অসুস্থ স্ত্রীকে রেখে পরকীয় প্রেমে মত্ত হয়ে ওঠা সাংবাদিক রকিবুল ইসলাম মুকুল সাংবাদিক নাজনীন আখতার তন্বীকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন। গত ৬ অক্টোবর এতে স্বাক্ষর করা রয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী তিন মাস পর আগামী ৫ জানুয়ারি তাদের তালাক কার্যকরের আবেদন করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে নাজনীন আখতার তার ফেসবুকে একটি নাতিদীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমের পাঠকেদের জন্য এখানে তা দেয়া হলো:
“কথা সাহিত্যিক রকিবুল ইসলাম মুকলের কাছ থেকে এ পত্রখানা পেলাম। তাতে লেখা-“দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে আমাদের মাঝে নানা বিষয়ে কলহ বিবাদ সৃষ্টি হয়। জনাবা নাজনীন আখতার তার বেপোরোয়া জীবন যাপন, স্বামীর অবাধ্যতা, আমার মা ও আত্মীয় স্বজনের সহিত দুর্ব্যবহার, স্বামীর প্রতি ভক্তি না থাকা ও অবহেলা প্রদর্শন করা যা স্বামী স্ত্রী হিসাবে আমাদের সাংসারিক জীবনেকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। আমি শত চেষ্টা করে এবং আমাদের একমাত্র কন্যা সন্তানের সুখের কথা চিন্তা করেও জনাবা নাজনীন আখতারকে সঠিক পথে আনতে ব্যর্থ হয়ে অদ্য ০৬/১০/২০১৫ খ্রিঃ, ২১ আশ্বিন ১৪২২ বঙ্গাব্দ মোতাবেক স্বাক্ষীগণের সম্মুখে স্বজ্ঞানে, সুস্থ্য মস্তিস্কে, অন্যের বিনা প্ররোচনায় জনাবা নাজনীন আখতারকে তালাক প্রদান করিতেছি।”
শুনলাম তার রক্ষিতার জন্মদিন ছিলো ৫ অক্টোবর। জনাব মুকুল রক্ষিতাকে জন্মদিনের বিশেষ উপহার হিসাবে আমাকে দেয়া এ তালাকনামা পাঠিয়েছেন। এটা কার্যকর হবে তিন মাস পর অর্থাৎ ৫ জানুয়ারি। মুকুল সাহেবের জন্মদিনে। আমার জানা মতে, ওইদিন তার জন্মদিন (কথাটি এ কারণে বললাম তার মা বা পরিবারের কেউ তার জন্মদিনের তারিখ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। তারা কখনও তার জন্মদিন পালন করেনি। কোনদিন শুভেচ্ছা জানাতেও দেখিনি। আমি তার জন্মদিন পালনের প্রচলন করি। তারা শুধু বলতে পারেন তিনি পৌষ মাসে জন্মেছেন। সনদে তার জন্মদিন ৩০ মে লেখা।) যাই হোক অভিনন্দন রকিবুল ইসলাম মুকুল।
১১ বছর আগে যে মাসে আপনার সঙ্গে আমার প্রেম হয়েছিলো সেই মাসেই বিচ্ছেদ ঘটাতে পেরেছেন। আমি তালাকনামা পেয়েছি তা দুনিয়াকে জানানোর কিছু নেই। এটা গর্ভবতী নারীর মতোই সময়ে স্পষ্ট হয়ে যায়। আমি জানালাম এই কারণে যে জনাব মুকুল যে ভাষায় আমাকে তালাক দিলেন সেটার আদৌ কোন প্রয়োজন ছিলো কী না। একটি সম্পর্ক শেষ করার মুহুর্তেও কী শেষ সম্মানটুকু দেয়া যায় না! আমি কী আসলেই তা? আমি সন্তান হারানো অবুঝ মা যিনি সন্তানের সঙ্গে থাকার লোভে মরতে গিয়েছিলেন। যিনি তিনজনের পরিবারটিতে তিনজনই যেন একসঙ্গে থাকা যায় সেজন্য মরিয়া ছিলেন! মরতে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো স্বামীর দিকে অর্থপূর্ণ দৃ্ষ্টিতে তাকিয়েছিলেন। স্বামী জেনে বুঝেও চুপ ছিলেন এবং বুদ্ধিমানের কাজ করেছিলেন। সেদিন আপনি সন্তানকে বাঁচাতে জমি বিক্রি করেননি। আজ নিজের সুখের জন্য দুই কোটি টাকা দিয়ে জমি বেঁচেছেন। তার মাকে এই ‘বেপরোয়া‘ নারী মা ডাকতেন বিয়ের আগে থেকেই। কথা হতো নিয়মিত। বিয়ের পর দিনে দিনে সম্পর্কটা হয়ে উঠলো বন্ধুর মতো। এখন এসব বলে লাভ নেই। কারণ সেই মা গণেশ উল্টানোর মত এখন পুরাই উল্টে গেছেন। আমি