বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ আস্তিক-নাস্তিক সবার, তবে জামায়াতের নয়

Sabbir_Khanসাব্বির খান।

কিছুদিন আগে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চতুর্থ জাতীয় সম্মেলনে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান, সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক বলেছিলেন, “বাংলাদেশ সকলের জন্য। সকলের কথাই আমাদের শুনতে হবে। এমনকি যে ধর্ম মানে না, দেশটি তারও“ (বিডিনিউজ২৪ ডট কম, ১৭ অক্টোবর)। বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাবেক বিচারপতির এই কথাগুলো অত্যন্ত সাহসী এবং সময়োপযোগী নিঃসন্দেহে। তবে এর সাথে তিনি হয়ত আরো একটি লাইন বেশি বলতে পারতেন এইভাবে যে, “বাংলাদেশ সবার, তবে যারা মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল, তাদের নয়।“ মাননীয় সাবেক বিচারপতির এই ‘না বলা’ লাইনটির সূত্র ধরেই কিছু কথা বলার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছি।

২০১০ সালে বাংলাদেশে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়েছিল। একাত্তরের শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের অনেকেই এরই মধ্যে সাজা পেয়েছেন এবং বেশ কিছু রায় কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় আছে। এই বিচার শুরুর অনেক আগে থেকেই যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামীর বিচারের দাবি তোলা হয়েছে। কিন্তু আইনের জটিলতার কথা বলে আইন সংশোধনের কথা বলেছেন আইনমন্ত্রী। অদ্যাবধি সেই আইন সংশোধন হয়নি। যুদ্ধাপরাধের দায়ে ব্যক্তির বিচার হবে, অথচ ব্যক্তির সংগঠনের বিচার হবে না, বিষয় দুটো সম্পূর্ণ স্ববিরোধী এবং হঠকারী।

আমাকে অনেকে প্রশ্ন করেন যে, একজন ব্যক্তির বিচার হতে পারে, তার ফাঁসি বা কারাদণ্ড হতে পারে; কিন্তু একটা দলের ক্ষেত্রে তা কীভাবে সম্ভব? একথা খোদ সরকারের বিভিন্ন মহল থেকেও বলা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে, যা একাধারে অনভিপ্রেত এবং নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। এপ্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত ১৯৭২ সালের সংবিধানেই। বাহাত্তরের আদি সংবিধানে জামায়াতে ইসলামীকে বাংলাদেশে শুধু নিষিদ্ধই করা হয়েছিল না, সেই সাথে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল একটা ধর্মনিরপেক্ষ সোনার বাংলাদেশ গড়ার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পরে জেনারেল জিয়াউর রহমানের হাত ধরে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে শুধু রাজনীতি করার অধিকারই ফিরে পায়নি, বাংলাদেশকে আফগানিস্তান-পাকিস্তানের মতো জেহাদী উর্বর ভূমিতে পরিণত করতে অবিরাম চক্রান্তের জাল বুনে চলেছে। সেই সাথে বিএনপি জামায়াতের একটি অগ্রবর্তী দোসর দল হিসেবে এ দেশকে একটি পাকি-ঘরানার দেশ হিসেবে পরিণত করতে জামায়াতের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে।

কোনও ব্যক্তিকে যদি একাত্তরে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য দণ্ড হিসেবে ফাঁসির রায় দেওয়া যায়, তাহলে সেই ব্যক্তির আদর্শের সূতিকাগার দল– যে দলের আদর্শে এবং আদেশে উজ্জীবিত হয়ে সে গণহত্যার মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করেছিল, সেই আদর্শের এবং দলের বিচার কেন হবে না? এটা শুধু একটা প্রশ্নই নয়, নিঃসন্দেহে একটা দাবিও। বছর কয়েক আগে আদালতের এক ঐতিহাসিক রায়ে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন বাতিল হয়েছিল। এজন্য জামায়াত জাতীয় বা স্থানীয় কোনো নির্বাচনে দলগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। যে কারণে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছিল তা পর্যালোচনা করলে জামায়াতের শুধু নিবন্ধন নয়, সেই সাথে বাংলাদেশের মাটিতে তার রাজনীতি করার অধিকারও হরন করা সম্ভব বলে একাধিক আইনজীবি বিভিন্ন সময়ে মতামত ব্যক্ত করেছেন। তবে সেক্ষেত্রে দরকার শুধু সদ-ইচ্ছার।

