আসন্ন দুর্গাপূজা উদযাপনসহ হিন্দুদের বিভিন্ন পূজায় অসহযোগিতার অভিযোগে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমারনাথকে প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দিয়েছে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বুধবার দুপুরে এ আল্টিমেটাম দেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এ্যাডভেকেট রনজিৎ দাশ। এ জন্য ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে তাকে প্রত্যাহার করা না হলে পূজা উদযাপনের সময় কোনো ধরনের অঘটন ঘটলে তার দায় প্রশাসনকে নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এ্যাডভোকেট রনজিৎ দাশ বলেন, ‘বর্তমান পুলিশ শ্যামল কুমারনাথ কক্সবাজারে যোগদানের পর থেকে হিন্দুরা তার কাছ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পায়নি। বিগত সময়ে জন্মাষ্টমী, ইসকনের রথযাত্রাসহ কোনো পূজা উৎসবে পুলিশ সুপার সহযোগিতা করেননি।’
সভায় জানানো হয়, এবারের পূজায় রং ছিটানো হবে না। রাত ১২টার পরে বাদ্যযন্ত্র বাজাতে দেওয়া হবে না। নামাজের সময় মাইকসহ সমস্ত বাদ্যযন্ত্র বন্ধ থাকবে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মার পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন— জেলা জন্মাষ্টমী পরিষদের সাবেক সভাপতি দুলাল কান্তি চক্রবর্তী, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি রতন দাশ, জেলা জন্মাষ্টমী পরিষদের সভাপতি পৌর কাউন্সিলর রাজ বিহারী দাশ, কক্সবাজার সদর উপজেলা সভাপতি দীপক দাশ, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট বাপ্পি শর্মা, শহর সভাপতি চন্দন কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক স্বপন গুহ প্রমুখ।
এবার জেলায় মোট ২৭৬টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। এর মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভা-সদর উপজেলায় ৪০টি প্রতিমা ও ৩২টি ঘট, রামু উপজেলায় ১৮টি প্রতিমা ও ৯টি ঘট, চকরিয়া পৌরসভা উপজেলায় ৪১টি প্রতিমা ও ৩৫টি ঘট, পেকুয়া উপজেলায় ১১টি প্রতিমা ও ৬টি ঘট, কুতুবদিয়া উপজেলায় ১২টি প্রতিমা ও ২৭টি ঘট, মহেশখালী উপজেলায় ১টি প্রতিমা ও ৩১টি ঘট, উখিয়া উপজেলায় ৫টি প্রতিমা ও ৮টি ঘট এবং টেকনাফ উপজেলায় ৫টি প্রতিমা পূজার মণ্ডপ স্থাপিত হয়েছে। তবে গত বছরের চেয়ে এ বছর ১৬টি পূজামণ্ডপ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।



