বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকা-কলকাতা ফুটবলযুদ্ধ আজ

3_343591গ্রুপপর্বে আফগানিস্তানের স্পিন ঘর বাজানের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করা ঢাকা মোহামেডান শ্রীলংকার সলিড এফসিকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দেয়। এরপর কলকাতা মোহামেডানকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে শেষ চারে ওঠে ঢাকা মোহামেডান। আজ দ্বিতীয় সোমিফাইনালে কলকাতা ইস্টবেঙ্গলের বিপক্ষে নিজেদের নিংড়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন ঢাকা মোহামেডানের অধিনায়ক অরূপ বৈদ্য। ‘আমাদের লক্ষ্য ফাইনালে খেলা। চোটের কারণে আমাদের শক্তি কিছুটা কমেছে। মনোবল দিয়ে সেটা উতরে যেতে চাই’, বলেছেন বৈদ্য। অন্যদিকে ঢাকা মোহামেডানের ঠিক উল্টো মেরুতে ইস্টবেঙ্গল। দলে কোনো চোট সমস্যা নেই। এ আসরে সবচেয়ে ধারাবাহিক ফুটবলও খেলছে ভারতের আইএস লীগের তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা। গোলরক্ষক দিবেন্দু সরকারের দৃঢ়তায় গ্র“প চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে মাত্র দুটি গোল খেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। দলটির রক্ষণও বেশ জমাট। প্রহ্লাদ রায়, সুবোধ কুমার, মোহাম্মদ রফিকরা বুঝতে দিচ্ছেন না ইন্ডিয়ান সুপার লীগে খেলা সেরা ১৪ ফুটবলার ছাড়াই বাংলাদেশে এসেছে দলটি। ইস্টবেঙ্গল কোচ বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেছেন, ‘লক্ষ্য পূরণের খুব কাছে চলে এসেছি। একটা দল হিসেবে ভালো করতে এখানে এসেছি আমরা।

চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে আজ সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ঢাকা মোহামেডান ও কলকাতা ইস্টবেঙ্গল। এ সেমিফাইনাল শুধু ক্লাবের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। রূপ নিচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশ লড়াইয়ে! চোটজর্জর দল নিয়ে ঢাকা মোহামেডান অধিনায়ক অরূপ বৈদ্য জানালেন, ‘অদম্য মনোবল দিয়ে লড়াইয়ে জিতে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের ফাইনালে উঠতে চাই। এটা এখন শুধু ঢাকা মোহামেডান-ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ নয়, বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ হয়ে গেছে। আমরা দেশের জন্য খেলব।’

ঢাকা মোহামেডানের চাওয়া পূরণের পথ কঠিন করে তুলেছে ইনজুরি ও অসুখ-বিসুখ। জ্বর নিয়ে চট্টগ্রামে আসা ফরোয়ার্ড জুয়েল রানা জন্ডিস নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। সলিডের বিপক্ষে পাওয়া চোটে মিডফিল্ডার সোহেল রানার মাথায় সেলাই পড়েছে ১২টি। আরেক মিডফিল্ডার বিপলু আহমেদের চোখে সংক্রমণ। সেরাদের নিয়ে শুরুর একাদশ দাঁড় করানোই কোচ জসিম উদ্দিন জোসির জন্য মহাকঠিন কাজ। তবে এত প্রতিকূলতা জয়ের লক্ষ্য সংবাদ সম্মেলনেই জানিয়েছিলেন তিনি, ‘খেলোয়াড়রা মানুষ, মেশিন নয়। তবে মরার আগে আমরা মরতে চাই না। জেতার জন্যই খেলব।’

রক্ষণের দুর্বলতা আর ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতাও ভাবাচ্ছে ঢাকা মোহামেডানকে। স্পিন ঘর বাজানের কাছে হেরে যাওয়া ম্যাচে নাবীব নেওয়াজ জীবন গোলের একাধিক সুযোগ নষ্ট করেন। ওই ম্যাচে ডিফেন্ডার ইওন্টা মিচেলের হাস্যকর ভুলেই হেরে যাওয়া গোলটি হজম করে তারা। ঢাকা মোহামেডান অধিনায়ক অরূপ অবশ্য সলিডের বিপক্ষের ম্যাচ থেকে অনুপ্রেরণা নিচ্ছেন।

ওই ম্যাচের উদাহরণ টেনে বললেন, ‘নির্দিষ্ট কারও (ফরোয়ার্ড) কাছে আমাদের চাওয়া নেই। সলিডের বিপক্ষে ম্যাচের মতো যেই সুযোগ পাবে, তাকেই কাজে লাগাতে হবে।’ এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে ইস্টবেঙ্গল এবং ঢাকা মোহামেডান অনুশীলন করেছে। দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে অনুশীলন করে ইস্টবেঙ্গল আর বন্দর মাঠে ঢাকা মোহামেডান। অনুশীলনের ফাঁকে কথা হয় ইস্টবেঙ্গল কোচ বিশ্বজিত ভট্টাচার্যের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণের খুব কাছে এসে গেছি। এখন ছেলেরা একটু সহযোগিতা করলেই হয়। সবদিক দিয়ে আমরা এখন প্রস্তুত। সেমিতে জয় নিয়ে ফাইনাল খেলব।’

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম

আরও পড়ুন