দেখা যাক আদালত কি বলেছিল সেই রায়েঃ (১) জামায়াত নীতিগতভাবে জনগণকে সব ক্ষমতার উৎস বলে মনে করে না। সেই সঙ্গে আইন প্রণয়ণে জনপ্রতিনিধিদের নিরঙ্কুশ ক্ষমতাও স্বীকার করে না। (২) গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুসারে কোনো সাম্প্রদায়িক দল নিবন্ধন পেতে পারে না। অথচ কাজেকর্মে ও বিশ্বাসে জামায়াত একটি সাম্প্রদায়িক দল। (৩) নিবন্ধন পাওয়া রাজনৈতিক দল ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গের কোনো বৈষম্য করতে পারবে না। কিন্তু জামায়াতের শীর্ষপদে কখনও কোনো নারী বা অমুসলিম যেতে পারবে না। (৪) কোনো দলের বিদেশে কোনো শাখা থাকতে পারবে না। অথচ জামায়াত বিদেশের একটি সংগঠনের শাখা। তারা স্বীকারই করে, তাদের জন্ম ভারতে; বিশ্বজুড়ে তাদের শাখা রয়েছে।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ঢাকা এসেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মওলানা আবুল আলা মওদুদীর পুত্র হায়দার ফারুক মওদুদী। সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি তখন বলেছিলেন, “যে দল বাংলাদেশের জন্মের বিরোধিতা করেছিল সে দলের এ দেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। সে দলকে রাজনীতি করতে দেওয়া উচিত নয়। জারজ সন্তানের যেমন পৈতৃক সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার থাকতে পারে না তেমনি বাংলাদেশেও জামায়াতের রাজনীতি করার নৈতিক বা সাংবিধানিক অধিকার থাকতে পারে না”।

তিনি আরো বলেছিলেন যে, “জামায়াতকে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই নিয়মিত টাকা দেয়। ধর্মের নামে গুণ্ডামি, বদমাইশি যেমন জায়েজ, আইএসআই-এর কাছ থেকে টাকা নেওয়াও জায়েজ বলে মনে করে জামায়াত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলও (বিএনপি) নিয়মিত আইএসআই-এর কাছ থেকে মাসোহারা নেয়া ছাড়াও বাংলাদেশে যেসব জঙ্গি মৌলবাদী দলগুলোর অস্তিত্ব আছে, বিএনপি তাদেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে।“

হায়দার ফারুক মোওদুদীর জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির ব্যাপারে দেয়া বক্তব্যে তখন দেশের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলে ব্যাপক আলোচনার ঝড় তুললেও সরকারের অন্দর মহল থেকে তেমন কোন আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি। সম্ভবত একারনেই অপরাধী সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচারের জন্য আজোবধি আইনও সংশোধিত হয়নি। পক্ষান্তরে আইন সংশোধনের নামে সময় ক্ষেপনের আড়ালে সারাদেশের প্রায় প্রতিটা জেলা, উপজেলা থেকে জামায়াত-শিবির-বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মীদের দলে দলে আওয়ামী লীগে যোগদানের খবর বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দেখা যাচ্ছে প্রায় প্রতিদিনই। ঠাট্রার ছলে অনেককে এই প্রক্রিয়াকে ‘জামায়াত শুদ্ধিকরণ অভিযান’ হিসেবেও আখ্যায়িত করতে শোনা যাচ্ছে।

