বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না বেসরকারি হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক-ক্লিনিক

private-clinic-35321নিয়মনীতির তোয়াক্কাই করছে না ব্যক্তিমালিকানাধীন হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ক্লিনিকগুলো। ধরাকে স্বরা জ্ঞান মনে যত্রতত্র গড়ে উঠছে এসব প্রতিষ্ঠান। প্রতিবছর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব হাসপাতাল পরিদর্শন করে, তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করার কথা বললেও এতে কোনো কর্ণপাতই করছেন না মালিকরা। দেখাচ্ছেন জরুরি সেবার অজুহাত। এ পরিস্থিতিতে নিয়ম ভাঙলে সর্বোচ্চ ছয় মাস সময়সীমার মধ্যে তা বন্ধ করা হবে বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বেসরকারি হাসপাতালের মান যাচাই করতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঝটিকা অভিযানে নামে। রাজধানীর ভেতরে এবং বাইরের হাসপাতালগুলোতে চলে এই অভিযান। এরমধ্যে ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জ, সাভার এবং গাজীপুর উল্লেখযোগ্য।

শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ম না মানায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোডে দুটি হাসপাতাল তিন দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে এই হাসপাতাল দুটিসহ আরও দুটি ক্লিনিককে জরিমানা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর ও র‌্যাবের অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দিন এ নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ক্লিনিক ও হাসপাতাল শাখার পরিচালক অধ্যাপক সামিউল ইসলাম ও র‌্যাব-২ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দিনের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়।

হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর মধ্যে নবাব সিরাজউদৌলা হাসপাতালের (মানসিক ও মাদক নিরাময় কেন্দ্র) মালিককে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং ব্যবস্থাপককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী তিন দিনের মধ্যে হাসপাতালটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে হুমায়ুন রোডের মালিহা হাসপাতালের মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ম না মানায় বাংলাদেশ ট্রমা স্পেশালাইজড সেন্টারকে দুই লাখ টাকা জরিমানা ও ভাইটাল ডায়গনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রক্ত সঞ্চালন এবং সংরক্ষণের অনুমতি না থাকায়, অভিযানে বেশকিছু বেসরকারি হাসপাতাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি তাদের সেবার মান ঠিক আছে, তবে সরেজমিনে তার কোন দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল ইসলামও জানান, ব্যক্তিমালিকানাধীন হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ক্লিনিকগুলো প্রয়োজন কোনো আইনই মানে না। তিনি বলেন, ‘এটিও সত্যি যে রক্ত আমাদের দরকার। যতক্ষণ পর্যন্ত অনুমোদিত ব্লাড ব্যাংক এখানে স্থাপিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এটা বন্ধ করা যথোপযুক্ত হবে বলে আমি মনে করি না। অসংগতি যেখানে পাওয়া গেছে মোবাইল কোর্টের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা অধ্যাপক শামীউল ইসলাম বলেন, আইন অমান্য করে এসব সেবা দেবার অধিকার হাসপাতালগুলোর নেই।

বর্তমানে পুরনো আইনের কয়েকটি ধারার উপর ভর করেই চলছে রক্ত সঞ্চালনসহ বেসরকারি হাসপাতালগুলোর নানা কর্মকাণ্ড। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা আরও জানালেন, হাসপাতালগুলোর দৌরাত্ম বন্ধে খুব দ্রুত আইনের সংস্কার হবে। পাশাপাশি তা প্রয়োগে নেয়া হবে বিশেষ ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন