সৌদি আরব ও মালয়েশিয়া ছাড়াও থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় শ্রমিক পাঠানোর চেষ্টা করছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি জানিয়েছেন, “শুধু মালয়েশিয়া বা সৌদি আরব নয়, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে আমরা আলোচনা করছি। আর সৌদি আরবে লোক পাঠানো কিন্তু থেমে নেই, প্রতিদিনই সেখানে লোক যাচ্ছে।”
মঙ্গলবার দুপুরে ইস্কাটনের প্রবাসী কল্যাণ ভবনে টেনিং অব ট্রেনার্স প্রকল্পের সার্টিফিকেট বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
মালয়েশিয়ায় নতুন পদ্ধতিতে শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “মালয়েশিয়া এখনও এমওইউ করেনি। খুব শিগগির এমওইউ হতে পারে। জিটুজি প্লাসের যে প্রোপোজাল তারা দিয়েছে সেখানে প্রাইভেট এজেন্টরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কিছু হয়নি।”
নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, “আমাদের প্রশিক্ষিত লোক আছে। কোন দেশ যদি চায় তাহলে আমরা দিতে পারব। শ্রমিকদের প্রশিক্ষিত করতে ৪১টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। প্রশিক্ষণের মান কম হতে পারে, তবে প্রশিক্ষিত লোক কিন্তু যথেষ্ট আছে।”
গত বছর মোট জনশক্তি রপ্তানির ৫২ শতাংশ দক্ষ ও আধা দক্ষ ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “এবছর এ সংখ্যা আরও বাড়বে। শ্রমিকদের চাকরির সুবিধা ও বেতন বাড়ানোর জন্য যুক্তরাজ্য ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিটি অ্যান্ড গিলডস এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। আমরা আমাদের শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে চাই। এতে চাকরিতে তারা সুবিধা যেমন বেশি পাবে, একই সাথে তাদের বেতনও বাড়বে বলেও জানান মন্ত্রী।”
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালে জি টু জি পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নিতে শুরু করে মালয়েশিয়া। সে অনুযায়ী, শুধু সরকারিভাবে মালয়েশিয়ার ‘প্ল্যান্টেশন’ খাতে শ্রমিক পাঠানো হচ্ছিল। কিন্তু এই উদ্যোগে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। এরপর জি টু জি পদ্ধতি সংস্কার করে এতে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়, এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘জিটুজি প্লাস’।
চলতি বছর ৫ লাখ শ্রমিক বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী।


