শক্তিশালী ভূমিকম্প দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ আফগানিস্তান, ভারত ও পাকিস্তানে আঘাত হেনেছে। বাংলাদেশেও ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে। এটি ছিল ৭ দশমিক ৫ মাত্রার। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দপ্তরের (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় ৩টা ৯ মিনিটে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের জারম থেকে ৪৮ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ পশ্চিমে, ভূপৃষ্ঠের ২১২ কিলোমিটার গভীরে। ওই এলাকার কাছেই পাকিস্তান ও তাজিকিস্তানের সীমান্ত। এই তিনটি দেশে সবমিলিয়ে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
বিস্তৃত এলাকার টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পেতে দেরি হচ্ছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ কারছেন আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে হওয়ায় দেশটিতে ও পার্শ্ববর্তী পাকিস্তানে হতাহতের ঘটনা বেশি ঘটেছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে সোমবার রাত নয়টায় সর্বশেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত ১৮০ ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটেছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারতের দিল্লি, কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবেও শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর পর লোকজন ভবন ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। ভূমিকম্পের সময় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দিল্লির মেট্রো সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভূমিকম্পের কারণে জম্মু-কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে টেলিফোন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে ভূমিকম্পে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আফগানিস্তানে মোট ৩৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের প্রাদেশিক প্রধান আবদুল রাজ্জাক জিনদার বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের মধ্যে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় তালোকান শহরের একটি স্কুল থেকে হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মৃত্যু হয় ১২ ছাত্রীর।
এর পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলীয় নাগরহার প্রদেশে সাতজন, নূরিস্তানে দুজন এবং কুনার প্রদেশে তিনজন, বাদাখশানে নয়জন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
ভূমিকম্পে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ভয়ানকভাবে কেঁপে উঠলেও সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আফগান সীমান্তবর্তী জেলাগুলো। এসব জায়গায় সন্ধ্যা নাগাদ মোট ১০২ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে।
উত্তরের দুর্গম এলাকায় ২৮ জন এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গিলগিট-বালতিস্তানে আরও ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
করিমাবাদ শহরের বাসিন্দা আনাসকে উদ্ধৃত করে বিবিসির খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পের ফলে ভূমিধস সৃষ্টি হয়ে হুনজা নদীতে গিয়ে পড়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল থেকে ২৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে হিন্দুকুশ অঞ্চলের ২১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরে। এটির স্থায়িত্ব ছিল প্রায় ৪০ সেকেন্ড। আর বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটা ৯ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে ভূ-কম্পনটি অনুভূত হয়।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে জানানো হয়, ভূমিকম্পে আফগানিস্তানে কমপক্ষে ৩৩ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও কয়েক শ জন।
পাকিস্তানে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে হাজারেরও বেশি মানুষ। বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
এদিকে,পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক ডন-এর অনলাইন সংস্করণের খবরে জানানো হয়,পাকিস্তানের প্রধান প্রধান নগরসহ দেশটির উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী এ ভূমিকম্পের আঘাতে অনেক বাড়িঘর ও ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।
সাড়ে সাত মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে। ভূমিকম্পে তাই দেশটিতে বেশ ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।


