অমানবিক নির্যাতন, তাও আবার একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ওপর। বিনা দোষে দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর কারাভোগ করতে হয়েছে ফজলু মিয়া নামের এ ব্যক্তির। নিঃসন্তান যে ব্যক্তিটি তাকে আশ্রয় দিয়ে সন্তানের আদরে বড় করেছিলেন তিনিও বেঁচে নেই। তাই সম্প্রতি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তার আশ্রয় হয়েছে তেতলী ইউনিয়ন পরিষদে।
পিতা-মাতার পরিচয়হীন ফজলু মিয়া। শিশু অবস্থায় সিলেটের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর সময় তার পরিচয় হয় সহকারী পোস্ট মাস্টার নিঃসন্তান সৈয়দ গোলাম মাওলার সাথে। তিনি তাকে দক্ষিণ সুরমার ধরাধরপুরের নিজের মীর বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি মানসিক ভারসাম্যহীন ফজলুর।
১৯৯৩ সালে নগরীর কোর্ট পয়েন্ট এলাকা থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন ফজলুকে আটক করে কারাগারে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। ২০০২ সালে আদালত খালাসের নির্দেশ দিলেও মুক্ত করতে না আসায় কারাগারই হয় তার ঠিকানা।
এর ১৩ বছর পর আইনি সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা ব্লাস্টের সহায়তায় গত বৃহস্পতিবার সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তির পর তেতলি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের একটি কক্ষে আশ্রয় হয় ফজলু মিয়ার।
আর ফজলু মিয়ার দীর্ঘ কারাভোগের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবহেলাকেই দায়ী করলেন সিলেটের পিপি অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে উন্মাদ আইনে ১৩ জনসহ প্রায় ৩০ জন বিনা বিচারে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দি রয়েছেন।


