বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

আলোকিত হওয়ার অপেক্ষায় ‘সাবেক ১০ ছিটমহল’

hasina-34952বাংলাদেশের মূল ভূ-খণ্ডে যোগ হওয়া সাবেক ছিটমহলগুলোতে শুরু হচ্ছে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কার্যক্রম। ছিটমহল বিনিময়ের দু’মাসের মধ্যেই সরকারের এমন পদক্ষেপে খুশি বাংলাদেশের নতুন নাগরিকরা।

বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে আলোকিত হবে ১০টি ছিটমহল। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দাবি, চলতি বছরের মধ্যেই সাবেক সবকটি ছিটমহলে বিদ্যুৎ দিতে ১১ হাজার গ্রাহকের হিসেব ধরা হয়েছে। এজন্য নির্মিত হচ্ছে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার বিতরণ লাইন।

মাত্র দু’মাস হলো দূর হয়েছে স্বাধীনদেশের অভ্যন্তরে ‘পরাধীনভাবে থাকার’ যন্ত্রণা। ছিটমহল বিনিময়ের আগে যেখানে ন্যুনতম নাগরিক সেবাটুকুও পাওয়া যেতোনা, এখন সেখানে চলছে বিদ্যুতায়ন কর্মসূচি। চলছে বিতরণ লাইন নির্মাণ কাজ, ঘরে-ঘরে লেগেছে বৈদ্যুতিক মিটার।

গত ৩১ জুলাই মধ্যরাতে বাংলাদেশের অংশ হয়ে যাওয়া সাবেক ১১১টি ছিটমহলে উন্নয়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে এসে উদ্বোধন করবেন এই কর্মসূচি। স্বাধীন ভূমিতে বিদ্যুতের আলো উৎফুল্ল করেছে সেখানকার অধিবাসীদের।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিলুপ্ত ১১১ টি ছিটমহলের মধ্যে ৫২ টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় এবং কুড়িগ্রামের আওতাভুক্ত। প্রথম পর্যায়ে বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর দাশিয়ারছড়া, পঞ্চগড়ে দেবীগঞ্জ ও বোদায় ৫টি, নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ৪টি বিলুপ্ত ছিটমহল বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসছে।

বিদ্যুতায়ন কর্মসূচিকে সফল করতে এরই মধ্যে কুড়িগ্রামে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে পল্লী বিদ্যুতের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মঈন উদ্দিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের আওতাভুক্ত সব এলাকায় এ বছরের শেষ নাগাদ বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে।

বিদ্যুৎ সংযোগ কার্যক্রম উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ৬৮ বছরের আঁধার ঘুচবে অবহেলিত জনপদের, সচ্ছলতা আর সুশিক্ষায় মুক্তি মিলবে দীর্ঘকালের নাগরিকহীনতার গ্লানি থেকে। এমনটাই আশা সেখানকার আপামর জনতার।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম

আরও পড়ুন