বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

Pay-Scale-Newsworldbd1অষ্টম বেতন কাঠামোর আদেশ নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে জারি হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভুইঞা। সোমবার মন্ত্রিসভায় বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, অষ্টম বেতন কাঠামোর আদেশ জারির বিষয়ে অর্থ বিভাগ কাজ করছে।

“এই মাসে না হলে আগামী মাসের শুরুতে আদেশ জারি করা হবে। আদেশ জারির প্রক্রিয়া শেষ করতে এক মাস বা কিছুটা বেশি সময় লাগে।”

সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল ধরে সরকারি কর্মচারীদের জন্য গত ৭ সেপ্টেম্বর অষ্টম বেতন কাঠামো অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা, যা আদেশ জারির পর কার্যকর হবে।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবী মূল বেতন পাবেন ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে। আর ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে ভাতা কার্যকর হবে।

বেতন কাঠামোর আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত সরকারি চাকুরেরা সপ্তম বেতন কাঠামো অনুযায়ীই বেতন পাবেন জানিয়ে মোশাররাফ হোসাইন বলেন, আদেশে যদি বলা থাকে ১ জুলাই (২০১৫ সাল) থেকে তা কার্যকর হবে তবে ১ জুলাই থেকে এরিয়ার পাবেন।

বেতন কাঠামোতে যা থাকছে:
নতুন বেতন কাঠামোতে বিশেষ ধাপে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবদের মূল বেতন ৮৬ হাজার টাকা। পর্যালোচনা কমিটি বিশেষ ধাপ হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবদের মূল বেতন ৯০ হাজার টাকা এবং বেতন কমিশন এক লাখ টাকা করার সুপারিশ করেছিল। বর্তমানে এ বেতন ৪৫ হাজার টাকা।

সিনিয়র সচিবদের মূল বেতন করা হয়েছে ৮২ হাজার টাকা। পর্যালোচনা কমিটি সিনিয়র সচিবদের মূল বেতন ৮৪ হাজার টাকা ও বেতন কমিশন ৯০ হাজার টাকা সুপারিশ করেছিল। বর্তমানে সিনিয়র সচিবেরা নির্ধারিত ৪২ হাজার টাকা মূল বেতন পান।

সরকারি চাকরির সর্বোচ্চ ধাপ হিসেবে বিবেচিত সচিবের মূল বেতন (গ্রেড-১) নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৮ হাজার টাকা। পর্যালোচনা কমিটি সচিবের মূল বেতন ৭৫ হাজার টাকা ও কমিশন ৮০ হাজার টাকা সুপারিশ করেছিল। সপ্তম বেতন কাঠামোতে এখন এই কর্মকর্তারা ৪০ হাজার টাকা পেতেন।

প্রথম শ্রেণীর সরকারি চাকরির শুরুতে মূল বেতন হয়েছে ২২ হাজার টাকা (নবম ধাপ)। পর্যালোচনা কমিটিও এ ক্ষেত্রে মূল বেতন ২২ হাজার টাকা ও বেতন কমিশন ২৫ হাজার টাকা সুপারিশ করেছিল। প্রথম শ্রেণীর চাকরির শুরুতে কর্মকর্তারা আগে ১১ হাজার টাকা পেতেন।

সর্বনিম্ন স্তরের (গ্রেড-২০) মূল বেতন হয়েছে আট হাজার ২৫০ টাকা। এ ক্ষেত্রে পর্যালোচনা কমিটিও আট হাজার ২৫০ টাকা সুপারিশ করেছিল। তবে বেতন কমিশন সুপারিশ করেছিল আট হাজার ২০০ টাকা।

নতুন বেতন কাঠামোর ২০টি গ্রেডের দ্বিতীয় গ্রেডে ৩৩ হাজার ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৬৬ হাজার টাকা, তৃতীয় গ্রেডে ২৯ হাজার টাকার স্থলে ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং চতুর্থ গ্রেডে ২৫ হাজার ৭৫০ টাকার পরিবর্তে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

পঞ্চম গ্রেডে ২২ হাজার ২৫০ টাকার স্থলে ৪৩ হাজার টাকা, ষষ্ঠ গ্রেডে ১৮ হাজার ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা, সপ্তম গ্রেডে ১৫ হাজার টাকার জায়গায় ২৯ হাজার টাকা, অষ্টম গ্রেডে ১২ হাজার স্থানে হয়েছে ২৩ হাজার টাকা করা হয়েছে।

দশম গ্রেডে আট হাজারের পরিবর্তে ১৬ হাজার টাকা, ১১তম গ্রেডে ছয় হাজার ৪০০ টাকার পরিবর্তে ১২ হাজার ৫০০ টাকা, ১২তম গ্রেডে পাঁচ হাজার ৯০০ টাকার পরিবর্তে ১১ হাজার ৩০০ টাকা, ১৩তম গ্রেডে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকার পরিবর্তে ১১ হাজার টাকা, ১৪তম গ্রেডে পাঁচ হাজার ২০০ টাকার পরিবর্তে ১০ হাজার ২০০ টাকা করা হয়েছে।

নতুন কাঠামোতে ১৫, ১৬ ও ১৭তম গ্রেডে মূল বেতন হয়েছে নয় হাজার ৭০০, নয় হাজার ৩০০ ও নয় হাজার টাকা। আগের স্কেলে এ বেতন ছিল চার হাজার ৯০০, চার হাজার ৭০০ ও চার হাজার ৫০০ টাকা।

আগে ১৮তম গ্রেডের মূল বেতন চার হাজার ৪০০ ও ১৯তম গ্রেডের মূল বেতন চার হাজার ২৫০ টাকা ছিল, নতুন বেতন কাঠামোতে তা বেড়ে হয়েছে আট হাজার ৮০০ ও আট হাজার ৫০০ টাকা।

২০১৩ সালের ২৪ নভেম্বর দেশের ১৩ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর জন্য ১৭ সদস্যের ‘জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশন-২০১৩’ গঠন করে অর্থ মন্ত্রণালয়। ওই বছরের ১৭ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এ কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।

কমিশনকে ছয় মাসের (২০১৪ সালের ১৭ জুন) মধ্যে সুপারিশসংবলিত একটি প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে কমিশনের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়।

গত বছরের ২১ ডিসেম্বর সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কাছে প্রতিবেদন তুলে দেন জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশনের চেয়ারম্যান।

আরও পড়ুন