জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ নিয়ে বিভিন্ন ক্যাডারের অসন্তোষ আন্দোলনে রূপ নিতে যাচ্ছে। প্রজ্ঞাপন জারির আগেই সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বহাল করার দাবি এবং বেতন বিলে ইউএনও’র সই বাতিল করার দাবিতে এক জোট হয়েছে বিসিএস সমন্বয় কমিটি। বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে আগামী ২৪ অক্টোবর বিসিএস সমন্বয় কমিটি ঢাকায় এক প্রতিনিধি সভার আহ্বান করেছে। ওই সভা থেকে পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। মঙ্গলবার গণপূর্ত অধিদফতরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বিসিএস সমন্বয় কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভা থেকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর প্রজ্ঞাপন জারির আগেই সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বহাল করার দাবি জানানো হয়। এছাড়া এই দাবিতে প্রকৌশীল, কৃষি ও চিকিৎসকদের যৌথ সংগঠন প্রকিৃচি’র সঙ্গেও মতবিনিময় করবে বিসিএস সমন্বয় কমিটি। সবমিলিয়ে বেতন স্কেল নিয়ে একটি বড় ধরনের আন্দোলনের দিকেই যাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন কর্মকর্তা নেতা নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমকে জানান, সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাদ দেওয়ায় বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মর্যাদা ক্ষুন্ন এবং তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করা হয়েছে।
বিসিএস সমন্বয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভ‚ইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপজেলা পর্যায়ের ‘সেলফ ড্রয়িং’ অফিসারদের বেতন-ভাতা বিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)’র স্বক্ষরের সিদ্ধান্তও বাতিলের জোর দাবি জানানো হয়। বৈঠকে বলা হয়, এ সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ইউএনওসহ উপজেলা কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পরিবীক্ষণ ও দায়বদ্ধতা নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে ন্যস্ত করতে হবে।
সভায় আরও বলা হয়, মহলবিশেষ সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতে বেতন স্কেল থেকে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাদ দেওয়া এবং বিধিলঙ্ঘন করে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বেতনভাতা বিলে ইউএনওর স্বাক্ষর করার মতো পদক্ষেপ নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। কর্মকর্তাদের মধ্যে ৯৮ দশমিক ৬৫ ভাগই চতুর্থ থেকে নবম গ্রেডে অবস্থান করেন। এর অধিকাংশ কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ের সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংশিষ্ট। বেতন স্কেল ২০১৫-এর মাধ্যমে এসব কর্মকর্তাদের মর্যাদাহানি এবং আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
বিসিএস সমন্বয় কমিটির একজন নেতা নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমকে জানান, সভায় ২০ অক্টোবরের মধ্যে বিসিএস সমন্বয় কমিটির উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় কমিটি পুনর্গঠন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এজন্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এ ছাড়া প্রকৃচি ও বিসিএস সমন্বয় কমিটি যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব সমস্যার সমাধানে তার হস্তক্ষেপ কামনা, বেতন বৈষম্য দূরীকরণসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, প্রকৌশলী কৃষি ও চিকিৎসক পেশাজীবী (প্রকৃচি) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমন্বয় কমিটির মতবিনিময়ের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া ২৪ অক্টোবর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে প্রতিনিধি সভা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রতিনিধি সভা থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ সময়ের মধ্যে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কমিটিসমূহ সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বেতন স্কেল ও উপজেলা কর্মকর্তাদের বেতনভাতা বিলে ইউএনওর স্বাক্ষর করার নেতিবাচক দিক নিয়ে মতবিনিময় করবে।
সভায় বিসিএস সমন্বয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. মুশতাক হোসেন, মহাসচিব ফিরোজ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মাসুমে রব্বানী, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ড. জিএম ফার“ক ডন, প্রচার সম্পদক স. ম. গোলাম কিবরিয়া, বন ক্যাডারের সভাপতি ও প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুস আলী, কৃষি ক্যাডারের সভাপতি তাসাদ্দেক আহমেদ, মহাসচিব মো. খায়র“ল আলম প্রিন্স, সড়ক ও জনপথ ক্যাডারের সাধারণ সম্পাদক মো. আমান উল্লাহ, স্বাস্থ্য ক্যাডারের সভাপতি ড. আ. ম. সেলিম রেজা, ইকােনমিক ক্যাডারের মহাসচিব আফরোজা মোয়াজ্জেম, সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সভাপতি অধ্যাপক নাসরিন বেগম, মহাসচিব আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার, কর ক্যাডারের ফজলুল হক, তথ্য বেতার ক্যাডারের সায়েদ মস্তেফা কামাল, মৎস্য ক্যাডারের মহাসচিব মজিবুর রহমান, প্রাণিসম্পদ ক্যাডারের সভাপতি মো. মাহবুব আলম ফারুক, গণপূর্ত ক্যাডারের মহাসচিব এ কে এম মনিরুজ্জামানসহ সমন্বয় কমিটি ও বিভিন্ন ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