আসলেই কি তাই? নাকি সরকার দল আওয়ামী লীগের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে জামায়াত-শিবির চক্র আরো দ্বিগুন শক্তিশালী হয়ে দেশে আরো বেশি সন্ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করার প্রয়াস পাচ্ছে! ২০১০ সালে সাংবাদিক ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা শাহরিয়ার কবিরের ‘জিহাদের প্রতিকৃতি’ নামের প্রামাণ্যচিত্রে জামায়াতের সঙ্গে মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘আরএসও’সহ রোহিঙ্গাদের ১৭ টি জঙ্গি মৌলবাদী সংগঠনের তৎপরতার বিস্তারিত বিবরণ তথ্যসহ তুলে ধরা হয়েছিল। প্রামাণ্যচিত্রে পাকিস্তানের আইএসআই-এর প্রত্যক্ষ মদদে এবং জামায়াতের সহযোগিতায় একটি আলাদা মুসলিম রাজ্য গঠনের নীল নকশার গোপন চিত্র শাহরিয়ার কবির জাতির সামনে তুলে ধরেছিলেন।

জোট সরকারের আমলে আমরা দেখেছি বাংলা ভাইয়ের বিভৎসতা! কী নারকীয় ভাবে গাছে ঝুলিয়ে মানুষ মেরেছে, জীবন্ত মানুষের চোখ তুলে ফেলেছিল তারা! চোরাগুপ্তা বোমা হামলায় বিচারপতি, সাংবাদিক, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ সহ সাধারণ মানুষ মেরেছিল তারা।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট কী বর্বরোচিতভাবে আর্জেস গ্রেনেড ছুঁড়ে জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা চালিয়েছিল ওরা। হামলায় আওয়ামী লীগের প্রায় ৬০ জনের মতো নেতা-কর্মী সেদিন মারা গিয়েছিল। বিভিন্ন তদন্তে বেরিয়ে এসেছিল ওই গণহত্যাকাণ্ডে বিএনপি-জামায়াতের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার কথা। শত শত হিন্দুর বাড়িঘরে, মন্দিরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল, হিন্দু মেয়েদের ধর্ষণ করেছিল তখন জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা। যে ১০ ট্রাক বেআইনি অস্ত্র ধরা পড়েছিল, তার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিলেন তদানীন্তন জোট সরকারের শিল্পমন্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী।

রমনার বটমূলে বোমা আক্রমণের কথাও কেউ ভুলে যায়নি! একযোগে ৬৪ জেলায় একই সময়ে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জামায়াতপুষ্ট জঙ্গিরা তো রীতিমত বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলেছিল।

খুব নিকট অতীতে আমরা পাঁচ জনের অধিক ব্লগার হত্যাকান্ড দেখেছি। দেখেছি দুইজন বিদেশী নাগরিককে হত্যা করতে। চিঠি পাঠিয়ে এবং তালিকা প্রকাশ করে দেশের বিভিন্ন বুদ্ধিজীবি, মন্ত্রী এবং ব্লগারদের হত্যার হুমকী দিতেও দেখছি ইদানিং। কয়েকদিন আগে শিয়া মুসলিমদের আশুরা-পদযাত্রায় বোমা মেরে একজনকে হত্যা ছাড়াও শতাধিক আহত করতে দেখেছি। এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের দায় নিচ্ছে কখনো আনসারুল্লাহ বাংলাটিম, কখনো আল-কায়েদা, আবার কখনো বা ইসলামিক স্টেট (আইএস) নামের আন্তর্জাতিক জঙ্গী-সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো।

এদিকে সরকার বলছে, বাংলাদেশে এইসব জঙ্গী সংগঠনের কোন সাংগঠনিক অস্তিত্ব বা কর্মতৎপরতা নেই। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, কারা এসব সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে বাংলাদেশে?

