শেষ মুহূর্তের প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত বন্দর নগরী চট্টগ্রামের শত শত কারিগর। শুধু প্রতিমা তৈরি নয়, বিশাল বাজেটের বিভিন্ন থিমের আদলে তৈরি করা হচ্ছে প্রতিমা মণ্ডপও। এর মধ্যে বহুল আলোচিত ভারতীয় চলচ্চিত্র বাহুবলী যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার চিত্রও। আর এবার দুই হাজারেরও বেশি পূজা মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।
আর ক’দিন পরই দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা। পূজার দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততোই ব্যস্ততা বাড়ছে প্রতিমা তৈরির কারিগরদের।
কারণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করে প্রতিমা বুঝিয়ে দিতে হবে। তাই শেষ মুহূর্তের তুলির আঁচড়ের টানে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এবার ওরিয়েন্টাল কালারের প্রতিমার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
ঐতিহ্য ধরে রেখে এবারও বিশাল বাজেটের প্রতিমা মণ্ডপগুলো সাজানো হচ্ছে আকর্ষণীয় থিমের আদলে। ভারতীয় সিনেমা বাহুবলীর থিম নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে পূজামণ্ডপ। পাশাপাশি অবৈধভাবে সমুদ্রে পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় মানুষের মৃত্যু যাতে আর না ঘটে সে জন্য সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে করা হচ্ছে বিপন্ন মানবতা নামে পূজামণ্ডপ।
সিটি করপোরেশন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শৈবাল দাশ সুমন বলেন, ‘বিগত দশ বছরের যে রেকর্ড এবার আমরা তা ভাঙ্গার চেষ্টা করছি।’ হাজারী পল্লী পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জহুর লাল হাজারী বলেন, ‘সমুদ্র পথে যাত্রা করে মানুষ বিপন্ন হয়ে মারা যাচ্ছে। সেটা এবার আমরা মা দুর্গার পূজাতে দেখানোর চেষ্টা করব।’
এবার মহানগরীতে ২শ’ ৯৮টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয়া দুর্গোৎসব। এছাড়া জেলার ১৬টি উপজেলায় থাকছে অন্তত ১৮শ’ পূজামণ্ডপ। মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রত্মাকর দাশ টুনু বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি ভাল আর পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তারপরও আমরা প্রত্যেক পূজা মণ্ডপকে নির্দেশ দিয়েছি ১০ থেকে ২০ জন ব্যাচধারী স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার জন্য। সন্দেহজনক কাউকে দেখলে চার্জ করার জন্য।’ মহা-ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয়া দুর্গাপূজা। এবার মা দুর্গা আসবেন ঘোড়ায় চড়ে, আর পূজা শেষে ফিরে যাবেন দোলায় করে।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


