বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মন্দিরে ভাঙচুরের দায়ে ২ মুসলিম নারী আটক

Gopalgonj--Mondir-Jaiga-Dak2গোপালগঞ্জ সদরের একটি গ্রামের পূজামণ্ডপে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে প্রতিবেশী দুই মুসলিম নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে শুক্রবার সকালে মন্দিরের জায়গা দখলের প্রতিবাদে কাশিয়ানী উপজেলার ভাদুলিয়া গ্রামে রক্ষা কালিমন্দিরের সামনের রাস্তায় মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

হামলার কারণে আটকরা হলেন- উপজেলার নিজড়া ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ি গ্রামের নূর ইসলামের স্ত্রী রেবেকা বেগম (৩৮) ও বিল্লাল সিকদারের স্ত্রী মেছলা বেগম (৪০)।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি সেলিম রেজা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ওই গ্রামের ডা. রমানাথ মণ্ডলের বাড়ির পূজামণ্ডপে এ হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

কাঁঠালবাড়ি গ্রামের পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমল বিশ্বাস জানান, বৃহস্পতিবার রাতে পূজা শেষে মন্দিরের সামনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলার সময় নূর ইসলাম ও বিল্লালের দুই কিশোর ছেলে এক হিন্দু মেয়েকে উত্ত্যক্ত করলে মণ্ডপে দায়িত্বরত সুখ মণ্ডল (২৫) নামে একজনের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়।

তিনি বলেন, “এর জের ধরে নূর ইসলাম ও তার স্ত্রী রেবেকা বেগম, বিল্লাল ও তার স্ত্রী মেছলা বেগমসহ সাত-আট জন লাঠিসোটা নিয়ে পূজামণ্ডপে এসে সুখ মণ্ডল, সুজন মণ্ডল, সাগর বিশ্বাস, সুভাষ ভৌমিক ও অসীম বিশ্বাসসহ কয়েকজনকে মারধর করে।” এসময় তাদের হামলায় মণ্ডপে ‘কার্তিকের মূর্তির মাথা ও হাত ভেঙে যায়’ বলে দাবি করেন কমল বিশ্বাস।

ওসি সেলিম বলেন, হামলার ঘটনায় কমল বিশ্বাস বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এদের মধ্যে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া নূর ইসলাম ও বিল্লালকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মন্দিরে ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন:
এদিকে শুক্রবার সকালে মন্দিরের জায়গা দখলের প্রতিবাদে কাশিয়ানী উপজেলার ভাদুলিয়া গ্রামে রক্ষা কালিমন্দিরের সামনের রাস্তায় মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সদস্য লিলি রানী বিশ্বাস বলেন, “সম্প্রতি এই গ্রামের রেজ্জাক বিশ্বাস মন্দিরের জায়গা নিজের দাবি করে সেখানে গাছ লাগিয়ে দখল করেছেন। এর আগেও দুবার মন্দির ভাঙচুর ও একবার আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ বিষয়ে আমরা গ্রামের বিশিষ্টজনের কাছে এবং থানায় লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি।”

তবে রেজ্জাক বিশ্বাস মন্দির দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি মন্দিরের জায়গা দখল করিনি। যে জায়গায় গাছ লাগিয়েছি তা আমার নিজের। আমার জায়গার মধ্যে যদি মন্দিরের জায়গা থাকে, তাহলে আমি তা ছেড়ে দেব।

কাশিয়ানী থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা গতকাল অভিযোগ পেয়েছি। এখন সবাই পূজার নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে। পূজার পর বিষয়টির সমাধান করা হবে।”

আরও পড়ুন