বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বিমানের বিদেশি এমডির ওপর চটেছে সংসদীয় কমিটি

Biman-MD-Kaileবিমান বাংলাদেশ এয়ালাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাইল হেইউডের চাকরির চুক্তির মেয়াদ না বাড়াতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে নতুন এমডি নিয়োগের ব্যাপারে নীতিমালা পর্যালোচনা করতে বলেছে তারা। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেন কাইল। আগামী ৪ জানুয়ারি তার মেয়াদ শেষ হবে।

বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কমিটির সভাপতি ফারুক খান বলেন, “গত ১০ মাসে বিমানের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে কাইল কোনো সাহায্য করেনি। তাছাড়া দিনের পর দিন ছুটি নেন তিনি। বরাদ্দের চেয়ে বেশি ছুটি তিনি এর মধ্যে নিয়ে ফেলেছেন।

“মাসে সব মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ হয় তার পিছনে। কিন্তু এর থেকে কোনো রিটার্ন আসছে না। এজন্য কমিটি কাইলের মেয়াদ আর না বাড়ানোর জন্য বলেছে।”

কাইল হেইউড গত ৫ জানুয়ারি বিমানে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের কর্মরত ছিলেন। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ছাড়াও ইতিহাদ, গালফ এয়ার, এয়ার এ্যারাবিয়া, নাস এয়ারসহ বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্সে কাজ করেন তিনি।

ফারুক খান জানান, সদ্য সমাপ্ত হজের ফিরতি ফ্লাইটগুলোতে বাংলাদেশি হাজিদের লাগেজ ব্যবস্থাপনার জন্য এমডি কাইল দায়ী বলে বিমানের পক্ষ থেকে সংসদীয় কমিটিকে বলা হয়েছে।

“বিমান থেকে বলা হয়েছে, মক্কা ও মদীনায় সিটি হ্যান্ডলিংয়ে যে এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয় সে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সৌদি নাগরিক। ওই প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনার কারণে হাজিদের লাগেজ ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হয়েছে।”

গত বছরের মতো এবারও হাজিদের সুবিধার জন্য মক্কা ও মদিনায় তিনটি লাগেজ সেন্টার করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

এই সেন্টারগুলোর জন্য সৌদি আরবের এজেন্ট নিয়োগ করা হয়। এজেন্ট প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা হাজিদের মালামাল নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে।

দেশে ফিরে আসা কয়েকজন হাজি বলেছেন, মক্কা ও মদিনায় যে লাগেজ সেন্টার বিমান করেছে, সেখানে দেখভালের জন্য সংস্থার কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন না।

সংসদীয় কমিটির বৈঠক সংক্রান্ত সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর বিমান চলাচলের উপযোগী রয়েছে। কোনো এয়ারলাইন্স এ বিমানবন্দরে ফ্লাইট অপারেট করার জন্য ‘উপযুক্ত’ প্রস্তাব করলে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, সৈয়দপুর ও বরিশাল বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমানবন্দরে উন্নয়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, ড্রইং-ডিজাইন, মাস্টার প্ল্যান ও প্রাক্কলন ব্যয় নির্ধারণের জন্য পরামর্শক নিয়োগের প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে ।

‌বৈঠকে বিমানের দক্ষ জনবল বাড়াতে পদোন্নতির পাশাপাশি সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে বিমানের যাত্রীদের সেবার মান আরও উন্নত করার সুপারিশ করা হয়।

ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, কামরুল আশরাফ খান, মো. আফতাব উদ্দীন সরকার এবং সাবিহা নাহার বেগম অংশ নেন।

আরও পড়ুন