গ্রাউন্ড থেকে বিবৃতি পাঠানো শুরু করেন। টানা অবরোধের পক্ষে বিভিন্ন পত্রিকায় বিবৃতি প্রকাশ পায়।
এরই মধ্যে রিজভীকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করে। রিজভী কারাগারে যওয়ার পর তার স্থানে দলের মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয় যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে। তিনিও আত্মগোপনে থেকে দলের পক্ষে বিবৃতি দেন। হঠাৎ তার বিবৃতি দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ১০ মার্চ তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ অভিযোগ করেন উত্তরার একটি বাসা থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সালাহউদ্দিন আহমেদকে তুলে নিয়ে গেছে।
অথচ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে নেননি। বিএনপি খালেদা জিয়া বক্তব্যে বলেছেন, সালাহউদ্দিন আহমেদকে সরকারের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছে। তাকে অবিলম্বে সরকারকে ফিরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু নিখোঁজ হওয়ার ২ মাস পর গত ১১ মে ভারতের শিলংয়ে তার সন্ধান পাওয়া যায়। উদ্ধারের পর প্রথম দিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বেশ বিপর্যস্ত ছিলেন বিএনপির এই নেতা। সেখানে একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসার পর এখন অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন তিনি। তবে এখনো তার চিকিৎসা চলছে। কবে দেশে ফিরতে পারবেন তা নিশ্চয়তা নেই।


