ইতালির নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তারদের মধ্যে তিনজনকে ৮ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। অন্যজন ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তার রিমান্ড চাওয়া হয়নি।
গ্রেপ্তার চারজনকে সোমবার দুপুরে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক জিহাদ হোসেন। তদন্তের স্বার্থে তিনজনের প্রত্যেককে দশদিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানান তিনি। শুনানি শেষে প্রত্যেকের আটদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমানের আদালত।
রিমান্ড মঞ্জুর করা তিনজন হলেন- দুই সন্দেহভাজন হত্যাকারী ভাগ্নে রাসেল ওরফে কালা রাসেল ও চাকতি রাসেল এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল মালিক শাখাওয়াত হোসেন শরিফ। সন্দেহভাজন অপর হত্যাকারী শ্যুটার রুবেলের রিমান্ড চাওয়া হয়নি।
রোববার দিনগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাভেল্লা হত্যায় ব্যবহৃত সাদা ও সোনালী রঙের এফজেডএস মডেলের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
চাকতি রাসেলকে গুলশান, ভাগ্নে রাসেলকে বাড্ডার সাঁতারকুল, রুবেল ও শাখাওয়াত হোসেন শরিফকে বাড্ডা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শরিফের। এটি শরিফের মধ্যবাড্ডার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়।
দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া জানান, সরকারকে চাপে ফেলতে কথিত বড় ভাইয়ের নির্দেশে হত্যা করেন গ্রেপ্তার চাকতি রাসেল, ভাগ্নে রাসেল ও রুবেল।
কথিত বড় ভাই সম্পর্কে তিনি বলেন, ওই বড় ভাই একটি রাজনৈতিক দলের নেতা। বড় ভাই তাদের হত্যার জন্য ভাড়াটে খুনি হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, বিদেশি নাগরিক হত্যা করতে পারলে সরকার চাপে পড়বে।
এদিকে শুটার রুবেলের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত সাতদিন ধরে তামজিদ রুবেল ওরফে শুটার রুবেল নিখোঁজ রয়েছেন। এরই মধ্যে রোববার রাতে তাকে আটক করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানাল ডিবি পুলিশ।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান-২ এর ৯০ নম্বর সড়কে দুবৃর্ত্তদের গুলিতে নিহত হন ইতালিয়ান নাগরিক ও নেদারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিসিওবিডির কর্মকর্তা তাভেল্লা সিজার।


