নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে দেশে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালত। আজ শুক্রবার দুপুরে আদালত এ আদেশ দেন। নূর হোসেনের আইনজীবী অনুপ কুমার ঘোষ নিউজ ওয়ার্ল্ড বিডি ডট কমকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
এর আগে বারাসাত আদালতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নূর হোসেন শুনানির আবেদন করেন। ৩ অক্টোবর শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই দিন মুখ্য বিচারিক হাকিম অনুপস্থিত থাকায় পিছিয়ে যায় নূর হোসেনের শুনানি। পরবর্তী দিন ধার্য হয় আজ শুক্রবার।
এ মামলার সরকারপক্ষের আইনজীবী শান্তিময় বসু জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৩২১ ধারায় একটি আবেদন দাখিল করে। সে আবেদনে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে যাবতীয় মামলা প্রত্যাহার করে নিতে চায় সরকারপক্ষ।
আইনজীবী অনুপ ঘোষ জানান, সরকার নূর হোসেনের বিরুদ্ধে ভারতে অনুপ্রবেশের মামলা দায়ের করার পর এখন মামলা তুলে নিতে চাইছে। কী কারণে এই মামলা তুলে নেওয়া হবে এবং নূর হোসেনের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটা স্পষ্ট করার দাবিতেই এই শুনানির আবেদন করা হয়েছে। তিনি জানান, নূর হোসেনের এরই মধ্যে এক বছরের ওপর জেল খাটা হয়ে গেছে।
এদিকে, সরকার নূর হোসেনের বিরুদ্ধে ভারতে অনুপ্রবেশের মামলা তুলে নেওয়ার কারণ হিসেবে বারাসাত আদালতের একাধিক আইনজীবী মনে করছেন, মামলা তুলে নেওয়ার পরেই নূরকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া অনেকটা সহজ হয়ে যাবে। যেহেতু নূর হোসেনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি আছে, সেহেতু ভারত-বাংলাদেশ বন্দিবিনিময় চুক্তি মেনেই নূরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হলে তাঁকে খুব সহজে বাংলাদেশের হাতে প্রত্যর্পণ করা যাবে। এ ছাড়া ভারতীয় দণ্ডবিধির নিয়ম অনুযায়ী নূরকে ভারতে অনুপ্রবেশের অপরাধের সাজা খেটে তবেই বাংলাদেশে ফেরত যেতে হবে। নূর হোসেন বর্তমানে দমদম সেন্ট্রাল জেলে বন্দি রয়েছেন। নূরের বিরুদ্ধে ভারতে অনুপ্রবেশের মামলা থাকায় তাঁকে সেই মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের হাতে প্রত্যর্পণ করতে নানা জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছিল।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ শহরের কাছ থেকে পৌর কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করেন র্যাব-১১-এর কতিপয় সদস্য। এর কয়েক দিন পর সাতজনেরই মৃতদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় র্যাবের ঊর্ধ্বতন তিন কর্মকর্তাসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জ আদালতে তাঁদের বিচার চলছে।


