বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সিফাত খুনে শ্বশুড়ের জামিন

Sifat-killedরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাত হত্যা মামলার আসামী এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজানের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মনসুর আলম বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। দীর্ঘ ৮ মাস পালিয়ে থাকার পর সকালে সিফাতের শ্বশুর আদালতে আত্মসমপর্ণ করে জামিন আবেদন জানান।
তার আইনজীবী হামিদুল হক জানান, সকালে রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে আত্মসমপর্ণ করে জামিনের আবেদন জানান এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজান। শুনানি শেষে বিচারক মনসুর আলম ১০ হাজার টাকার বন্ডে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

২৯ মার্চ সন্ধ্যায় নগরীর মহিষবাথান এলাকার এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজানের বাড়িতে তার পুত্রবধূ ওয়াহিদা সিফাতের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ঘটনার চার দিন পর সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার রাজপাড়া থানায় ২০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সিফাতের স্বামী মোহাম্মদ আসিফ ওরফে পিসলী, শ্বশুর মোহাম্মদ হোসেন রমজান ও শাশুড়ী নাজমুন নাহার নাজলীকে আসামি করা হয়।

প্রথমে রাজপাড়া থানার এসআই শরিফুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হন। রাজপাড়া থানা চাঞ্চল্যকর এ মামলায় তেমন কোনো অগ্রগতি করতে না পারায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। সেখানেও মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে সম্প্রতি মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়।

বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ জুন রাজশাহী চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জয়ন্ত রাণী দাশ সিফাতের লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের আদেশ দেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের গঠিত তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। ভিসেরা রির্পোট পাওয়ার পর মেডিকেল বোর্ড নিশ্চিত হয় যে, সিফাতের মাথায় আঘাত করায় রক্তক্ষরণের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে হত্যা মামলা দায়েরের পর থেকে দুই আসামি তার শ্বশুর এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজান ও শাশুড়ী নাজমুন নাহার পালিয়ে ছিলেন। এ ছাড়া আদালত সিফাতের আড়াই বছর বয়সী একমাত্র ছেলে আইয়ান আল সাদীদকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিলেও তা এখনও পালন করেনি পুলিশ। সাদীদ কোথায় আছে সে তথ্যও পুলিশের জানা নেই।

আরও পড়ুন