স্বামীকে এতটাই ‘অবহেলা প্রদর্শন’ করেছি এবং ‘ভক্তি না’ করেছি যে আমার সঙ্গে যারা বিদেশ সফরে (ছোট্ট উদাহরণ হিসাবে) যেতেন তারা মাত্রই টের পেতেন! আমার চন্দ্রমুখীসহ বাসার সবার জন্য যত টাকায় উপহার কিনেছি সে পরিমান টাকা দিয়ে একা তার জন্যই উপহার কিনেছি। তিনি খেতে পছন্দ করেন এমন কিছু কোনদিন একা খেয়েছি বলে মনে পড়ে না। এতটাই কম ভক্তি করতাম যে তার জন্য নিজের পুরস্কারের টাকা আর বোনের কাছ থেকে টাকা এনে তার জমি কিনতে দিয়েছিলাম। এমন উদাহরণ লাখো লাখো। তিনি লিখেছেন তিনি তার কন্যা আয়রার মুখের দিকে তাকিয়ে আমাকে ‘সঠিক’ পথে আনতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন! আহা ! এই কারণেই বুঝি তিনি স্ত্রী অসুস্থ গর্ভবতী থাকা অবস্থায় আলাদা বাড়ি ভাড়া করে রক্ষিতা পোষা শুরু করেছিলেন! রক্ষিতাকে খুশি রাখতে তার কন্যার জন্মের দিন দেখতেও যাননি। তিনদিন পর আমি হাসপাতাল থেকে বাসায় আসার পর পাড় মাতাল অবস্থায় মেয়ের মুখ প্রথম দেখেছিলেন। তার তালাকনামায় স্বাক্ষী কে কে ছিলেন খুব জানতে ইচ্ছা করছে। নিশ্চয় তিনবার হজ্জ করে আসা তার মামা-মামী। যারা আমার বন্ধু-সহকর্মীদের বলেছিলেন ‘ তোমরা সাংবাদিক কমিউনিটিকে জানাও। মুকুলের বিরুদ্ধে যেন তারা ব্যবস্থা নেয়। মুকুল যে অন্যায় করছে তাতে আল্লাহ কোনদিন তাকে মাফ করবে না। ও ড্রেনে পড়ে মরবে। ’ কারও ‘প্ররোচনায়’ তালাক দেননি এটা শুনেও কেমন যেন হাসি পাচ্ছে ( একটা বহুগামী গাধীর বিরক্তিকর চেহারা ভেসে উঠছে)। যাই হোক মুকুল সাহেব আপনাকে আবারও অভিনন্দন। ধন্যবাদ আপনাকে, আমার সুখের সময়ে জ্বলজ্বলে সময়ে আমার সঙ্গে থাকার জন্য এবং সন্তান হারানো শোকে অসুস্থ আমাকে মাত্র ৬ মাসের মধ্যে ছুঁড়ে ফেলে দেয়ার জন্য। মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে আমি। সংসার আঁকড়ে থাকার সংস্কারের কারণে এমন তালাকের চিঠি দেয়ার ইচ্ছা যেমন করেনি। তেমনি কখনো স্বামীর কাছ থেকে তা পাব তা কল্পনাও করিনি। সবই নিয়তি! শুরু আর বিচ্ছেদের দুটো ছবি দিতে ইচ্ছা হলো। থাকুক এ দুটো আমার টাইমলাইনে পোড়া নিয়তি হয়ে।
প্রসঙ্গত: মুকুলের নির্যাতন সইতে না পেরে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক নাজনীন আখতার গত ২৫ জুন তার স্বামী মুকুল ও মেহেরুন বিনতে ফেরদৌস ওরফে সিঁথির বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ মুকুলকে আটক করে। পরকীয় প্রেমিকা সিঁথিও পরে ধরা দেয়। এর দুই জনেই অবশ্য জামিনে রয়েছে।
মামলায় নাজনীন আখতার অভিযোগ করেন, ২০১৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর একমাত্র মেয়ে চন্দ্রমুখী মারা যাওয়ার পর শোকে তিনি পাঁচতলা থেকে লাফ দিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। এরপর দীর্ঘদিন হাসপাতালে ছিলেন। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে আবার তারা দু’জন সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এর মধ্যে মেহেরুন বিনতে ফেরদৌসের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মুকুল। এ নিয়ে কথা বললে স্বামী মুকুল বিভিন্ন সময়ে নাজনীনকে অন্তঃসত্বা অবস্থায় শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। মেহেরুনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময়ও মুকুল তাকে কয়েকবার নির্যাতন করেছেন বলেও অভিযোগ করেন নাজনীন।