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের বাংলাদেশি শাখা। এটির সূচনা হয়েছিল উপমহাদেশের বিতর্কিত ধর্মীয় রাজনীতিক আবুল আলা মওদুদীর নেতৃত্বে, ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট। তখন এর নাম ছিল জামায়াতে ইসলামী, হিন্দ। বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী শুধু বাংলাদেশে নয়, মিশর ও উত্তর আফ্রিকার মুসলিম ব্রাদারহুড এবং আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের তালেবান ও আল কায়েদার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জঙ্গি মৌলবাদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করেছে।

জামায়াতে ইসলামী এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের এক ও অভিন্ন দর্শন হচ্ছে, ‘ধর্মের নামে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যে কোনো ধরনের হত্যা, নির্যাতন ও সন্ত্রাস ইসলামসম্মত।’ মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি সন্ত্রাসী জঙ্গি সংগঠন, যার বলয় মিসর পেরিয়ে সারাবিশ্বেই বিস্তৃত। নামে ভিন্নতা থাকলেও আদর্শগত মিলের কারণে আল কায়েদা, আইএস, আনসারুল্লাহ, মুজাহিদিন, ব্রাদার হুড নামের বিশ্বের তাবৎ জঙ্গি-মৌলবাদী সংগঠনগুলোর সাথেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্ক বিদ্যমান।

রাজনৈতিক মাঠে জামায়াতকে রেখে বাংলাদেশের মাটি থেকে জঙ্গি-মৌলবাদ উৎপাটন অকল্পনীয় এবং হাস্যকর। সরকারি দলগুলোর ভিতরে ঘাঁপটি মেরে থাকা জামায়াতের নেতাকর্মী এবং পেইড এজেন্টরা এসরকারের উন্নয়নমূলক প্রতিটি কাজেই শুধু বাঁধা দেবে না, সেই সাথে চলমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করতে বাঁধা দিতে প্রয়োজনে বাংলার মাটিতে রক্তবন্যা বইয়ে দেবে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিটি রায়েই একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধী দল হিসেবে জামায়াতের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার কথা ট্রাইব্যুনাল সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে। অথচ কোনো এক অদৃশ্য কারণে সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াত নিষিদ্ধের ব্যাপারে বরাবরের মতোই চুপ থাকা হচ্ছে।

উন্নয়নশীল বাংলাদেশকে স্থবির করতে এবং পাকিস্তান আদলে একটি সন্ত্রাসী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করতে জামায়াত ইসলামী একের পর এক সন্ত্রাসী তৎপরতা ঘটিয়ে যাচ্ছে, যার ভবিষ্যত পরিণতি হবে আরো ভয়াবহ। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের মত বরাবরের মত সব ঘটনার দায়ই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের উপর চাপানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকারের করণীয় কি হওয়া উচিত তা এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং বাংলার মাটি থেকে জামায়াত উৎপাটনের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সন্ত্রাস দমনে এর বিকল্প নেই।

মানবতাবিরোধী অপরাধে ব্যক্তির বিচার করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অপরাধের প্ররোচকেরও বিচার করতে হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালেও যুদ্ধাপরাধী নাৎসীদের পাশাপাশি হিটলারের নাৎসী সংগঠনেরও বিচার হয়েছিল এবং সারা ইউরোপে ছাড়াও বিশ্বের সর্বত্র এই সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে খুনির সঙ্গে খুনের হুকুমের আসামীরও বিচার করার কথা এবং এটাই নিয়ম ও আইনের সিদ্ধান্ত। অন্যথায় অপরিপূর্ণ বিচারের সাথে আইনের শাসনেরও মারাত্নক বরখেলাপ হবে বলে ধরে নেয়া যেতে পারে। বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এবং গণতন্ত্র সুসংহত করার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা ছাড়া কোন গত্যন্তর নাই। এর ব্যত্যয় হলে শুধু স্বাধীনতার পক্ষ শক্তিকেই নয়, সারাদেশের জণগণকেই চরম মূল্য দিতে হবে।

সাব্বির খান: সুইডেন প্রবাসী বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও সাংবাদিক 
[email protected]

 

আরও পড়ুন