বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

আবারও জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় টানেল নির্মাণের উদ্যোগ, আপত্তি ডিটিসিএর

download (1)যানজট কমাতে রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় আবারো টানেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের ক্রসিংয়ে ছোট একটি ফ্লাইওভারও নির্মাণ করারও পরিকল্পনা তাদের। এজন্য সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। তবে প্রকল্পটি অনুমোদনের পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলে তাতে আপত্তি জানায় ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। ফলে দ্বিতীয়বারের মতো আটকে গেছে টানেল নির্মাণের উদ্যোগ।

এর আগে ২০০৭ সালে জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় টানেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল সেতু কর্তৃপক্ষ। এটি পুরনো বিমানবন্দরের নিচ দিয়ে আগারগাঁওয়ে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তা ইস্যুতে সে সময় আপত্তি জানায় বিমানবাহিনী। এতে আটকে যায় টানেল নির্মাণের সে উদ্যোগ।

সেতু বিভাগের তথ্যমতে, নতুন প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে মূল ফ্লাইওভারটির দৈর্ঘ্য হবে ৪৯০ মিটার। এতে ওঠানামায় র্যাম্প থাকবে ৫৮০ মিটার। সার্ভিস সড়ক থাকবে আরো ৪৪০ মিটার। আর মূল টানেলটি হবে মাত্র ১৪০ মিটার, যা মূলত আন্ডারপাস। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

ফ্লাইওভারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের ক্রসিংয়ে কোনো ধরনের সিগনাল ছাড়াই পার হতে পারবে যানবাহন। এর পর কিছুটা পথ অতিক্রম করে টানেলে ঢুকতে হবে। অন্য প্রান্তে রোকেয়া সরণির কাছে টানেল থেকে বের হবে যানবাহন। এতে জাহাঙ্গীর গেট থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে পর্যন্ত যানজট হ্রাস পাবে বলে দাবি সেতু কর্তৃপক্ষের।

প্রকল্প প্রস্তাবনাটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলে ডিটিসিএর মতামত চাওয়া হয়। সে সময়ই টানেল নির্মাণে আপত্তি জানায় সংস্থাটি। ডিটিসিএ যুক্তি দেয়, জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় টানেল নির্মাণ প্রস্তাবটি কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) অন্তর্ভুক্ত নেই। প্রাথমিকভাবে ১ কিলোমিটার দীর্ঘ জাহাঙ্গীর গেট টানেল নির্মাণের কথা ছিল। সেটি করা গেলে ওই এলাকায় যানজট কিছুটা হ্রাস পেত। তবে নতুন প্রস্তাবে খুব বেশি সুফল পাওয়া যাবে না। কারণ টানেল মাত্র ১৪০ মিটার। আবার ওই অংশে সড়কও রয়েছে। তাই ফ্লাইওভার থেকে নেমে টানেলে প্রবেশের মুখে উল্টো যানজট হতে পারে।

টানেল নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ডিটিসিএ। সংস্থাটি বলছে, টানেল নির্মাণের জন্য বিবেচিত এলাকায় রয়েছে প্রবেশ সংরক্ষিত (অ্যাকসেস কন্ট্রোলড) সড়ক। ফলে বাধা ছাড়াই দ্রুত যানবাহন ওই সড়কে যাতায়াত করতে পারে। শুধু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের ক্রসিংয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ করলেই চলে। এর সঙ্গে ১৪০ মিটার টানেল নির্মাণ আদৌ যৌক্তিক কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

টানেল নির্মাণের প্রকল্পটি সংশোধনের প্রস্তাবও দিয়েছে ডিটিসিএ। এতে বলা হয়, ফ্লাইওভার ও টানেল যুক্ত হতে হবে, যাতে ফ্লাইওভার থেকে নেমেই যানবাহন টানেলে প্রবেশ করবে। এতে টানেলে প্রবেশ মুখে যানজট হবে না। জাহাঙ্গীর গেট এলাকা থেকে আগারগাঁও যেতে হলে বিদ্যমান সড়কটিও ব্যবহার করতে হবে না।

এ প্রসঙ্গে ডিটিসিএর ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার আনিসুর রহমান বলেন, জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় টানেল নির্মাণের প্রস্তাব এসটিপিতে নেই। উপরন্তু এতে কারিগরি বেশকিছু ত্রুটি রয়েছে। এজন্য ত্রুটি সংশোধন করে নতুন করে প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে।

তবে নতুন প্রস্তাব দিতে হলে পুনরায় প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা দরকার বলে মনে করছে সেতু কর্তৃপক্ষ। কারণ হিসেবে সংস্থাটি বলছে, বিদ্যমান প্রস্তাব প্রণয়নের আগে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সাতটি অপশন যাচাই-বাছাই করে অ্যালাইমেন্ট চূড়ান্ত করা হয়। এর ভিত্তিতে প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়। এক্ষেত্রে চারটি অ্যালাইমেন্টেই বিমানবাহিনীর আপত্তি রয়েছে। বাকি দুটি অনেক ব্যয়বহুল।

এ প্রসঙ্গে সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় যানজট কমানো ও মিরপুরের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা দরকার। এ নিয়ে ডিটিসিএ ও পরিকল্পনা কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করা যায়, দ্রুতই সমস্যার সমাধান করা যাবে।

উল্লেখ্য, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ব্যয় হয় প্রায় ২ কোটি টাকা। অস্ট্রেলিয়ার স্ম্যাক ইন্টারন্যাশনাল, ভারতের কোয়ি ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড ও বাংলাদেশের এসিই কনসালটেন্টস যৌথভাবে এ সম্ভাব্যতা যাচাই পরিচালনা করে।

আরও পড়ুন