বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

টাইম স্কেল-সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালের দাবি প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির

জাতীয় বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটি। একইসঙ্গে উপজেলা পরিষদের ক্ষমতায়নের নামে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সার্কুলার সংশোধনেরও দাবি জানিয়েছে কমিটি।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

প্রকৌশলী, কৃষিবিদ ও চিকিৎসকদের সংগঠন প্রকৃচি এবং ২৬টি ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন ও ফাংশনাল সার্ভিসের সংগঠন বিসিএস সমন্বয় কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাতীয় বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল পুনর্বহাল এবং উপজেলা পর্যায়ে ১৭ টি সার্ভিসের সেলফ ড্রয়িং কর্মকর্তাদের বেতনভাতা ও অন্যান্য বিলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ( ইউএনও) স্বাক্ষর ও অযাচিত নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়, কিন্তু তাতে সাড়া না দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ উপজেলা পরিষদের ক্ষমতায়নের নামে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠানমূলক একটি অফিস স্মারক জারি করা হয়েছে।

বক্তারা জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা অফিস স্মারকে উপজেলা পরিষদকে অধিকতর কার্যকর করার নামে পেশাদার ও কারিগরিসহ উন্নয়নমুখী দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা উত্তোলন, প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ ও তদারকিসহ সকল ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অযৌক্তিক ও অযাচিত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত দেশের সকল দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য চরম অবমাননাকর। ফলে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এ সময় তারা বলেন, উপজেলা পর্যায়ে অনেক কর্মকর্তা ও সিনিয়র কর্মকর্তা বেতন স্কেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের চেয়ে সিনিয়র। একজন জুনিয়র কর্মকর্তাকে নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের প্রশাসনিক রীতির পরিপন্থী। এছাড়াও সেলফ ড্রয়িং অফিসারের বেতনভাতা বিল অন্য বিভাগের কর্মকর্তার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল রুলসের পরিপন্থী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রকৃচি কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটির সচিব প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের মহাসচিব মোবারক আলী, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের মহাসচিব ইকবাল আর্সলান, বিসিএস সমন্বয় কমিটির মহাসচিব ফিরোজ খান প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব ফিরোজ খান বলেন, ২৪ অক্টোবর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ২৬ ক্যাডারের সমাবেশ হবে। এরমধ্যে সরকার এ দাবি মেনে না নিলে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও বলেন, বেতন স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাদ দিয়ে যে জাতীয় স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে তাতে কৃষিবিদ, প্রকৌশলী, চিকিৎসকসহ ২৬টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে আরও বাধার সৃষ্টি হয়েছে।

ফিরোজ বলেন, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ থেকে ১৪ অক্টোবর উপজেলা পরিষদের ক্ষমতায়নের নামে যে ইউএনও’র একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় দেশ উপনিবেশিক শাসনের দিকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা অফিস আদেশে উপজেলা পরিষদকে কার্যকর করার নামে পেশাদার ও কারিগরিসহ উন্নয়নমুখী দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা উত্তোলন, প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ ও তদারকিসহ সব ক্ষেত্রে ইউএনও’র নিয়ন্ত্রণ আরোপের কারণে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ আদেশের মাধ্যমে ইউএনও’কে ৯৮ শতাংশ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এতে দেশের উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা সব জায়গায় তাদের কর্তৃত্ব বজায় রাখছেন। সরকারের বিশেষ পদ হিসেবে চিহ্নিত উপসচিব থেকে তদর্ধ্ব পর্যায়ের সুপার নিউমারী পদ দেখিয়ে নির্ধারিত পদের চেয়ে অতিরিক্ত সংখ্যক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ায় প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতি পাচ্ছেন। কিন্তু ২৬টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা সুপার নিউমারী পদোন্নতির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবিলম্বে ২৬টি ক্যাডারের কর্মকর্তাদের এ থেকে রক্ষা করতে জাতীয় বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল পূনর্ববহাল করে দ্রুত জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণারও জোর দাবি জানান।

একই সঙ্গে পেশাভিত্তিক ব্যবস্থা চালুরও দাবি জানান। ক্ষতিগ্রস্ত ২৬ ক্যাডারের সদস্যদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনে আইন সংশোধনেরও দাবি জানান তিনি।

আরও পড়ুন