বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

তুমি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন চাওয়ার কে?

tofayelচলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে আগাম নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান জানানোয় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশকে বিএনপির ‘অঙ্গ সংগঠন’ বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ। বলেন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, তুমি গবেষণা কর। নির্বাচন চাওয়ার কে? টিআইবির উদ্দেশ্যে এমন প্রশ্ন ছুড়ে নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী ২০১৯ সালেই হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন ক্ষমতাসীন দলের এই প্রভাবশালী নেতা।

বিএনপিবিহীন দশম সংসদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে টিআইবি দুদিন আগে তাদের পার্লামেন্ট ওয়াচ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে কার্যকর সংসদের জন্য আরেকটি নির্বাচনের পক্ষে মত জানানো হয়। ওই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় বাণিজ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

তোফায়েল বলেন, “সংসদের এটা খারাপ, ৩২ কোটি টাকা খরচ হইছে, বিএনপির এতবার নাম উচ্চারিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নাম এতবার উচ্চারিত হয়েছে। সব ঠিক আছে। কিন্তু উপসংহার কী? শেষে বলে দিল, নির্বাচনই এর একমাত্র সমাধান। টিআইবি একটা রাজনৈতিক দল নয়। তারা যখনই নির্বাচন চাইল, তখনই উপলব্ধি করতে হবে, টিআইবি হল বিএনপির একটা অঙ্গ সংগঠন।”

গত বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি।

বিএনপিবিহীন দশম সংসদ কার্যকর বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের ভুবনে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

টিআইবির গবেষণা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “তারা বলেছে, কোরাম সঙ্কটে ৩২ কোটি টাকা, দেখিনি। আগে বিরোধী দল আসত না, এখন বিরোধী দল আসে। কোরাম সঙ্কট কোথা থেকে পাইলেন? কত হাজারবার কে কার নাম নিয়েছে, এটা কোথা থেকে পাইলেন? আর এগুলো কোনো গবেষণা হইল না কি? অনেকে তাদের টাকা কোথা থেকে আসে- সেই প্রশ্নও করে। আমি সেগুলো বলতে চাই না।”

সরকারের অনেক অর্জনও টিআইবির চোখে ধরা পড়ে না মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, “আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রশংসামূলক কোনো প্রতিবেদন দেখিনি। আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশ করেছি। উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হচ্ছি। নাইরোবিতে ওবামা পর্যন্ত বাংলাদেশের তারিফ করে। টিআইবির মুখে কোনো তারিফ নাই।”

বাংলাদেশে বিদেশি হত্যাকাণ্ড, শিয়াদের তাজিয়া মিছিলে হামলার সময়ে টিআইবির এই প্রতিবেদন প্রকাশকে সন্দেহের চোখে দেখছেন মন্ত্রী। তবে এসব ঘটনায় সরকার অস্বস্তিতে বা বেকায়দায় নেই বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, আমরা মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী। কারণ বিদেশি হত্যার অপরাধীদেরকে পাওয়া গেছে। এখন জাতি প্রকৃত সত্য জানতে পারবে।

কূটনীতিকদের অতি রিঅ্যাকশন দেখাতে না করেছি
দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার বিষয়ে মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নবনিযুক্ত শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত ইয়াসোজা গুনাসেকারার সঙ্গে বৈঠকের পরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমি কূটনীতিকদের এ বিষয়ে অতি রিঅ্যাকশন দেখাতে না করেছি। কারণ, এতে দুষ্কৃতকারীরা উৎসাহিত হয়। তারা মনে করে, বিদেশি মারলে বেশি খবর প্রকাশিত হয়।।

তোফায়েল বলেন, ‘আইএস বলে কিছু নেই। কাজগুলো করেছে জামাত-শিবিরের লোক। আন্দোলন ও জঙ্গি হামলা চালিয়ে কিছু করতে না পেরে তারা বিদেশি নাগরিকদের হত্যা করেছে। ইতালি ও জাপানের নাগরিককে হত্যা, তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিতে বোমা হামলা এগুলো একসূত্রেই গাঁথা।’

আরও পড়ুন