দুই বিদেশিকে খুন করে বাংলাদেশে স্থিতিশীল অবস্থা নস্যাতের চেষ্টা হলেও পরিস্থিতি সরকারের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ঢাকায় নেদারল্যান্ডসের নতুন রাষ্ট্রদূত লিওনি মার্গারেটা কুলিনারে বুধবার দেখা করতে গেলে তাকে আশ্বস্ত করে সরকার প্রধান বলেন, “পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
বাংলাদেশে নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের চলাফেরায় অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সতর্ক বার্তার মধ্যে সম্প্রতি পাঁচ দিনের ব্যবধানে ঢাকা ও রংপুরে খুন হন এক ইতালীয় এবং এক জাপানি।
এই হত্যাকাণ্ডে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের জড়িত থাকার দাবি উঠলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার।
শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুন্ন করতেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। একটি পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”
ইউরোপের দেশটির রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনায় শেখ হাসিনা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার সরকারের ‘জিরো টলারেন্সের’ বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন বলে তার প্রেসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নেদারল্যান্ডসের নতুন রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে কৃষিখাত এবং ভূমি পুনরুদ্ধারে তার দেশের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বর্তমান বিশ্বকে ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী একে অন্যের পরের ওপর নির্ভরশীলতার কথা তুলে ধরে পারস্পরিক সহযোগিতার কথাও বলেন।
পানি ব্যবস্থাপনা এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্পে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয় বলে জানান ইহসানুল করিম।
বাংলাদেশকে ‘সুন্দর দেশ’ অভিহিত করে বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখার কথা বলেন নতুন ডাচ রাষ্ট্রদূত।
‘চ্যাম্পিয়ন্স অফ দ্য আর্থ’ এবং টেকসই ডিজিটাল কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আইটিইউ পুরস্কার পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান লিওনি কুলিনারে।
সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা বা এমডিজি পূরণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসাও নতুন রাষ্ট্রদূত করেন বলে প্রেসসচিব জানান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ সব ক্ষেত্রেই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
লিওনি কুলিনারে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবকে আন্তর্জাতিক সমস্যা উল্লেখ করে তা মোকাবেলায় সহযোগিতার কথা বলেন।


