আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) নিয়ে দেশে বিভ্রান্তি রয়েছে এখনো। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে আইএস নামে কোনো জঙ্গি সংগঠন নেই। অথচ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে প্রায়ই আইএস সন্দেহে আটক হচ্ছে অনেকে। আর এ সুযোগে জঙ্গি পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।
দেশে জঙ্গিবাদী কিছু মানুষের অবস্থান থাকলেও জঙ্গি সংগঠনগুলোকে ধারাবাহিকভাবে নিষিদ্ধের মধ্য দিয়ে জঙ্গিবিরোধী কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করেছে সরকার।
কিন্তু সম্প্রতি দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার রেশ ধরে আইএসের স্বীকারোক্তি ফলে আবারো আলোচনায় জঙ্গিবাদ। বিদেশি কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে আইএস সংশ্লিষ্টতার কথা দাবি করা হলেও অস্বীকার করেছে সরকার।
এদিকে, জঙ্গিবাদসহ আলোচিত দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হান্নান শাহ বলেন, ‘এই সরকার পশ্চিমা ও তাদের বিদেশি প্রভুদের খুশি রাখার জন্য তথাকথিত জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের নাম দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে।’
অপরদিকে, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘২০০১ সালের পর এই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বীজ বপন করা হয়েছিলো। জেএমবি, হরকাতুল জিহাদের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলো বিএনপি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি হয়েছিলো। তারাই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকবে এটিই স্বাভাবিক।’
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর নজর কাড়তে চেষ্টা করছে অভ্যন্তরীণ কিছু নিষিদ্ধ সংগঠন। তবে, সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে সুবিধা করতে পারেনি।
এদিকে, দেশে আইএস তৎপরতার বিষয়টি স্পষ্ট করে তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতামত নাকচ করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা বিরোধিতা করেছে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে এখনো বিচ্ছিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


