বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

শাহজালাল বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বিদেশি অংশীদার আসছে

biman_c66_oবাংলাদেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা পরিচালনা ‘জয়েন্ট ভেঞ্চারে’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।বিদেশি অংশীদারকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এ কাজ করবে।

বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিগত বৈঠকের সুপারিশ বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনার সময় মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সুষ্ঠুভাবে করতে গত মার্চ মাসে মন্ত্রণালয়কে তিনটি বিকল্পের সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি। সেগুলো হলো- চলমান ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবস্থাপনা এবং বিদেশি সংস্থাকে নিয়োগ দেওয়া।

সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, “এ বিষয়ে মোটামুটি সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। এখন টেন্ডার আহ্বান ও আনুষঙ্গিক কাজ করতে হবে।”

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন দেশীয় চারটি বিমান সংস্থার প্রায় ৫০টি ফ্লাইট ছাড়াও ১৮টি দেশের ২৫টি বিমানসংস্থার প্রায় ১০০ উড়োজাহাজ ওঠানামা করে।

বিশ্বের অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সেবার মান নিশ্চিত করতে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলেও বাংলাদেশে এ কাজ করে কেবল বিমান। কিন্তু প্রশিক্ষিত ও দক্ষ লোকবল এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতার কারণে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো একাধিক প্রতিষ্ঠানকে হ্যান্ডলিং এজেন্ট হিসাবে নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছে।

২০১৩ সালের জানুয়ারিতে বিমান কর্মচারীদের ধর্মঘটের কারণে দেশের প্রধান বিমানবন্দর শাহজালাল প্রায় ৫ ঘণ্টা অচল থাকার পর এ দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সে সময় বিকল্প গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্ট নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়কে চিঠিও দেয়।

এর আগে ২০০৬ সালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যার ওপর বিমানের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এর অনুমোদন মেলেনি।

বিমানের অর্থবিভাগের হিসাব অনুযায়ী, শুধু গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছরে বিমানের আয় ছিল প্রায় পাঁচশ কোটি টাকা।

সংসদীয় কমিটি জয়েন্ট ভেঞ্চারে যাওয়ার আগে বিমানকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে বলেছে, যাতে নতুন চুক্তি হওয়ার আগে সরঞ্জাম থেকে বিমানের আয় হয়।

এ বিষয়ে ফারুক খান বলেন, “এখন বিমানের কাছে যেসব যন্ত্রপাতি আছে তাতে ভালো কাজ হয় না। বিমান যদি আগামী ৬ মাসের মধ্যে সরঞ্জাম কিনে ফেলতে পারে তাহলে জয়েন্ট ভেঞ্চারে যাওয়ার আগে সেগুলো ভাড়া দিতে পারবে।”

বিমানের এমডির চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানোর সুপারিশ:

বিমান বাংলাদেশ এয়ালাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাইল হেইউডের চাকরির চুক্তির মেয়াদ না বাড়াতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে নতুন এমডি নিয়োগের ব্যাপারে নীতিমালা পর্যালোচনা করতে বলেছে তারা।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেন কাইল। আগামী ৪ জানুয়ারি তার মেয়াদ শেষ হবে।

কমিটির সভাপতি ফারুক খান বলেন, “গত ১০ মাসে বিমানের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে কাইল কোনো সাহায্য করেনি। তাছাড়া দিনের পর দিন ছুটি নেন তিনি। বরাদ্দের চেয়ে বেশি ছুটি তিনি এর মধ্যে নিয়ে ফেলেছেন।

“মাসে সব মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ হয় তার পিছনে। কিন্তু এর থেকে কোনো রিটার্ন আসছে না। এজন্য কমিটি কাইলের মেয়াদ আর না বাড়ানোর জন্য বলেছে।”

ফারুক খান জানান, সদ্য সমাপ্ত হজের ফিরতি ফ্লাইটগুলোতে বাংলাদেশি হাজিদের লাগেজ ব্যবস্থাপনার জন্য এমডি কাইল দায়ী বলে বিমানের পক্ষ থেকে সংসদীয় কমিটিকে বলা হয়েছে।

“বিমান থেকে বলা হয়েছে, মক্কা ও মদীনায় সিটি হ্যান্ডলিংয়ে যে এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয় সে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সৌদি নাগরিক। ওই প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনার কারণে হাজিদের লাগেজ ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হয়েছে।”

গত বছরের মতো এবারও হাজিদের সুবিধার জন্য মক্কা ও মদিনায় তিনটি লাগেজ সেন্টার করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

এই সেন্টারগুলোর জন্য সৌদি আরবের এজেন্ট নিয়োগ করা হয়। এজেন্ট প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা হাজিদের মালামাল নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে।

দেশে ফিরে আসা কয়েকজন হাজি বলেছেন, মক্কা ও মদিনায় যে লাগেজ সেন্টার বিমান করেছে, সেখানে দেখভালের জন্য সংস্থার কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন না।

সংসদীয় কমিটির বৈঠক সংক্রান্ত সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর বিমান চলাচলের উপযোগী রয়েছে। কোনো এয়ারলাইন্স এ বিমানবন্দরে ফ্লাইট অপারেট করার জন্য ‘উপযুক্ত’ প্রস্তাব করলে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, সৈয়দপুর ও বরিশাল বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমানবন্দরে উন্নয়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, ড্রইং-ডিজাইন, মাস্টার প্ল্যান ও প্রাক্কলন ব্যয় নির্ধারণের জন্য পরামর্শক নিয়োগের প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে ।

‌বৈঠকে বিমানের দক্ষ জনবল বাড়াতে পদোন্নতির পাশাপাশি সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে বিমানের যাত্রীদের সেবার মান আরও উন্নত করার সুপারিশ করা হয়।

ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, কামরুল আশরাফ খান, মো. আফতাব উদ্দীন সরকার এবং সাবিহা নাহার বেগম অংশ নেন।

আরও পড়ুন