ভারতীয় আদালতে ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন অনলাইন ট্যাক্সি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ইউবারের একজন ট্যাক্সি চালক। দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লির ওই ট্যাক্সি চালককে মঙ্গলবার দোষী ঘোষণা করেছে আদালত।
শিব কুমার যাদভ নামের এই চালক ধর্ষণ ছাড়াও ব্ল্যাকমেইল, পাচার ও নারীদের জীবন বিপন্ন করার দায়ে অভিযুক্ত বলে এবিসি নিউজকে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতুল শ্রীভাস্তাভ। তিনি বলেন, “এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আর আমরা তার জন্য চেষ্টা করব।”
২৬ বছর বয়সী ওই নারী একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন, আর সেদিন তিনি বাড়ি ফেরার সময় ট্যাক্সিটি ভাড়া করেন। এবিসি নিউজ জানিয়েছে নিজ মক্কেল কে নির্দোষ দাবি করে করেছেন আসামীর আইনজীবী ডি. কে. মিশ্রা।
ইউবার তাদের নিরাপত্তা নিয়ে মিথ্যা বর্ণনা দিচ্ছে কি না বা এ ধরনের অপরাধ কার্যক্রম নিয়ে হেলা করছে কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নয়াদিল্লীর পুলিশ কর্মকর্তা ব্রিজেন্দ্র কুমার যাদভ।
শুক্রবার মামলাটির রায় দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এই ঘটনায় যৌন নিপীড়ন বন্ধে আর নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সারা ভারতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ওই নারী তখন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ইউবারের বিরুদ্ধে মামলা করলেও তা আর বেশি দূর আগায়নি। শেষ পর্যন্ত আদালতের বাইরেই এর নিষ্পত্তি হয়।
ওই ঘটনার পর চালকদের নিয়োগ দেওয়ার আগে তাদের পূর্বের জীবনবৃত্তান্ত ঠিকভাবে যাচাই না করার অভিযোগে অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষিদ্ধ করে দিল্লী সরকার। তখন দিল্লীতে ইউবার তাদের লাইসেন্স হারায়, যদিও চলতি বছর জুলাইয়ে তা আবার ফেরত পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ভারতে প্রতিদিন ১০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়ার আশা করছে ইউবার। সেই সঙ্গে আরও ১৮টি শহরে তাদের সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ওই ঘটনার পর দেশজুড়ে নারী ট্যাক্সি চালক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত সরকার।


