পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সাত দশমিক পাঁচ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশ দু’টিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩শ’ ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, ভূমিকম্পে পাকিস্তানে ২শ’ ৫৩ ও আফগানিস্তানে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৮২ জন। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে উদ্ধার তৎপরতা।
ভূমিকম্পের খবর পেয়ে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ তার ব্রিটেন সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন। এ অবস্থায় পাকিস্তানকে জরুরি সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র।
ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে স্থির থাকতে না পেরে সংবাদ পড়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন কাবুলের স্থানীয় এক টিভি চ্যানেলের সংবাদ পাঠক। সোমবার দুপুরের দিকে এ ভূকম্পনের উৎপত্তিস্থল পাক সীমান্তবর্তী আফগানিস্তানের হিন্দু কুশ এলাকা হলেও; এর প্রভাবে কেঁপে ওঠে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ। আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে ভূমিধ্বসের পাশাপাশি বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। কয়েকজন স্কুল শিক্ষার্থীসহ হতাহত হয় বহু মানুষ। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘ভূমিকম্প টের পেয়েই দ্রুত ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়ি। অমনি দেখলাম ঘরের একটি অংশ ধসে পড়লো।’
ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে হতাহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে। প্রদেশের বিভিন্ন শহরে চিকিৎসা নিচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। এ অবস্থায় ভুক্তভোগীদের যথাযথ সহযোগিতার নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি, তাদের জন্য অস্থায়ী ক্যাম্প নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। তাকে ফোন দিয়ে ভূমিকম্পের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সঙ্গে তিনি পাকিস্তান চাইলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
একইভাবে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে সহযোগিতায় দেয়ার বিষয়ে প্রস্তুত থাকার কথা জানায় হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউস মুখপাত্র জশ আর্নেস্ট বলেন, ‘আমরা পাকিস্তানি ও আফগানদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছি। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় দেশ দু’টির সরকার চাইলে আমরা যে কোনো ধরনের সহায়তা দেব।’
এদিকে, ভারতের নয়াদিল্লি ও জম্মু কাশ্মীরেও ভূমিকম্পের প্রভাবে বেশকিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও চীনের কয়েকটি স্থানেও ভূকম্পন অনুভূত হয়। তবে এসব দেশে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।


